টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানি ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান দারুণ ফর্মে রয়েছেন। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নিজের প্রথম ম্যাচে দ্রুত আউট হলেও পরের ম্যাচে তিনি তাণ্ডব দেখান। হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে ৫৫ বলে সেঞ্চুরি করেই ফারহান ভেঙেছেন বিরাট কোহলি ও রাইলি রুশোর রেকর্ড, পাশাপাশি সামনে থাকা স্বদেশি বাবর আজমকে হুমকি জানিয়ে রেখেছেন।
গতকাল মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে হায়দরাবাদ কিংসমেন ৫ উইকেটে ২২৫ রান তুলেছিল। তাদের মধ্যে মাজ সাদাকাত ২৬ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৬২ রান, আর সারজিল খান ২৬ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় ৫১ রান করেন। তবে ২২৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মুলতান সুলতানস দাপুটে জয় অর্জন করে; মাত্র ৮ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে তারা মাঠ ছাড়ে।
ফারহানের ইনিংস ছিল চোখধাঁধানো। তিনি ৫৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এবং ৭ চার ও ৮ ছক্কায় ৫৭ বলে অপরাজিত ১০৬ রান করেন। ম্যাচসেরা নির্বাচিত এই ব্যাটারকে স্টিভেন স্মিথও সহায়তা দেন, ২০ বলে ৪৬ রান করে।
ফারহানের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি নবম সেঞ্চুরি। পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল বাবর আজম ১১টি সেঞ্চুরিতে এগিয়ে।
টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি
নিম্নলিখিত টেবিলে টি-টোয়েন্টিতে উল্লেখযোগ্য ব্যাটারদের সেঞ্চুরি তালিকা তুলে ধরা হলো:
| অবস্থান | ব্যাটার | দেশ | সেঞ্চুরির সংখ্যা | ম্যাচ সংখ্যা | লক্ষ্য/স্ট্রাইকরেট |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ক্রিস গেইল | ওয়েস্ট ইন্ডিজ | ২২ | ۳৬৮ | সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি |
| ২ | বাবর আজম | পাকিস্তান | ১১ | ২৫০ | সাবেক সর্বোচ্চ রান |
| ৩ | ডেভিড ওয়ার্নার | অস্ট্রেলিয়া | ১০ | ২৫৫ | দ্রুততম ব্যাটার |
| ৪ | বিরাট কোহলি | ভারত | ৯ | ৪১৫ | ধারাবাহিক ইনিংস |
| ৪ | রাইলি রুশো | দক্ষিণ আফ্রিকা | ৯ | ৩৯৩ | শক্তিশালী ইনিংস |
| ৪ | সাহিবজাদা ফারহান | পাকিস্তান | ৯ | ১৬৬ | ঝড়ো ফর্ম |
দ্রষ্টব্য: ফারহান তুলনামূলক কম ম্যাচে এই সাফল্য অর্জন করেছেন। কোহলি ও রুশোর চেয়ে তার ম্যাচ সংখ্যা অনেক কম, যা তার দক্ষতা প্রমাণ করে।
ফারহানের এই ধারালো ব্যাটিং সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখা গিয়েছিল। সেখানে তিনি দুইটি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। ছয় ইনিংসে ১৬০.২৫ স্ট্রাইকরেটে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৮৩ রান। পিএসএলেও তিনি সেই ফর্ম বজায় রাখার দৃঢ় মনোযোগ দেখিয়েছেন, যা পাকিস্তানি ক্রিকেটের জন্য আশার আলো জ্বালাচ্ছে।
ফারহানের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি পাকিস্তান দলকে বড় লক্ষ্য পূরণের পথে আত্মবিশ্বাসও যুগিয়েছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার ধারাবাহিক ফর্ম দলের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
