টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খাদের কিনারায় অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটন আর রোমাঞ্চ হাত ধরাধরি করে চলে। তবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজ যা ঘটল, তা অঘটনের চেয়েও বড় কিছু। জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানের অভাবনীয় হারে এখন টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রবল শঙ্কায় পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া। ২০০৭ সালের প্রথম বিশ্বকাপে রিকি পন্টিংয়ের দলের জিম্বাবুয়ের কাছে হারের স্মৃতি থাকলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপট সেই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও বিপজ্জনক। কেপটাউনের সেই হার অস্ট্রেলিয়াকে সেমিফাইনালে ওঠা থেকে আটকাতে পারেনি, কিন্তু ২০২৬ সালের এই আসরে কলম্বোর হার তাদের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় করার উপক্রম করেছে।

‘বি’ গ্রুপের বর্তমান সমীকরণ ও পয়েন্ট তালিকা

গ্রুপ পর্বের পয়েন্ট তালিকার দিকে তাকালে অস্ট্রেলিয়ার জন্য শঙ্কার কালো মেঘ স্পষ্ট দেখা যায়। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম দুই ম্যাচের দুটিতেই জয় লাভ করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ধরাছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বিপরীতে, ২ ম্যাচে মাত্র একটি জয় নিয়ে ৩ নম্বরে পড়ে আছে অস্ট্রেলিয়া। সুপার এইটে উঠতে হলে তাদের পরের দুটি ম্যাচেই (শ্রীলঙ্কা ও ওমান) জিততে হবে। কিন্তু তাতেও পুরোপুরি নিশ্চয়তা নেই, কারণ নেট রান রেট এবং অন্য দলের ফলাফলের ওপর তাদের ভাগ্য ঝুলে থাকবে।

নিচে ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হলো:

দলম্যাচজয়হারপয়েন্টনেট রান রেট
১. শ্রীলঙ্কা+৩.১২৫
২. জিম্বাবুয়ে+১.৯৮৪
৩. অস্ট্রেলিয়া+১.১০০
৪. আয়ারল্যান্ড-২.১৭৫
৫. ওমান-৪.৩০৬

অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী মিশন ১৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এই ম্যাচটি কার্যত তাদের জন্য ‘ডু অর ডাই’ বা বাঁচা-মরার লড়াই। এই ম্যাচে পরাজিত হলে ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি কেবলই আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হতে পারে।


চোটের মিছিলে বিপর্যস্ত অস্ট্রেলীয় শিবির

অস্ট্রেলিয়ার এই পরাজয়ের চেয়েও বড় দুঃসংবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলোয়াড়দের একের পর এক চোট। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই দলের প্রধান দুই পেসার প্যাট কামিন্স এবং জস হ্যাজলউড ছিটকে যাওয়ায় বোলিং বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এরপর অনুশীলনের সময় চোট পান নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল মার্শ, যার ফলে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও তিনি মাঠে নামতে পারেননি। ট্রাভিস হেড দলের হাল ধরলেও নেতৃত্বের ঘাটতি মাঠে স্পষ্ট ছিল।

সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে আজ বোলিংয়ের সময়। নির্ভরযোগ্য অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ব্যথানাশক ঔষধ নিয়ে ৭ নম্বরে ব্যাটিং করতে নামলেও মাত্র ৬ রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা সাবেক অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চের মতে, অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে এমন এক নাজুক অবস্থায় আছে যে তারা “আর কোনো নতুন চোট সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না।” পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্টয়নিস গত কয়েক বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপের অন্যতম ভরসা ছিলেন। তার সম্ভাব্য অনুপস্থিতি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডারকে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে।

পরিসংখ্যান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরার পর থেকেই এই ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার দাপট কিছুটা ম্লান হয়েছে। ২০২২ ও ২০২৪ সালের আসরে তারা সেমিফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিল। এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেলেও জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ধসে পড়া তাদের বর্তমান দুর্বলতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। ম্যাট রেন শ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, স্টয়নিসের চোটের বিষয়ে মেডিকেল স্টাফদের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, পাল্লেকেলেতে লঙ্কান সিংহদের মুখোমুখি হওয়ার আগে অস্ট্রেলিয়া দল মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। একদিকে পয়েন্ট তালিকার জটিল সমীকরণ, অন্যদিকে দলের প্রধান তারকাদের ইনজুরি—অস্ট্রেলিয়া এখন সত্যিই বড় বিপদে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এখন সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment