আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আজ প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে জানিয়েছেন, পাকিস্তান এই বিশ্বমঞ্চে খেলবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে আগামী শুক্রবার অথবা সোমবার। মূলত বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আইসিসি গুরুত্ব না দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদেই পাকিস্তান এই কঠোর অবস্থানের কথা ভাবছে।
সংকটের মূল কারণ ও আইসিসির অবস্থান
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ভারত ও শ্রীলঙ্কায় আয়োজিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি তুললে ২১ জানুয়ারি আইসিসি তা নাকচ করে দেয়। এর ধারাবাহিকতায় গত শনিবার আইসিসি বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে তাদের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য’ আখ্যা দিয়ে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
পাকিস্তান-আইসিসি দ্বন্দ্বের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত প্রেক্ষাপট |
| আইসিসির পদক্ষেপ | বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা। |
| পিসিবির দাবি | চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের জন্য বিকল্প ভেন্যু থাকলে বাংলাদেশের জন্য কেন নয়? |
| প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ | সব ধরণের বিকল্প পথ খোলা রেখে বিষয়টি সমাধান করা। |
| সম্ভাব্য পদক্ষেপ | বিশ্বকাপ বর্জন অথবা কেবল ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন। |
| আর্থিক প্রভাব | অংশগ্রহণ ফি বাবদ পাকিস্তানের ক্ষতি, কিন্তু ভারতের বাণিজ্যিক ক্ষতি হবে ব্যাপক। |
| সময়সীমা | ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) বা ২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। |
প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক ও ‘হাইব্রিড মডেল’ বিতর্ক
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আজকের বৈঠকে মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে আইসিসির দ্বিমুখী আচরণের প্রমাণ উপস্থাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারত পাকিস্তানে খেলতে যেতে রাজি না হওয়ায় আইসিসি তাদের জন্য ‘হাইব্রিড মডেল’ বা বিকল্প ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিল। অথচ বাংলাদেশের নিরাপত্তা উদ্বেগের ক্ষেত্রে কেন একই ধরণের ছাড় দেওয়া হলো না এবং কেন তাদের সরাসরি টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হলো—এই প্রশ্নটি জোরালোভাবে তুলেছে পাকিস্তান।
বৈঠক শেষে নাকভি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ জানান, প্রধানমন্ত্রী সবদিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখন বৈশ্বিক পর্যায়ে এই বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে।
আর্থিক ও বাণিজ্যিক সমীকরণ
পিসিবি প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে অংশগ্রহণ ফি বাবদ পাকিস্তান বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তবে এর পাল্টা যুক্তিতে তিনি বলেন, পাকিস্তান অংশ না নিলে সম্প্রচার স্বত্ব ও বিজ্ঞাপন বাবদ আইসিসি এবং ভারতের কয়েক গুণ বেশি ক্ষতি হবে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া মানে টুর্নামেন্টের অর্ধেক আকর্ষণ হারিয়ে ফেলা। পিসিবি বর্তমানে শুধু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর বিকল্পটিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
বিশ্বকাপের সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে। তাদের গ্রুপ সঙ্গী হিসেবে রয়েছে ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তান যদি সত্যিই টুর্নামেন্ট বর্জন করে, তবে আইসিসিকে দ্রুত নতুন করে সূচি ও দল বিন্যাস নিয়ে কাজ করতে হবে, যা পুরো আয়োজনকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।
উপসংহার
ক্রিকেট বিশ্বের সমস্ত নজর এখন ইসলামাবাদ ও লাহোরের দিকে। আগামী সোমবার মহসিন নাকভির ঘোষণাই ঠিক করে দেবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভাগ্য। আইসিসি কি পাকিস্তানের চাপে পড়ে বাংলাদেশের বিষয়ে নতুন কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে, নাকি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় টুর্নামেন্ট বর্জনের ঐতিহাসিক পথে হাঁটবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
![বিশ্বকাপ বর্জনের পথে পাকিস্তান? চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবার 1 বিশ্বকাপ বর্জনের পথে পাকিস্তান চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সোমবার Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/01/বিশ্বকাপ-বর্জনের-পথে-পাকিস্তান-চূড়ান্ত-সিদ্ধান্ত-সোমবার.jpg)