আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পিচ ঢাকা ।
পিচ ঢাকা

১১নং নিম্নম
বিশেষ কারণ ( অর্থাৎ আগে থেকে ঠিক করা না থাকলে ) ছাড়া খেলার মাঝে পিচ সম্পূর্ণভাবে ঢাকা যাবে না। বোলারদের ‘রান- ‘আপ’ ঢাকার জন্যে যে ‘আচ্ছাদন’ ব্যবহার করা হয়, তা পপিং ক্ৰীজ থেকে সাড়ে তিন ফিটের বেশী সামনে যাবে না ।
দ্রষ্টব্য
খেলার আগে এবং প্রয়োজন হলে খেলার মাঝে বোলারদের ‘রান- ‘আপ’ ঢাকা চলবে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতিদিন সকাল বেলায় ঐ ঢাকা তুলে ফেলতে হবে। বিশেষ মতামত টেস্ট, কাউন্টি ও অন্য বড় খেলা বাদে পিচ ঢাকা হয় না । টেস্ট খেলা আরম্ভের ২৪ ঘণ্টা আগে পিচ ঢাকা তুলে দিতে হবে। বোলার- দের ‘রান-আপ’ ঢাকা ১৮ ফিট লম্বা। তার মধ্যে মাত্র ৭২ ফিট বোলিং ক্রীজের উপর দিয়ে পিচের মধ্যে থাকতে পারে ।
যে কোন খেলা চলার সময় দেখা যায় ব্যাটসম্যানরা ব্যাট ঠুকে ঠুকে পিচের উপর কি করছেন, কিংবা বোলাররা আম্পায়ারের কাছ থেকে কি যেন চেয়ে নিয়ে ‘রান-আপে’র উপর ছড়িয়ে দিচ্ছেন। একটা খেলার কথা আমার মনে পড়ছে। খুবই সাধারণ খেলা। পাশাপাশি দুটি ছোট শহর টাকী আর বসিরহাটের মধ্যে ম্যাচ। খেলা হচ্ছিল বসিরহাটে। খেলার আগের দিন রাতে বৃষ্টি হয়েছিলো। তাই পিচের অবস্থা খুব খারাপ। পিচের মধ্যে ছোট বড় নানা আকারের গর্ত। বসিরহাট দল প্রথমে ব্যাট করে ৫২ রান করলো, কিন্তু টাকী প্রথমে সুবিধে করতে পারলো না। প্রথম ৬ট। উইকেট পড়লো ৬ রানে । ১৭ রানের মাথায় আর একজন আউট হলো।
টাকীর হার নিশ্চয়ই। বসিরহাটের বোলাররা প্রাণ দিয়ে বোলিং করছে। টাকীর পক্ষে তখন ব্যাট করছে দু’জন বোলার। দু’জনে খেলছে খুব সুন্দর। একজন সুযোগ দিচ্ছে অপরজনকে মেরে খেলার। রান উঠছে খুব তাড়াতাড়ি । এরই মধ্যে একজন ব্যাটসম্যান বারবার পিচ ঠুকে ঠুকে গর্ত বোজাচ্ছিল।
সময় নষ্ট করছে ভেবে দর্শকরা গালাগালি দিচ্ছিলো খেলোয়াড়টিকে। হঠাৎ আম্পায়ার এসে তাকে পিচ ঠুকতে নিষেধ করলেন। খেলোয়াড়টি তো থ! আম্পায়ার কী কখনও এ ব্যাপারে নিষেধ করতে পারেন! শেষ পর্যন্ত টাকী ২ উইকেটে জয়লাভ করলো। হারা খেলা জেতার পর আনন্দে যখন টাকীর খেলোয়াড়রা মশগুল, তখন একজন দর্শক এসে সেই পিচ-ঠোকা খেলোয়াড়টিকে বললে, “আপনার গলায় জুতোর মালা পরানো উচিত।
আমি অনেক খেলা দেখেছি—টেস্ট ম্যাচও কিন্তু কোথাও পিচ ঠুকতে দেখিনি কাউকে।” সীমিত জ্ঞানের পরিচয় যদিও ছেলেটি দিয়েছিলো, তবু আজ পিচের মেরামত আইনটি লিখতে বসে সেই ছেলেটির কথাই মনে পড়ছে বার বার ।
