নারী টি২০ বিশ্বকাপ আম্পায়ার মনোনীত জেসি

বাংলাদেশের প্রসিদ্ধ ক্রিকেট আম্পায়ার সথিরা জাকির জেসি আন্তর্জাতিক মানের নারী টি২০ বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তিনি গত বছর ভারতের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন, এবং এবার ১২ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হওয়া নারী টি২০ বিশ্বকাপে তার দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হবে। এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় নারী ক্রিকেট দলগুলো অংশগ্রহণ করবে।

জেসির মনোনয়ন আন্তর্জাতিক স্তরে তার দ্রুত অগ্রগতি এবং উজ্জ্বল কর্মদক্ষতার প্রমাণ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উম্পায়ার বিভাগের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “জাতীয় দলের পাশাপাশি একজন আম্পায়ারের বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। জেসির অভিজ্ঞতা বড় আসরে রয়েছে, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা আশা করি তিনি টি২০ বিশ্বকাপে আরও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।”

জেসি, একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) স্বীকৃত আম্পায়ার, ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে আটটি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন। তার দায়িত্ব ভাগ হয়েছিল চারটি অন-ফিল্ড ম্যাচ, দুটি টেলিভিশন আম্পায়ার ম্যাচ এবং দুটি চতুর্থ আম্পায়ার ম্যাচ হিসেবে। এই নারী টি২০ বিশ্বকাপে তিনি আরও অন-ফিল্ড অভিজ্ঞতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের পরিচিতি আরও সুসংহত করার লক্ষ্য রাখছেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া অত্যন্ত সম্মানের। ধারাবাহিকভাবে দুটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা গর্বের বিষয়। ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে অন্যান্য নারী আম্পায়ারদের জন্যও সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। আমি জানি আইসিসি নারী এলিট উম্পায়ার প্যানেল গঠনের পরিকল্পনা করছে, আর এই ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো করার মাধ্যমে আমি সেই প্যানেলে নির্বাচিত হবার যোগ্য হতে পারি।”

টুর্নামেন্টে দুইটি গ্রুপে ছয়টি করে দল অংশগ্রহণ করবে:

গ্রুপ এগ্রুপ বি
বাংলাদেশওয়েস্ট ইন্ডিজ
ভারতইংল্যান্ড
পাকিস্তাননিউজিল্যান্ড
অস্ট্রেলিয়াশ্রীলঙ্কা
দক্ষিণ আফ্রিকাআয়ারল্যান্ড
নেদারল্যান্ডসস্কটল্যান্ড

গ্রুপ এ-তে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নেদারল্যান্ডস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, এবং গ্রুপ বি-তে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং স্কটল্যান্ড অংশগ্রহণ করবে।

জেসির মনোনয়ন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট আম্পায়ারদের জন্য নতুন প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করবে। এটি নারী ক্রিকেটে শুধু খেলার ক্ষেত্রেই নয়, প্রশাসনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের দায়িত্বেও নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির প্রতীক। তার অংশগ্রহণ ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি সমগ্র নারী ক্রিকেট সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

পুরো বিষয়টি বিবেচনা করলে বলা যায়, জেসির বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা এবং দায়িত্ববোধ নারী ক্রিকেটের বিকাশ ও আন্তর্জাতিক মানের উম্পায়ারিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্ত করবে। এটি স্থানীয় যুবক ও যুবতী ক্রিকেট আম্পায়ারদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং আগামী বছরগুলোতে আরও বেশি নারী আন্তর্জাতিক স্তরে দায়িত্ব পালন করবে।

এভাবে, নারী ক্রিকেটে দৃষ্টিকটু সাফল্য ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে জেসির নাম আলোচিত হতে যাচ্ছে।

Leave a Comment