টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উত্তেজনা যখন চরমে, ঠিক সেই সময় ভারতীয় দলের তরুণ ব্যাটার রিংকু সিংয়ের জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। ভারতের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার লড়াইয়ের মধ্যেই তিনি হারালেন তার প্রিয় বাবা খানচাঁদ সিংকে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এই দুঃসংবাদটি প্রথম নিশ্চিত করেন ভারতের সাবেক অফ–স্পিনার হারভাজন সিং। নিজের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে তিনি শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, রিংকু সিংয়ের বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত। বিশ্বকাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়েও রিংকু তার দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল। এই কঠিন সময়ে রিংকু ও তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি প্রার্থনা করেন যেন সৃষ্টিকর্তা প্রয়াত খানচাঁদ সিংয়ের আত্মাকে শান্তি দান করেন এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দেন।
অসুস্থতা ও হাসপাতালে চিকিৎসা
রিংকুর বাবা খানচাঁদ সিং দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন। গত কয়েকদিনে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের মতে, তাকে ২১ ফেব্রুয়ারি গ্রেটার নয়ডার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার ভোরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| মৃত্যু তারিখ | ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| স্থান | গ্রেটার নয়ডা, হাসপাতাল |
| রোগ | লিভার ক্যানসার |
| হাসপাতালে ভর্তি | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| চিকিৎসা অবস্থা | ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল |
বিশ্বকাপের মাঝেই দেশে ফেরা
বাবার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বিশ্বকাপ চলাকালীন সময়েই মাঝপথে দেশে ফিরে যেতে হয় রিংকু সিংকে। ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দলের ক্যাম্প ছেড়ে নিজের বাড়ি উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—বাড়ি ফেরার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই বাবাকে হারাতে হলো তাকে।
তবে পারিবারিক শোকের মধ্যেও দলীয় দায়িত্বের কথা ভেবে রিংকু আবার জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তিনি দলের সঙ্গে যুক্ত হন বলে জানা গেছে। এতে বোঝা যায়, ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেও জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনে কতটা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি।
রিংকুর সাবেক কোচ মাসুদ আমিনী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, খানচাঁদ সিং দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং শেষ কয়েকদিন তার অবস্থা খুবই সংকটজনক হয়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, পরিবারের দায়িত্ব পালনে খানচাঁদ সিং আজীবন কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং পরিবারের জন্য অসাধারণ ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
সংগ্রাম থেকে সাফল্যের গল্প
রিংকু সিংয়ের জীবনগল্প মূলত সংগ্রাম আর পরিশ্রমের এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ। উত্তরপ্রদেশের আলিগড় জেলার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ক্রিকেটারের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তার বাবার।
খানচাঁদ সিং আলিগড়ে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করতেন। আর্থিকভাবে সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনোই ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নকে বাধা দেননি। বরং সবসময় তাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও পাশে দাঁড়িয়েছেন।
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| ক্রিকেটার | রিংকু সিং |
| বয়স | ২৮ বছর |
| বাসস্থান | আলিগড়, উত্তরপ্রদেশ |
| বাবার পেশা | গ্যাস সিলিন্ডার ডেলিভারি |
| বিশেষ অবদান | ছেলের ক্রিকেট স্বপ্নে সমর্থন |
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খানচাঁদ সিংয়ের শেষকৃত্য আলিগড়েই সম্পন্ন করা হবে এবং সেখানে রিংকু সিং উপস্থিত থাকবেন।