বিসিএল ওয়ানডে: সাইফ-নাঈমের ব্যাটে মধ্যাঞ্চলের রাজকীয় শিরোপা জয়

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে ফরম্যাটে রাজকীয় জয় পেয়েছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। মঙ্গলবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে উত্তরাঞ্চলকে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে দলটি। নাঈম শেখ ও সাইফ হাসানের অনবদ্য ব্যাটিং নৈপুণ্যে উত্তরাঞ্চলের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্যটি মধ্যাঞ্চল পেরিয়ে যায় ১২ ওভার হাতে রেখেই। এটি বিসিএল ওয়ানডে ফরম্যাটে মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় শিরোপা জয়।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও ইনিংস বিশ্লেষণ

টস জিতে উত্তরাঞ্চলকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় মধ্যাঞ্চল। অসুস্থতার কারণে দলের সেরা তারকা লিটন দাসকে ছাড়াই মাঠে নামতে হয় বিসিবি উত্তরাঞ্চলকে। ব্যাটিংয়ে নেমে একমাত্র তাওহিদ হৃদয় ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার থিতু হতে পারেননি। হৃদয় যখন ৯৬ রানে অপরাজিত থেকে সেঞ্চুরির স্বপ্ন দেখছেন, ঠিক তখনই ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থেকে আউট হন তিনি। তার ৯৮ বলের ইনিংসে ছিল ৮টি চার ও ১টি নান্দনিক ছক্কা। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৫ রান করলেও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। মধ্যাঞ্চলের বোলারদের মধ্যে রিপন মণ্ডল ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

উত্তরাঞ্চলের দেওয়া ২৩৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল মধ্যাঞ্চল। তবে দ্বিতীয় উইকেটে মোহাম্মদ নাঈম ও সাইফ হাসানের ১৪৪ রানের মহাকাব্যিক জুটি ম্যাচটিকে একপেশে করে তোলে। নাঈম শেখ ৮৭ বলে ৭৮ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে সাইফ হাসান আরও আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলে ৭৮ বলে ৮৭ রান সংগ্রহ করেন। যদিও দুজনই ফিফটি করে আউট হয়ে যান, তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত শক্ত হয়ে যায়। ৩৮তম ওভারে তানজিদ হাসানের করা ওয়াইড বলটি বাউন্ডারি সীমানা স্পর্শ করলে উৎসব শুরু হয় মধ্যাঞ্চল শিবিরে।

বিসিএল ওয়ানডে ফাইনাল: একনজরে সংক্ষিপ্ত স্কোর

বিভাগরান/উইকেট (ওভার)শীর্ষ পারফর্মারবোলিং পারফরম্যান্স
উত্তরাঞ্চল২৩৮/১০ (৪৯.৩ ওভার)তাওহিদ হৃদয় (৯৬)রিপন মণ্ডল (৪/৪১)
মধ্যাঞ্চল২৩৯/৫ (৩৮.০ ওভার)সাইফ হাসান (৮৭), নাঈম (৭৮)নাহিদ রানা (২/৬১)
ফলাফলমধ্যাঞ্চল ৫ উইকেটে জয়ীম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাইফ হাসানশিরোপা: মধ্যাঞ্চল

জাতীয় দলের প্রস্তুতি ও বিসিবি’র পরিকল্পনা

আসন্ন ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সামনে রেখে এই বিসিএলকে মূল প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। চলতি বছর বাংলাদেশ দলকে সব মিলিয়ে ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে হবে। আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে প্রতিটি জয়ই এখন গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবি’র নির্বাচকদের নজর ছিল বিশেষ করে ওপেনার নাঈম শেখ এবং মিডল অর্ডারে হৃদয়ের ফর্মের দিকে। যদিও মিরপুরের গ্যালারি ছিল অনেকটা দর্শকশূন্য, তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ ছিল চোখে পড়ার মতো। দিবা-রাত্রির কন্ডিশনে মিরপুরে খেলোয়াড়দের অভ্যস্ত করার লক্ষ্যেই ফাইনালটি এখানে আয়োজন করা হয়েছিল।

উদীয়মান তারকাদের দাপট

এই টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রাপ্তি তরুণ পেসার রিপন মণ্ডলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তাওহিদ হৃদয়ের ধারাবাহিকতা। প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরি করার পর ফাইনালে ৯৬ রানের ইনিংস খেলে হৃদয় প্রমাণ করেছেন তিনি জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ ৫৬ রানে ২ উইকেট নিলেও তরুণদের দাপট ছিল বেশি উজ্জ্বল।

বিসিএল ওয়ানডের এই পঞ্চম আসরটি শেষ হওয়ার মাধ্যমে এখন সবার দৃষ্টি পাকিস্তান সিরিজের দিকে। মধ্যাঞ্চলের ব্যাটারদের এই ফর্ম জাতীয় দলের নির্বাচকদের জন্য সুখবর বয়ে আনবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment