বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) হাসান ইসাখিলের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল অনেকটা নীরবে। টুর্নামেন্টের প্রায় অর্ধেক সময় কেটেছে ডাগআউটে বসে, একাদশে সুযোগের অপেক্ষায়। কিন্তু সুযোগ পেতেই নিজেকে প্রমাণ করতে সময় নেননি মোহাম্মদ নবীর ছেলে। সিলেটের হয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের একাদশে সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই খেলেন ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। সেই ম্যাচেই বাবার সঙ্গে একই দলে মাঠে নেমে গড়েন এক বিরল ইতিহাস, যা বিপিএলের স্মরণীয় অধ্যায়গুলোর একটি হয়ে থাকবে।
এক ম্যাচের ঝলক দেখিয়েই থেমে যাননি ইসাখিল। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নিজের তৃতীয় ম্যাচেই হাঁকান অনবদ্য সেঞ্চুরি। ৭২ বল মোকাবিলা করে ৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় করেন ১০৬ রান। বিপিএলের ইতিহাসে এক ইনিংসে ১১টি ছক্কা মারার কীর্তি এর আগে ছিল মাত্র তিনজন ব্যাটারের—ক্রিস গেইল, তামিম ইকবাল ও জনসন চার্লস। সেই অভিজাত তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করে নেন ইসাখিল।
তবে এত রেকর্ডের হিসাব নাকি মাথাতেই ছিল না তাঁর। ম্যাচ শেষে ইসাখিল বলেন, তিনি কখনোই নির্দিষ্ট সংখ্যক ছক্কার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নামেন না। তাঁর ভাষায়, আজ যে ১১টি ছক্কা এসেছে, সেটিও ম্যাচ চলাকালীন বুঝতে পারেননি। বরং টানা কয়েক ম্যাচে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের ফল হিসেবেই এই কীর্তি এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে আগে থেকেই সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া ইসাখিলের জন্য এটি ছিল টি–টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। স্বাভাবিকভাবেই এই ইনিংস ভবিষ্যৎ পথচলায় বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তিনি। বিপিএলে আবার খেলতে চান সুযোগ পেলেই। অকপটে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো দল যদি তাঁকে দলে নেয়, তাহলে আবারও বিপিএলের মঞ্চে ফিরতে প্রস্তুত তিনি।
রংপুরের বিপক্ষে ইনিংসের শুরুতে অবশ্য খুব দ্রুতগতিতে এগোননি ইসাখিল। প্রথম ৫০ রান তুলতে খেলতে হয় ৫০ বল। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি নিজেই। পরের মাত্র ২২ বলে যোগ করেন আরও ৫৭ রান। তাঁর সেঞ্চুরির সুবাদে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৩ রানে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই রান জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ইসাখিল। শুরুতে উইকেট কঠিন ছিল, স্ট্রাইক রোটেশনও সহজ হচ্ছিল না। তবে পরের দিকে উইকেটের আচরণ বদলালে তিনি নিজের পরিকল্পনাও বদলান। ঠিক জায়গায় বল পেলে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, ইতিবাচক মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যান ইনিংসের শেষ পর্যন্ত।
হাসান ইসাখিলের উল্লেখযোগ্য বিপিএল ইনিংস
| ম্যাচ | প্রতিপক্ষ | রান | বল | চার | ছক্কা |
|---|---|---|---|---|---|
| প্রথম ম্যাচ | সিলেটের হয়ে | ৯২ | ৬০ | তথ্য নেই | তথ্য নেই |
| তৃতীয় ম্যাচ | রংপুর রাইডার্স | ১০৬ | ৭২ | ৪ | ১১ |
বেঞ্চে বসে অপেক্ষার পর এমন দুটি ইনিংসই প্রমাণ করে, সুযোগ পেলে বড় মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে জানেন হাসান ইসাখিল। বিপিএলে তাঁর ফেরার প্রত্যাশা তাই শুধু ব্যক্তিগত নয়, দর্শকদের আগ্রহও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
![বিপিএলে সুযোগের অপেক্ষায় নবীর ছেলে ইসাখিল 1 বিপিএলে সুযোগের অপেক্ষায় নবীর ছেলে ইসাখিল Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/01/বিপিএলে-সুযোগের-অপেক্ষায়-নবীর-ছেলে-ইসাখিল.png)