নিয়মরক্ষার লড়াইয়ে ভারতের জয়

গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতার, কারণ আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ‘সুপার এইট’-এ নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছিল ভারত। তবু আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচেও পেশাদারিত্বের ছাপ রাখল সূর্যকুমার যাদবের দল। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসকে ১৭ রানে হারিয়ে চার ম্যাচের চারটিতেই জয় তুলে নিল ভারত।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৩ রানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহ গড়ে তারা। জবাবে নেদারল্যান্ডস লড়াই করলেও ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭৬ রানে থেমে যায়।

দলরানউইকেটওভারফলাফল
ভারত১৯৩২০জয় (১৭ রানে)
নেদারল্যান্ডস১৭৬২০পরাজয়

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন শিবাম দুবে—৩১ বলে ৬৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান তিনি।

ভারতের ইনিংস: শুরুর ধাক্কা, শেষের ঝড়

ভারতের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। আরিয়ান দত্তের বলে তৃতীয় ডেলিভারিতেই শূন্য রানে বিদায় নেন অভিষেক শর্মা। চলতি বিশ্বকাপে টানা তিন ম্যাচে শূন্য রানে আউট হয়ে তিনি এক বিব্রতকর রেকর্ড গড়েন—বিশ্বকাপে নিজের প্রথম তিন ম্যাচে কোনো রান না করা প্রথম ব্যাটার তিনি।

পাওয়ার প্লেতেই আরেকটি ধাক্কা খায় ভারত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়া ইশান কিষাণ ৭ বলে ১৮ রান করে ফিরলে পাওয়ার প্লে শেষে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫১/২।

তৃতীয় উইকেটে সূর্যকুমার যাদব ও তিলক ভার্মা ৩০ রানের জুটি গড়েন। তিলক ২৭ বলে ৩১ রান করে ফিরলে ইনিংসে সাময়িক ভাটা পড়ে। ১৩.৩ ওভারে সূর্যকুমার (ক্যাপ্টেন) আউট হলে ভারতের রান ছিল ১১০।

এরপরই ম্যাচের মোড় ঘোরান শিবাম দুবে। হার্দিক পান্ডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ৪১ বলে ৭৬ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন। দুবে ৩১ বলে ৬৬ রান করে ফন বেকের শিকার হন। পান্ডিয়া ২১ বলে ৩০ রান যোগ করেন।

ভারতের উল্লেখযোগ্য ব্যাটিং

ব্যাটাররানবলচারছক্কা
শিবাম দুবে৬৬৩১
তিলক ভার্মা৩১২৭
হার্দিক পান্ডিয়া৩০২১
ইশান কিষাণ১৮

নেদারল্যান্ডসের হয়ে সবচেয়ে খরুচে হলেও সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন লোগান ফন বেক (৪-০-৫৬-৩)। আরিয়ান দত্ত ছিলেন কিপটে—৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট।

ডাচদের লড়াই ও চক্রবর্তীর আঘাত

১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডসের দুই ওপেনার মাইকেল লেভিট (২৪) ও ম্যাক্স ও’দৌদ (২০) স্থিতিশীল শুরু দেন। তৃতীয় উইকেটে কলিন আকারম্যান ও আরিয়ান দত্ত ৪৩ রানের জুটি গড়ে আশা জাগান। তবে ১৩তম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর জোড়া আঘাতে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যায়।

প্রথমে আকারম্যানকে ক্যাচে পরিণত করেন, পরের বলেই আরিয়ানকে বোল্ড করেন এই রহস্য স্পিনার। পরের ওভারে বাস ডি লিড (২৩ বলে ৩৩) আউট হলে ডাচদের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়।

ভারতের বোলিং

বোলারওভাররানউইকেট
বরুণ চক্রবর্তী১৪
শিবাম দুবে

শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটাররা হারের ব্যবধান কিছুটা কমালেও জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ভারত।

চার ম্যাচে চার জয়ে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন ভারত এখন ‘সুপার এইট’-এ গ্রুপ ‘ওয়ান’-এ দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে। রোববার প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শুরু হবে তাদের দ্বিতীয় পর্বের অভিযান। নিয়মরক্ষার ম্যাচে জয় পেলেও, সুপার এইটে আরও কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় আছে ভারত।

Leave a Comment