নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানি বৃদ্ধি, জ্যোতিরা পাচ্ছেন অন্তত ৩ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য আর্থিক অগ্রগতি এনেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে এবারের আসরের মোট প্রাইজমানি দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৭ কোটি ৮০ লাখ টাকার সমতুল্য। এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটের পেশাদার কাঠামো ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

১৬ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছে ১২টি দল। আগে যেখানে ১০ দল নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো, এবার সেটি সম্প্রসারিত হয়ে আরও বিস্তৃত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রূপ নিয়েছে। আইসিসির মতে, এই সম্প্রসারণ নারী ক্রিকেটের বৈশ্বিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিযোগিতার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তবে মোট প্রাইজমানি বৃদ্ধি পেলেও শীর্ষ দুই অবস্থানের অর্থ পুরস্কারে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। চ্যাম্পিয়ন দল আগের মতোই পাবে ২৩ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা), আর রানার্সআপ দল পাবে ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার (প্রায় ১৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা)। অর্থাৎ শীর্ষ পর্যায়ের পুরস্কার কাঠামো স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, যা বড় দলগুলোর জন্য আর্থিক পূর্বানুমানযোগ্যতা নিশ্চিত করে।

সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া দুই দলও আগের মতোই ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার করে পাবে। তবে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো—প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দল নিশ্চিতভাবে অন্তত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা) করে পাবে। এটি নারী ক্রিকেটারদের জন্য একটি ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে, যা ছোট ও উন্নয়নশীল ক্রিকেট দেশগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

নিচে এবারের প্রাইজমানির কাঠামো তুলে ধরা হলো—

ধাপ/অবস্থানপ্রাইজমানি (মার্কিন ডলার)বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রায়)
চ্যাম্পিয়ন২,৩৪০,০০০২৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
রানার্সআপ১,১৭০,০০০১৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা
সেমিফাইনালিস্ট (২ দল)৬৭৫,০০০ করেপ্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ টাকা
অংশগ্রহণকারী দল২৪৭,৫০০ করেপ্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা
গ্রুপ পর্ব জয়৩১,১৫৪ করে (প্রতি জয়)পরিবর্তনশীল

গত আসরের তুলনায় এবারের মোট প্রাইজমানি বৃদ্ধি নারী ক্রিকেটের দ্রুত বাণিজ্যিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মোট প্রাইজমানি ছিল ৭৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৭ ডলার, যা এবারের আসরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটারদের আর্থিক স্বীকৃতি আরও দৃঢ় করবে এবং উদীয়মান ক্রিকেট দেশগুলোর জন্য বিশ্বমঞ্চে অংশগ্রহণকে আরও অর্থবহ করে তুলবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই ন্যূনতম আর্থিক নিশ্চয়তা থেকে দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে, যা ঘরোয়া নারী ক্রিকেট উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন নিগার সুলতানা জ্যোতি, এই টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত ৩ কোটি টাকার আর্থিক নিশ্চয়তা পাচ্ছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, বরং নারী ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আইসিসির এই নতুন প্রাইজমানি কাঠামো নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয়, প্রতিযোগিতামূলক এবং আর্থিকভাবে টেকসই করে তুলবে—যা নারী ক্রিকেটের বৈশ্বিক অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।

Leave a Comment