পাকিস্তানের ভুল উসকানিতে বিসিবির আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, দাবি মদন লালের

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে আইসিসি কর্তৃক বহিষ্কৃত হওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ভারতের সাবেক বিশ্বজয়ী অলরাউন্ডার মদন লাল মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের প্ররোচনায় পড়ে এক আত্মঘাতী পথে পা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অদূরদর্শিতার কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছে।

কূটনৈতিক পরাজয় ও আইসিসির কঠোর অবস্থান

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে বিসিবি অনড় থাকলেও বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি তা মেনে নেয়নি। বরং বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তকে মদন লাল সময়োপযোগী ও সঠিক বলে মনে করেন। তাঁর মতে, আইসিসি একটি পেশাদার সংস্থা এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বিশ্বকাপের মতো আসর বয়কট করলে তার পরিণাম এমনই হওয়ার কথা ছিল।

বিসিবির বর্তমান সংকট ও আইসিসি ভোটের বিশ্লেষণ:

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান
আইসিসি বোর্ড সভার ফলাফল১৪টি ভোটের মধ্যে ১২টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে।
বিসিবির প্রাপ্ত ভোটমাত্র ২ জন সদস্য বাংলাদেশের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন।
আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তবাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার।
বিকল্প দলবাংলাদেশের পরিবর্তে মূল পর্বে খেলবে স্কটল্যান্ড।
মূল অভিযোগপাকিস্তানের প্ররোচনায় বিসিবির ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতি ও বিসিবির মোহভঙ্গ

মদন লাল তাঁর সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানের ভূমিকার ওপর বিশেষ আলোকপাত করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, পাকিস্তান নিজে ঠিকই ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে আসছে, অথচ তারা বাংলাদেশকে ভুল বুঝিয়ে এই টুর্নামেন্ট থেকে দূরে সরিয়ে দিল। ১৯৮৩-র বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা বলেন, “পাকিস্তান বাংলাদেশকে ভুল পথে পরিচালিত করেছে। তারা নিজেরা টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নিশ্চিত করছে, অথচ বাংলাদেশকে একঘরে করে দিল।”

মদন লালের মতে, ক্রিকেট এখন কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি বিশাল বাণিজ্য। আইসিসি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মানে হলো আর্থিকভাবে পঙ্গু হয়ে যাওয়া। বিসিবি যদি পরবর্তী বিশ্বকাপগুলোতেও খেলার সুযোগ না পায়, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের অস্তিত্ব টেকা কঠিন হয়ে পড়বে।

অদূরদর্শী নেতৃত্ব ও কৌশলগত ব্যর্থতা

বিসিবির কূটনৈতিক দক্ষতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মদন লাল বলেন, আইসিসি মিটিংয়ের আগে বিসিবির উচিত ছিল সদস্য দেশগুলোর মনোভাব বোঝা। সভার ভোটাভুটিতে বাংলাদেশের এই শোচনীয় পরাজয় প্রমাণ করে যে, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের কোনো শক্তিশালী মিত্র বর্তমানে নেই। পর্যাপ্ত সমর্থন ছাড়া এমন একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া বিসিবির অদূরদর্শিতারই বহিঃপ্রকাশ।

উপসংহার

মদন লালের এই কড়া সমালোচনা বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য এক সতর্কবার্তা। মাঠের লড়াইয়ে শক্তিশালী হয়েও যদি মাঠের বাইরের ভুল রাজনীতি ও কুপ্ররোচনায় একটি দল আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে ছিটকে যায়, তবে তার চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। এখন দেখার বিষয়, আইসিসির এই কঠোর সিদ্ধান্তের পর বিসিবি তাদের ভুল নীতি থেকে সরে এসে পুনরায় ক্রিকেটের মূলধারায় ফিরতে পারে কি না।

Leave a Comment