নো বল । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় নো বল।

নো বল

২৬ নং নিয়ম

বল যদি ছোড়া বা ঝাঁকানি দিয়ে অর্থাৎ জাকিং না করে করা হয় তবেই সেই বলকে ঠিক বল বলা হবে। যে কোন আম্পায়ার যদি বোলারের বোলিংয়ে সন্তুষ্ট না হন তাহ’লে ‘নো বল’ বলবেন এবং তার ইশারা দেখাবেন। বোলারের দিকের আম্পায়ার নো-বল’ ঘোষণা করবেন এবং তার সংকেত করবেন যখন তিনি সন্তুষ্ট নন যে :–

( ১ ) বল করার ঠিক মুহূর্তে বোলারের সামনের পা পপিং ক্রীজের পেছনে আছে কিন্তু ক্রীজ স্পর্শ করে নেই আর পেছনের পা রিটার্ণ ক্রীজের মধ্যে আছে কিন্তু রিটার্ণ ক্রীজ কিংবা বোলিং ক্রীজের সংযুক্ত রেখা স্পর্শ করে নেই ।

(২) থ্রোয়িং-

কোন একটি বল ছোড়া হয়েছে বলা হবে যদি আম্পায়ার মনে করেন যে বল ডেলিভারী করার মুহূর্তে বোলার বল শুদ্ধ হাতটা অর্ধ কিংবা সম্পূর্ণ ভাবে সোজা করতে গিয়েছিলেন।

(৩) নো-বলের এই পরীক্ষামূলক নিয়মের সঙ্গে নিম্নোক্ত আইন দুটিও প্রযোজ্য :-

১। রিটার্ণ ক্রীজ লম্বায় ৪ ফুট হবে ।

২। পপিং ক্রীজকে স্টাম্পের দু’ধারে ৬ ফুট পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হবে ।

প্রত্যেক বিরতির পরে রিটার্ণ ও পপিং ক্রীজ পুনরায় চুন দিয়ে এঁকে দিতে হবে।

 

দ্রষ্টব্য

(ক) বল করার সময় বোলারকে দু’পা-ই যে বোলিং ক্রীজের পিছনে রাখতে হবে এমন কোন বাধ্য-বাধকতা নেই—এক পা থাকলেই চলবে ।

(খ) বোলার ওভার দি উইকেট’ বা ‘রাউণ্ড দি উইকেট’ বল করবে, বা ‘রাউণ্ড আর্ম’ বা ‘আণ্ডার আর্ম’ অথবা বাঁ হাতে, কি ডান হাতে বল করবে তা ব্যাটসম্যানের জানার অধিকার আছে । আম্পায়ারকে না জানিয়ে বল করার কোনরকম অসামঞ্জস্য বা হঠাৎ কোন পরিবর্তন করলে আম্পায়ার ইচ্ছে করলে ‘নো বল’ ডাকতে পারেন ।

(গ) রান আউট করার জন্যে বোলার যদি বল ডেলিভারির আগেই ছুড়ে উইকেটে মারেন তা’হলে সে বলকে ‘নো- বল’ বলা হবে।

(ঘ) বল করার সময় যদি কোন কারণে বোলারের দিকের উইকেট ভেঙ্গে যায় তাহ’লে সেক্ষেত্রে আম্পায়ার ‘নো-বল’ দেবেন না ।

 

 

নো বল

 

 

 

(ঙ) ‘ডান’ হাত কাঁধ বরাবর সোজা তুলে আম্পায়ার ‘নো-বলের’ ঈশারা দেবেন ।

(চ) আম্পায়ার ‘নো বল’ প্রত্যাহার করে নেবেন, যদি কোনও কারণবশতঃ বোলারের হাত থেকে বল ডেলিভারি হয়ে না যায় ।

বিশেষ মতামত

‘নো বল’ হওয়া সাধারণতঃ বোলারের পিছনের পায়ের উপর নির্ভর করে। বঙ্গ হাত থেকে ছুটে যাবার সময় বোলারের পিছনের পা যদি বোলিং ক্রীজের ভিতর থাকে তা’হলে বলটি ‘নো-বল’ হবে না । পিছনের পা মাটিতে লেগে থাকবার প্রয়োজন নেই শুধু বোলিং ও রিটার্ণ ক্রীজের মধ্যে থাকলেই চলবে। বল করার সময় বোলার তার দিকের উইকেট ভেঙ্গে ফেললেও ‘নো বল’ হবে না।

২৭ নং নিয়ম

‘নো-বল’ বলার পরও বলটি ডেড হবে না। ব্যাটসম্যান নো-বল মেরে রান করতে পারেন, এবং সেই রান তাঁর রানের সঙ্গে যুক্ত হবে। কিন্তু হিট না করলে বা হিটে রান না হলেও অন্য উপায়ের রানগুলি ‘নো-বল’ রান হিসেবে ব্যাটিং দলের অতিরিক্ত রানের সঙ্গে যুক্ত হবে । একজন ব্যাটসম্যান ৩৭নং নিয়ম অনুসারে এবং দু’জনেই ৩৬নং ও ৪০ নং নিয়ম অনুসারে নো-বলে আউট হতে পারে।

দ্রষ্টব্য

(ক) অন্য কোনভাবে রান না হলে নো-বলের এক রান ব্যাটিং দলের অতিরিক্ত রানসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হবে।

(খ) ৪৬নং নোটস-(ছ) বল ছোড়ার আগেই রান নেবার সুবিধের জন্য যদি নন-স্টাইকার ব্যাটসম্যান তাঁর ক্রীজ ছেড়ে এগিয়ে আসেন তাহ’লে ফিডিং পক্ষ তাকে যে কোন পদ্ধতিতে আউট করতেও পারে। এই সময় যদি বোলার তার কাছের উইকেটের দিকে বল ছোড়ে তাহ’লে সেক্ষেত্রে আম্পায়ার ‘নো বল’ বলতে পারবেন না এবং সেই ছোড়াও ওভারের বলসংখ্যার মধ্যে গোনা হবে না। কিন্তু সেই ছোড়ার পর কোন রান হলে রানগুলি ‘নো-বলে’র রান হিসেবে গণ্য হবে ।

 

নো বল

 

বিশেষ মতামত

যদি ব্যাটসম্যান নো-বলে কোন রান না নেয় তাহ’লে নো-বলের রানটি অতিরিক্ত রানের সঙ্গে যুক্ত হবে। যদি বলটিতে বাউণ্ডারী হয় বা ব্যাটসম্যান কয়েকটি রান নেয় তাহ’লে আর নো-বলের অতিরিক্ত (বাই) রানটি গ্রাহ্য করা হবে না। ব্যাটসম্যানের ব্যাটে যদি বল না লাগে এবং ব্যাটসম্যানেরা কয়েকটি রান নেয় তাহ’লে রানগুলি অতিরিক্ত হিসেবে নেওয়া হবে বা যদি ব্যাটসম্যানের ব্যাটে লাগে তাহলে তার অর্থাৎ ব্যাটসম্যানের রানের সঙ্গে যোগ করা হবে।

নো-বলে ব্যাটসম্যান আউট হলেও অতিরিক্ত রান বা ব্যাটস- ম্যান কৃত রান বলবৎ থাকবে। বোলার ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারেন হাতে বল নিয়ে সেই হাতে উইকেট ভেঙ্গে দিয়ে কিংবা উইকেটে বল ছুড়ে মেরে।
একটা টেস্ট খেলার কথা মনে পড়ছে। অনেকদিন আগের ঘটনা । খেলার শেষ দিনে ভারত বেশ সুবিধাজনক অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

মাত্র কিছু রান করতে পারলেই জয়লাভ করবে। কিন্তু সময় বড় অল্প। তাই দরকার পিটিয়ে খেলার । ভারতকে পিটিয়ে খেলতে দেবে না বলে প্রতিপক্ষ দল শুরু করলো আবোল-তাবোল অর্থাৎ নেগেটিভ বোলিং । একটা বল অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে দিয়ে আর একটা লেগ স্টাম্পের, আবার কোনটা ব্যাটসম্যানের মাথার উপর দিয়ে। এ সব বল ব্যাটসম্যানের পক্ষে পিটিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তাই খেলা শেষ পর্যন্ত শেষ হলো অমীমাংসিত ভাবে।

Leave a Comment