আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় পিচের উইকেট। ক্রিকেটের পিচ হল সেই কেন্দ্রবিন্দু, যা পুরো খেলার গতি, বোলিংয়ের ধরণ এবং ব্যাটিংয়ের কৌশল নির্ধারণ করে। সঠিকভাবে তৈরি করা পিচ এবং সঠিকভাবে স্থাপিত উইকেট ক্রিকেট খেলাকে ন্যায্য ও নিরাপদ করে তোলে।
পিচের উইকেট
৮ নং নিয়ম
উইকেটের কাঠামো: প্রতি উইকেটে তিনটি স্টাম্প থাকবে।
প্রতিটি উইকেটের অবস্থান: স্টাম্পগুলো পিচের দু’প্রান্তে সোজাসুজি এবং সমান্তরালভাবে পুঁততে হবে।
পিচের দৈর্ঘ্য: ২২ গজ (প্রায় ২০.১২ মিটার)।
উইকেটের চওড়া: ৯ ইঞ্চি।
স্টাম্পের উচ্চতা: মাটি থেকে স্টাম্পের মাথা পর্যন্ত ২৮ ইঞ্চি।
বেল: প্রতি স্টাম্পের ওপর দুইটি বেল বসানো হবে, যা ৪ ইঞ্চির লম্বায় হবে এবং স্থাপনের পর ঐ উচ্চতাকে অতিক্রম করবে না।
স্টাম্পগুলোর মধ্যে এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যাতে বল স্টাম্পের মধ্য দিয়ে গলে যেতে না পারে।
দ্রষ্টব্য
সুরক্ষা: অহেতুক আঘাতের ঝুঁকি কমাতে ধাতু লাগানো স্টাম্প ব্যবহার না করাই ভালো।
বেল-হীন খেলা: অতিরিক্ত বাতাস বা অন্য কারণে বেল রাখা অসম্ভব হলে, দু’টি দলের অধিনায়ক নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে আম্পায়ারকে জানিয়ে বেল ছাড়া খেলা চালিয়ে যেতে পারেন।
পিচ ও ক্রীজের কাঠামো
ক্রিকেট মাঠে গেলে সহজেই দেখা যায় যে দুই উইকেটের দু’প্রান্তে সাদা দাগ তৈরি করা থাকে। প্রতিটি দাগের অর্থ ও ব্যবহার হলো:
পপিং ক্রীজ:
ব্যাটসম্যান ব্যাট ধরে দাঁড়ান এই দাগের ওপর।
রান নেওয়া, স্টাম্পড বা এলবিডব্লিউ আউটের হিসাব এই দাগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বোলিং ক্রীজ:
বোলার বল করতে এই দাগের মধ্য দিয়ে দাঁড়ান।
বোলিং ক্রীজের লম্বা দাগের মধ্যে বোলারকে রিটার্ণ করতে হয়।
রিটার্ণ ক্রীজ:
বোলিং ক্রীজের দু’প্রান্তে লম্বভাবে থাকা দাগ।
বোলার বল করার সময় রিটার্ণ ক্রীজের বাইরে যেতে পারবেন না।
পিচের গুরুত্ব
পিচের অবস্থা নির্ধারণ করে বোলিং ও ব্যাটিংয়ের ধরণ।
শক্ত বা শুকনো পিচ বোলারদের জন্য সুবিধাজনক, আর নরম বা আর্দ্র পিচ ব্যাটারদের সুবিধা দেয়।
পিচের সঠিক মেরামত ও উইকেট স্থাপন নিশ্চিত করে খেলা হয় ন্যায্য, উত্তেজনাপূর্ণ এবং নিরাপদ।
