দীর্ঘদিনের অদ্ভুত এক দুর্ভাগ্যের অবসান ঘটাল মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। টানা তেরো মৌসুম ধরে আসরের প্রথম ম্যাচে জয়হীন থাকার যে মানসিক চাপ দলটিকে পিছু ছাড়ছিল না, অবশেষে তা কাটল এবারের আসরে। রোববার রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ছয় উইকেটের জয়ে নতুন সূচনা করল তারা।
এই জয়ের নেপথ্যের নায়ক নিঃসন্দেহে রোহিত শর্মা। বয়স বাড়লেও তাঁর ব্যাট যেন আরও তরুণ হয়ে উঠছে। আধুনিক মারকাটারি ব্যাটিংয়ের যুগে যেখানে দ্রুত পঞ্চাশ করা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত, সেখানে এতদিন নিজের পঞ্চাশগুলোর কোনোটিই পঁচিশ বলের কমে করতে পারেননি রোহিত। কিন্তু এদিন সেই অপূর্ণতা দূর করলেন দুর্দান্ত ভঙ্গিতে।
কলকাতার দেওয়া ২২১ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রোহিত খেলেন ৩৮ বলে ঝড়ো ৭৮ রানের ইনিংস। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ছয়টি চার ও ছয়টি ছক্কা। মাত্র ২৩ বলে পঞ্চাশ পূর্ণ করে তিনি গড়েন নিজের আইপিএল ক্যারিয়ারের দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড। এর আগে তাঁর দ্রুততম পঞ্চাশ ছিল ২০১৫ সালের ফাইনালে, যেখানে তিনি ২৫ বলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন।
এই ইনিংস শুধু একটি ব্যক্তিগত রেকর্ডই নয়, বরং দলের ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত। আইপিএলের প্রথম ম্যাচে এর আগে মাত্র একবারই পঞ্চাশের দেখা পেয়েছিলেন রোহিত—সেটিও ছিল কলকাতার বিপক্ষে, যখন তিনি করেছিলেন ৯৮ রান। ফলে আবারও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
রোহিতের সামগ্রিক আইপিএল পরিসংখ্যানও ক্রমেই সমৃদ্ধ হচ্ছে। এই ম্যাচের পর তাঁর মোট অর্ধশতকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮-এ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাঁর ব্যাটিংয়ে পরিবর্তনও স্পষ্ট। ২০২২ মৌসুমে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ১২০.১৭, যা ২০২৩-এ বেড়ে হয় ১৩২.৮। পরবর্তী দুই মৌসুমে তিনি আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, যেখানে তাঁর স্ট্রাইক রেট যথাক্রমে প্রায় ১৫০-এর কাছাকাছি ছিল।
নিচের সারণিতে রোহিতের সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোর ব্যাটিং ধারার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো—
| মৌসুম | স্ট্রাইক রেট | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|---|
| ২০২২ | ১২০.১৭ | তুলনামূলক ধীর |
| ২০২৩ | ১৩২.৮ | উন্নতির ধারা |
| ২০২৪ | প্রায় ১৫০ | আক্রমণাত্মক |
| ২০২৫ | ১৪৯.২৮ | ধারাবাহিক ঝড়ো ব্যাটিং |
| ২০২৬ (প্রথম ম্যাচ) | ২০০-এর বেশি | বিস্ফোরক সূচনা |
আগামী ৩০ এপ্রিল ৩৯ বছরে পা দিতে যাওয়া এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলছেন। তাঁর সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স শুধু মুম্বাইয়ের জন্য আশার আলোই নয়, বরং প্রমাণ করে—অভিজ্ঞতা আর দক্ষতার মেলবন্ধন থাকলে বয়স কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায় না।
