বাউন্ডারী লাইন । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় বাউন্ডারী লাইন।

বাউন্ডারী লাইন

২০নং নিয়ম

টসের আগেই আম্পায়াররা বাউণ্ডারী লাইন দেখে নেবেন ! ব্যাটসম্যান হিট করার পর যদি কোন বল বাউণ্ডারী লাইন অতিক্রম বা স্পর্শ কিংবা বলশুদ্ধ, কোন ফিল্ডার লাইন অতিক্রম করে, তাহ’লে আম্পায়ার ‘বাউণ্ডারী’ বলবেন এবং তারই ইশারা দেখাবেন। বাউণ্ডারী লাইন অতিক্রম করার আগে ব্যাটসম্যানরা যদি বাউণ্ডারীর নির্ধারিত রানের বেশী করতে পারেন, তবে সেই বেশী রানই গোনা হবে।

যদি ব্যাটসম্যান রান করার পর ফিল্ডারের বল ছোঁড়ার দোষে বা ইচ্ছাকৃত অপপ্রচেষ্টায় বল বাউণ্ডারী নাইন অতিক্রম “করে তাহ’লে যে কয় রান হয়েছে আর তার সঙ্গে বাউণ্ডারীর চার রান ব্যাটসম্যানের নামে লেখা হবে। বাউণ্ডারী না হলে ব্যাটসম্যান ছুটে যে কটা রান নিতে পারবেন সেগুলিই গোনা হবে । পিচের মধ্যিখান থেকে বাউণ্ডারী লাইনের সীমানা কোন সময়েই সর্বাধিক ৭৫ গঞ্জের বেশী হতে পারবে না ।

দ্রষ্টব্য

(ক) বাউণ্ডারী লাইন কোথায় হবে তা আম্পায়াররা মাঠ দেখে স্থির করবেন।

(খ) বস যদি বাউণ্ডারী লাইন স্পর্শ করে বা ফিল্ডসম্যান যদি বল হাতে লাইন অতিক্রম করে বা তার শরীরের কোন অংশ লাইনের উপর স্থাপন করে তাহ’লে আম্পায়ার বাউণ্ডারীর ইশারা দেবেন। কিন্তু ফিল্ডসম্যান যদি লাইনের ভিতরে দাড়িয়ে লাইনের বাইরে বল (উঁচু) থামাতে পারেন তাহ’লে বাউণ্ডারী হবে না।

(গ) মাঠের মধ্যে যদি কোন কারণে বল কোন কিছুর গায় লেগে থেমে যায়। বা আম্পায়ারের গায় লাগে তাহ’লে বাউণ্ডারী দেওয়া হবে না ।

 

বাউন্ডারী লাইন

 

( ঘ ) সাধারণতঃ বাউণ্ডারীতে চার (৪) রান দেওয়া হয়, তবে বল যদি উঁচু হয়ে বাউণ্ডারী লাইনের ( কোন ফিল্ডসম্যানের গায়ে লেগে গেলেও ক্ষতি নেই ) বাইরে যায় তাহ’লে ৬ রান দেওয়া হয়। কিন্তু সাইট স্ক্রীন মাঠের মধ্যে থাকলে বল যদি উঁচু হয়ে অর্থাৎ মাটি স্পর্শ না করে তার গায়ে লাগে তাহলে ওভার বাউণ্ডারীর ৬ রান দেওয়া হবে না । সেখানে চার রানই বিধেয়।

 

বাউন্ডারী লাইন

 

(ঙ) আম্পায়ার তাঁর হাত একদিক দিয়ে অপর দিকে বার বার নিয়ে গিয়ে বাউণ্ডারীর ইশারা দেন আর ওভার বাউণ্ডারীর বেলায় হাত মাথার ওপর তুলে নাড়ান ।

বিশেষ মতামত

বল মারার পর যদি কোন কারণে থেমে যায় বা কোন অবাঞ্ছিত ব্যক্তির গায়ে লেগে মাঠের মধ্যে থাকে তাহলেও বল ‘ডেড’ হয় না । তখনও ব্যাটসম্যান রান নেবার সময় রান আউট হতে পারেন। সব সময় বাউণ্ডারীতে একটা লাইন দিয়ে দেওয়া দরকার । ফ্ল্যাগ বা পোস্ট দিয়ে বাউণ্ডারীর সীমানা সাধারণতঃ নির্ধারিত হয় । ক্রিকেট জগতে ছোট বড় বিভিন্ন মজার মজার গল্প প্রচলিত আছে এর মধ্যে ডানিয়েলের গল্পটি অন্যতম। গল্পটিতে ব্যঙ্গ করা হয়েছে ফাস্ট বোলারদের।

ড্যানিয়েল একজন ফাস্ট বোলার। একদিন তাদের দলের খেলা ছিলো বলে সে সাত তাড়াতাড়ি মাঠে এসে হাজির। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের দলের অন্য খেলোয়াড়রা মাঠে এলো না; ফলে তাদের খেলাও হলো না। ড্যানিয়েল তাই মনের দুঃখে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অন্য একটি খেলা দেখছিলো ।

সেই সময় তার এক খেলোয়াড় বন্ধু এসে বললে, ‘ড্যানিয়েল’ তুমি যদি আমাদের সঙ্গে নেট প্র্যাকটিস করতে চাও, তবে আমার সঙ্গে এসো। ড্যানিয়েল সানন্দে নেট প্র্যাকটিস করতে গেলো। আগেই বলেছি ড্যানিয়েল ছিলো ফাস্ট বোলার। শুধু ফাস্ট বোলার বললে হয়তো ঠিক বোঝা যাবে না । তাকে বলা উচিত ফাস্টেস্ট বোলার। তার বলে ছিলো অসম্ভব জোর।

বিদ্যুৎ গতিতে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে চলে যেতো তার বল। ড্যানিয়েলকে বল করতে দেওয়া হলো। ছুটে এসে ড্যানিয়েল বল করলো। তীর বেগে বলটা ব্যাটসম্যানের পাশ দিয়ে নেট ছিঁড়ে বেরিয়ে গেলো। কিন্তু বলটা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নেটের গজ পঁচিশেক দূরে ছিলো একটা দেওয়াল। দেওয়ালের উল্টো দিকে আর একটা ক্রিকেটের মাঠ। হঠাৎ সেই মাঠের খেলোয়াড়রা চিৎকার করে উঠলো।

বলটা তাদের মাঠে চলে গেছে। শেষে দেখা গেলো নেটের পেছনে দেওয়ালের গায়ে বলের আকারে একটা ফুটো। নেট ছিঁড়ে দেওয়াল ফুটো করে বলটা পেছনের মাঠে চলে গেছে। ফাস্ট বোলার ড্যানিয়েলের বলে এতো জোর ছড়িয়ে পড়লো কথাটা । কেউ বিশ্বাস করলো, কেউ করলো না। কিন্তু পরদিন খেলা দেখতে শহর ঝেটিয়ে লোক এসেছে। ভিড়ে ভিড়। চারদিকে লোক গিজগিজ করছে। সকলেই দেখতে চায় ড্যানিয়েলের বোলিং, পরখ করতে চায় তার বলে কতো জোর।

টসে জিতে ড্যানিয়েলরা ফিডিং নিলো। ড্যানিয়েল মাঠে নামলে সে কি হাততালি। ব্যাটসম্যানরা এলো। একি! সারা গায়ে যে লোহার বর্ম পরা। চোখ দু’টো শুধু মিট মিট করছে। আম্পায়াররা দাঁড়িয়ে গেলেন যে যার জায়গায় ফিল্ডাররাও। অধিনায়ক বলটা ছুঁড়ে দিলেন ড্যানিয়েলের হাতে। সারা মাঠে সে কি চিৎকার। শোনা গেলো প্রথম বলটা ড্যানিয়েল বাম্পার দেবে। বল নিয়ে ড্যানিয়েল ছুটে আসছে। সারা মাঠ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। কি হয়, কি হয়। ড্যানিয়েল বল করলো। কিন্তু বল কোথায় ? দেখাও গেলো না যেন।

হঠাৎ দেখা গেলো ফিল্ডাররা মধ্যিখানে ছুটে এসেছে। সেখানে একটা গর্ত। বাম্পার বলটা মাটিতে ঠোকার সঙ্গে সঙ্গে মাটি ফুটো করে বোধহয় পাতালে চলে গেছে! প্রকাণ্ড লম্বা বাশ এনেও গর্তের তল পাওয়া গেলো না। এতো জোর ড্যানিয়েলের বলে । তাহ’লে কি আর খেলা হবে না। মাঠের দর্শকরা বল হারিয়ে গেছে বলে ড্যানিয়েলের বোলিং দেখতে পাবে না। নিশ্চয়ই পাবে। কিন্তু কেমন করে আবার নতুন বল পাওয়া যাবে, জানতে হলে নীচের আইনটি জানতে হবে।

Leave a Comment