আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভারতে অনুষ্ঠিতব্য দুটি বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তা করছে। দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির কারণে অস্ট্রেলিয়াকে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করার খবর পাওয়া গেছে। মূলত বৈশ্বিক আসরগুলোতে রাজনৈতিক কারণে টুর্নামেন্টের মান ও অংশগ্রহণ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করছে আইসিসি।
ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাব্য কারণসমূহ
অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম সিডনি মর্নিং হেরাল্ড-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ভবিষ্যতে বড় ধরনের কোনো বিভ্রাট এড়াতে ভারতের আয়োজক স্বত্ব পুনর্বিবেচনা করছেন। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ কাজ করছে:
১. বাংলাদেশের অবস্থান: ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়। আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত এই বিশ্ব আসর থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।
২. পাকিস্তান সরকারের কঠোর অবস্থান: ভারত-পাকিস্তান রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে পাকিস্তান সরকার ভারতের মাটিতে তাদের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিলে আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ও কৌশলগত সংকটে পড়ে।
৩. আঞ্চলিক অস্থিরতা: দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক জটিলতা মেগা ইভেন্টগুলোর সফল আয়োজনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিকল্পনায় থাকা টুর্নামেন্ট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা
আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজক স্বত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবছে। উল্লেখ্য যে, ২০৩১ সালের বিশ্বকাপে ভারতের সাথে সহ-আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশের নাম থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুরো চিত্রটি বদলে যেতে পারে।
আইসিসির সম্ভাব্য বিকল্প পরিকল্পনা ও ভেন্যু তালিকা:
| টুর্নামেন্টের নাম | নির্ধারিত সাল | বর্তমান স্বাগতিক দেশ | বিকল্প ভাবনা ও মন্তব্য |
| টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ | ২০২৮ | অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড | পূর্বনির্ধারিত অনুযায়ী অপরিবর্তিত। |
| চ্যাম্পিয়নস ট্রফি | ২০২৯ | ভারত | অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা। |
| ওয়ানডে বিশ্বকাপ | ২০৩১ | ভারত ও বাংলাদেশ | রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সাপেক্ষে ভেন্যু নির্ধারণ। |
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও আইসিসির ভূমিকা
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা কাটাতে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানকে লাহোর পর্যন্ত সফর করতে হয়েছে। দীর্ঘ অনানুষ্ঠানিক আলোচনার পর পাকিস্তান তাদের অবস্থান পরিবর্তন করলে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় হাই-ভোল্টেজ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। যদিও ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তবে প্রতিবার এমন স্নায়ুযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাওয়া বড় আসরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ক্রিকেটের বাণিজ্যিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ভারত গত এক দশকে অধিকাংশ বড় টুর্নামেন্টের আয়োজক স্বত্ব পেলেও, এখন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। আইসিসি মনে করে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বমানের স্টেডিয়াম সুবিধা থাকায় সেখানে বড় আসরগুলো অনেক বেশি নিরাপদ। ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটি সফল হলে পরবর্তী টুর্নামেন্টগুলো স্থায়ীভাবে সেখানে স্থানান্তর করার পথ প্রশস্ত হবে।
সব মিলিয়ে, ক্রিকেটের বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখন এমন একটি দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজছে যেখানে মাঠের ক্রিকেট মাঠেই থাকবে এবং রাজনৈতিক প্রভাব টুর্নামেন্টের সূচিতে কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না।
![ভারত থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে আইসিসি 1 ভারত থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে আইসিসি Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/02/ভারত-থেকে-টুর্নামেন্ট-সরিয়ে-নেওয়ার-কথা-ভাবছে-আইসিসি.jpg)