পিএসএলে মোস্তাফিজের দলের বিপক্ষে শরীফুল-নাহিদের বড় জয়

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১৯তম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের তিন তারকা পেসার। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শরীফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার দল পেশোয়ার জালমি ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে মোস্তাফিজুর রহমানের লাহোর কালান্দার্সকে। ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন লাহোর অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।

পেশোয়ার জালমির ব্যাটিং ও বাবর-মেন্ডিস জুটি

প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে পেশোয়ার জালমি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন শ্রীলঙ্কান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার কুশল মেন্ডিস। তিনি ৪৮ বলে ৭৪ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যা তাকে ম্যাচসেরার পুরস্কার এনে দেয়। অধিনায়ক বাবর আজম তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৪০ বলে ৪৩ রান করেন। এই দুজনের শতরানের জুটির ওপর ভর করেই লড়াই করার মতো পুঁজি পায় পেশোয়ার। লাহোর কালান্দার্সের পক্ষে অধিনায়ক শাহিন আফ্রিদি ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় ৩টি উইকেট শিকার করেন।

মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স

পরাজিত দলে থাকলেও বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি তার কোটার ৪ ওভার বোলিং করে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট লাভ করেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মাধ্যমে তিনি ওভারপ্রতি মাত্র ৭.৫ রান ব্যয় করেন। ব্যাটিংয়ে নেমেও মোস্তাফিজ অপরাজিত ছিলেন। তিনি ৩ বল খেলে ১টি চারের সাহায্যে ৪ রান করেন। শেষ দিকে দুনিথ ভেলালাগের সঙ্গে ১৯ বলে ২২ রানের একটি ছোট জুটি গড়লেও তা দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেনি।

লাহোর কালান্দার্সের ব্যাটিং বিপর্যয়

১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় লাহোর কালান্দার্সের ইনিংস। দলের পক্ষে ফখর জামান ও আবদুল্লাহ শফিক উভয়ই সমান ২১ রান করেন। এছাড়া দুনিথ ভেলালাগে করেন ২০ রান। পেশোয়ারের বোলারদের তোপে লাহোরের ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন। বিশেষ করে কিউই স্পিনার মাইকেল ব্রেসওয়েল এবং সুফিয়ান মুকিম লাহোরের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন।

ম্যাচে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পরিসংখ্যান

খেলোয়াড়ের নামদলপারফরম্যান্স (বোলিং)পারফরম্যান্স (ব্যাটিং)ফলাফল
মোস্তাফিজুর রহমানলাহোর কালান্দার্স৪-০-৩০-২৪* (৩ বল)পরাজিত
শরীফুল ইসলামপেশোয়ার জালমি৪-০-১৭-১ব্যাটিং প্রয়োজন হয়নিজয়ী
নাহিদ রানাপেশোয়ার জালমি৩-০-১৫-২ব্যাটিং প্রয়োজন হয়নিজয়ী

শরীফুল ও নাহিদ রানার বোলিং আক্রমণ

পেশোয়ার জালমির জয়ের পেছনে বাংলাদেশের দুই তরুণ পেসারের বড় ভূমিকা ছিল। শরীফুল ইসলাম ৪ ওভার বোলিং করে অত্যন্ত কৃপণতার পরিচয় দেন। তিনি মাত্র ১৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে, গতি তারকা নাহিদ রানা আরও বেশি কার্যকর ছিলেন। তিনি ৩ ওভারে ১৫ রান খরচ করে তুলে নেন ২ উইকেট। বাংলাদেশি এই দুই পেসারের তোপে লাহোরের ব্যাটাররা রান তুলতে রীতিমতো হিমশিম খান।

পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান চিত্র

এই জয়ের ফলে ৫ ম্যাচে ৪ জয় এবং ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে পেশোয়ার জালমি। অন্যদিকে, এই হারের পর লাহোর কালান্দার্স ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। উল্লেখ্য যে, টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ চারটি দল সুপার ফোর পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। ম্যাচটিতে ধারাভাষ্যকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খান, যা এই ম্যাচে বাংলাদেশি আবহকে পূর্ণতা দিয়েছিল।

Leave a Comment