ভারতের রাজধানী দিল্লির বায়ুদূষণ বহুদিন ধরেই জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ। এবার সেই উদ্বেগের সুরে কণ্ঠ মিলিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ক্রিকেটার জন্টি রোডস। তিনি দিল্লির বায়ুমানকে ‘হজম করা কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং তুলনা টেনেছেন ভারতের উপকূলীয় রাজ্য গোয়া’র সঙ্গে, যেখানে তিনি বর্তমানে পরিবারসহ বসবাস করছেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ রোডস লিখেছেন—
“আজ সন্ধ্যায় রাঁচি যাওয়ার পথে দিল্লি হয়ে যেতে হলো। এখানকার খারাপ বায়ুর মান প্রতি বারই সহ্য করা কঠিন। দক্ষিণ গোয়ার একটি ছোট জেলে গ্রামে থাকতে পেরে আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।”
সঙ্গে তিনি যোগ করেন হ্যাশট্যাগ #AQI ও #WhatToBeDone, যা পরিবেশসচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে লিখেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিল্লির বায়ুর মান: ভয়াবহ পরিস্থিতি
ভারতের কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (CPCB)–এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫ মিনিটে দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৩৪৬, যা ‘খুবই খারাপ’ মাত্রায় পড়ে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি ছিল আরও উদ্বেগজনক।
| এলাকা | AQI মাত্রা | বায়ুমানের স্তর |
|---|---|---|
| বাওয়ানা | ৪১২ | মারাত্মক |
| ওয়াজিরপুর | ৩৯৭ | অত্যন্ত খারাপ |
| জাহাঙ্গীরপুরী | ৩৯৪ | অত্যন্ত খারাপ |
| নেহরু নগর | ৩৮৬ | খারাপ |
দিনভর ঘন ধোঁয়াশায় ঢেকে ছিল দিল্লি। সকালের তাপমাত্রা নেমে যায় ১১.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। গত চার দিন ধরে শহরের বায়ুর মান ধারাবাহিকভাবে অবনতি ঘটেছে; সোমবারের গড় একিউআই ছিল ৩৭০, যা মৌসুমের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
দুপুরের দিকে বাতাসের গতি সামান্য বেড়ে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমলেও তা স্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সরকারের প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মঞ্জিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে শিল্পকারখানার নির্গমন নিয়ন্ত্রণ, জল স্প্রিংকলার স্থাপনসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আগের সরকারকেই দায়ী করে বলেন,
“দশ বছরের অবহেলা সাত মাসে ঠিক করা সম্ভব নয়। আগের সরকার বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ করেছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে নয়। আমরা পরিস্থিতি উন্নত করতে নিরলসভাবে কাজ করছি।”
দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে এর আগেও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, ক্রীড়াবিদ ও সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে এবার জন্টি রোডসের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের মন্তব্য আবারও আলোচনায় ফিরিয়ে এনেছে রাজধানীর দূষিত বাতাসের ভয়াবহ বাস্তবতা।
রোডসের এই মন্তব্য শুধু পরিবেশ সচেতনদের নয়, বরং সাধারণ মানুষকেও আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—স্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিকল্প নেই।
