বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এবার পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন, তবে সরকারের অনুমোদনের অপেক্ষায়। এবারের লিগে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতিমধ্যে পাঁচজন ক্রিকেটারের অনাপত্তিপত্র (No Objection Certificate) জারি করেছে। তবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে যাত্রার আগে সরকারের অনুমোদন নেবে বিসিবি।
ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, “আমরা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। স্বাভাবিক অবস্থায় এমন অনুমোদনের দরকার হয় না। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন এবং ঝুঁকি আছে কি না তা যাচাই করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
বর্তমানে পাঁচজন ক্রিকেটারের পিএসএলে অংশ নেওয়া নিশ্চিত হয়েছে। তারা হলেন:
- মোস্তাফিজুর রহমান
- পারভেজ হোসেন
- শরীফুল ইসলাম
- নাহিদ রানা
- রিশাদ হোসেন
অতিরিক্তভাবে ওপেনার তানজিদ হাসানকেও পেশোয়ার জালমির সঙ্গে কথাবার্তায় আনা হচ্ছে। তবে কোনো ক্রিকেটারই পুরো পিএসএল মরশুমের জন্য অনাপত্তিপত্র পাননি। এবারের পিএসএল শুরু হবে ২৬ মার্চ এবং শেষ হবে ৩ মে।
পিএসএলের সময়সূচি ও ক্রিকেটারদের অনুমোদনের বিস্তারিত নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| ক্রিকেটার | পিএসএল দল | অনাপত্তিপত্রের মেয়াদ | বিশেষ উল্লেখ |
|---|---|---|---|
| মোস্তাফিজুর রহমান | অনুরোধকৃত দল | ২৬ মার্চ – ১২ এপ্রিল | ওয়ানডে সিরিজ শেষে ফের যোগ দেবেন |
| পারভেজ হোসেন | টি-টুয়েন্টি দল | ২১ এপ্রিল পর্যন্ত | পুরো পিএসএলের নয় |
| শরীফুল ইসলাম | দল নির্ধারিত | ১২ এপ্রিল পর্যন্ত | সীমিত সময়ের জন্য |
| নাহিদ রানা | দল নির্ধারিত | ১২ এপ্রিল পর্যন্ত | সীমিত সময়ের জন্য |
| রিশাদ হোসেন | দল নির্ধারিত | ১২ এপ্রিল পর্যন্ত | সীমিত সময়ের জন্য |
| তানজিদ হাসান | পেশোয়ার জালমি | আলোচনার মধ্যে | চূড়ান্ত হয়নি |
এছাড়া, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলতে আসবে। ওয়ানডে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ১৭, ২০ ও ২৩ এপ্রিল, আর টি-টুয়েন্টি ম্যাচগুলো হবে ২৭, ২৯ এপ্রিল এবং ২ মে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেরা দল গঠনের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সম্ভাব্য সেরা দল খেলাবে।
এই কারণে মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রথম ধাপে ২৬ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে তিনি আবার ২৪ এপ্রিল পিএসএলে যোগ দেবেন। অন্যান্য ক্রিকেটারদেরও সীমিত সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এইভাবে বিসিবি সরকার ও ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সমন্বয় করছে, যাতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুরক্ষিতভাবে অংশ নিতে পারেন।
কথায় আছে, ঝুঁকি ও প্রস্তুতি যত্ন সহকারে নেওয়া উচিত, আর এবার সেই দৃষ্টিকোণেই ক্রিকেট প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে।
