পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি ভারতের বিপক্ষে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে, তবে এর পেছনের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘোষণার পরপরই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) পাকিস্তানকে সতর্ক করেছে যে, এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেটের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) উচিত সমাধান খুঁজে পারস্পরিক স্বার্থ বজায় রাখা।
আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পিসিবি থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বার্তা পাইনি। আন্তর্জাতিক কোনো টুর্নামেন্টের কোনো নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশ না নেওয়া মূল কাঠামোর সঙ্গে খাপ খায় না। বিশ্বব্যাপী ক্রীড়ার মূল ভিত্তি হলো- সব যোগ্য দল সমান শর্তে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলবে। কোনো দল বাছাই করা ম্যাচে না খেললে প্রতিযোগিতার সততা ও ন্যায্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।”
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং এটি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে লাভজনক গ্রুপ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত। আইসিসি জানিয়েছে, “সরকারগুলোর নীতিগত সিদ্ধান্তকে আমরা সম্মান করি, কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের স্বার্থের পরিপন্থী।”
পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে ইতিমধ্যেই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ২৪ জানুয়ারি আইসিসি তাদের বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেয়। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি তখন অভিযোগ করেন, আইসিসি ভারতের পক্ষে দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করছে এবং পাকিস্তানের চূড়ান্ত অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে রয়েছে।
২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজন করছে। গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষরা হলো: ভারত, নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান তাদের সকল ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৭ ফেব্রুয়ারি | নেদারল্যান্ডস | খেলার জন্য নিশ্চিত | উদ্বোধনী ম্যাচ |
| ১০ ফেব্রুয়ারি | যুক্তরাষ্ট্র | খেলার জন্য নিশ্চিত | দ্বিতীয় ম্যাচ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | ভারত | অনিশ্চিত | বয়কটের সম্ভাবনা |
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | নামিবিয়া | খেলার জন্য নিশ্চিত | শেষ গ্রুপ ম্যাচ |
আইসিসি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দুই পয়েন্ট হারাবে এবং নেট রানরেটও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কোনো দলের অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে পূর্ণ ২০ ওভারের নেট রানরেট হিসাব করা হবে, তবে প্রতিপক্ষ দলের নেট রানরেটে কোনো প্রভাব পড়বে না।
আইসিসি আরও সতর্ক করেছে, “পাকিস্তান ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ ও বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এর প্রভাব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।” এই বিবৃতির মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ভারত ম্যাচ বয়কট পাকিস্তানের জন্য কেবল অস্থায়ী ক্ষতি নয়, বরং তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অবস্থান ও নীতিগত বিশ্বাসের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
![ভারতের বিপক্ষে খেলায় অংশ না নিলে পাকিস্তানকে সতর্ক করল আইসিসি 1 ভারতের বিপক্ষে খেলায় অংশ না নিলে পাকিস্তানকে সতর্ক করল আইসিসি Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/02/ভারতের-বিপক্ষে-খেলায়-অংশ-না-নিলে-পাকিস্তানকে-সতর্ক-করল-আইসিসি.png)