নিউজিল্যান্ডের পারফরম্যান্সে রক্ষা পেল বাংলাদেশের মান

কলম্বোর প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বে এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকল ক্রিকেট বিশ্ব। নিউ জিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ চার ওভারে ৭০ রান তুলে যে দুর্দান্ত ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখেছে, তা শুধু ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেয়নি—একটি বিব্রতকর পরিসংখ্যান থেকেও মুক্তি দিয়েছে বাংলাদেশকে।

প্রথমদিকে কিউই ইনিংস ছিল বিপর্যস্ত। মাত্র ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তারা যখন ধুঁকছিল, তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন দলটি ১৩০-১৪০ রানের বেশি তুলতে পারবে না। কিন্তু সপ্তম উইকেটে অলরাউন্ডার কল ম্যাকনকি ও মিচেল স্যান্টনারের অবিশ্বাস্য জুটি ম্যাচের দৃশ্যপট বদলে দেয়। দু’জন মিলে ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে তোলেন—যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ।

স্যান্টনার শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৬ বলে ৪৭ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল একাধিক বাউন্ডারি ও দৃষ্টিনন্দন ছক্কা। অপর প্রান্তে ম্যাকনকি ২৩ বলে অপরাজিত ৩১ রান করে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন। তাদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শেষ চার ওভারে রান আসে ৭০—যা টি-টোয়েন্টি মানদণ্ডে এক বিরল ঘটনা।

এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড ছিল মাইক হাসিস্টিভ স্মিথ-এর। ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তারা গড়েছিলেন ৭৪ রানের জুটি। সেই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিন বিব্রতকর পরিসংখ্যান হিসেবে থেকে গিয়েছিল। এবার কিউইদের ৮৪ রানের জুটি সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছে।

নিচে শতরানের নিচে ছয় উইকেট হারানোর পর সর্বোচ্চ স্কোরে পৌঁছানো দলগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো—

বছরদল৬ উইকেটে রানচূড়ান্ত স্কোরপ্রতিপক্ষভেন্যু
২০০৭দক্ষিণ আফ্রিকা৯৪১৫৪ইংল্যান্ডকেপটাউন
২০২১আফগানিস্তান৭৬১৪৭পাকিস্তানদুবাই
২০২২নামিবিয়া৯৩১৬৩/৭শ্রীলঙ্কা
২০২৬নিউ জিল্যান্ড৮৪১৬০+শ্রীলঙ্কাকলম্বো

পরিসংখ্যান বলছে, শতরানের নিচে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৬০-এর বেশি রান তুলতে পারা অত্যন্ত বিরল। নিউ জিল্যান্ডের এই কীর্তি শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও কৌশলগত প্রজ্ঞার দিক থেকেও প্রশংসনীয়।

ক্রিকেটে শেষ পর্যন্ত লড়াই করার মানসিকতাই যে পার্থক্য গড়ে দেয়, কলম্বোর এই ম্যাচ তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কিউইদের এই অনবদ্য প্রত্যাবর্তন বিশ্বকাপ ইতিহাসে বিশেষ অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Comment