টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমিরাতের ঐতিহাসিক জয় ও নতুন সমীকরণ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। দিল্লির ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘ডি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কানাডাকে ৫ উইকেটে পরাজিত করে টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল মরুর দেশটি। এটি আমিরাতের বিশ্বকাপ ইতিহাসে কেবল একটি জয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে তাদের ক্রমবর্ধমান শক্তির এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও আমিরাতের আধিপত্য

টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় কানাডা। তবে শুরু থেকেই তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে। বিশেষ করে জুনায়েদ সিদ্দিকের নিয়ন্ত্রিত ও ধারালো বোলিংয়ের সামনে কানাডার ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারছিলেন না। জুনায়েদ তার নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ৩৫ রান খরচ করে ৫টি মূল্যবান উইকেট তুলে নেন। কানাডার পক্ষে হার্শ ঠাকুর ৫০ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন এবং নবনীত ধালিওয়াল করেন ৩৪ রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় কানাডা।

১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সংযুক্ত আরব আমিরাতও শুরুতে কিছুটা বিপর্যয়ে পড়েছিল। তবে পঞ্চম উইকেট জুটিতে আর্যাংশ শর্মা ও শোয়াইব খানের অনবদ্য ৮৬ রানের জুটি ম্যাচটিকে আমিরাতের পকেটে নিয়ে আসে। শোয়াইব খান মাত্র ২৯ বলে ৫১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আউট হলেও, আর্যাংশ শর্মা ৫৩ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। দুই বল হাতে রেখেই ৫ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে আমিরাত।

নিচে গ্রুপ ‘ডি’-এর বর্তমান পয়েন্ট তালিকা ও পরিস্থিতির একটি চিত্র দেওয়া হলো:

দলের নামম্যাচজয়পরাজয়পয়েন্টনেট রান রেট
নিউজিল্যান্ড+১.৪৫০
দক্ষিণ আফ্রিকা+১.১১০
সংযুক্ত আরব আমিরাত-০.৬০০
কানাডা-১.২০০
আয়ারল্যান্ড-১.৫৫০

আরব আমিরাতের বিশ্বকাপ যাত্রা

সংযুক্ত আরব আমিরাত এবার তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে। এর আগে ২০১৪ এবং ২০২২ সালের আসরে তারা অংশ নিয়েছিল। ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নামিবিয়াকে ৭ রানে হারিয়ে তারা বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের মুখ দেখেছিল। দীর্ঘ বিরতির পর কানাডার বিপক্ষে আজকের এই জয়টি তাদের ক্রিকেটীয় আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে হারার পর এমন এক প্রত্যাবর্তন সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

অন্যদিকে, কানাডার জন্য এই হার ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৫৭ রানে হারের পর এই ম্যাচে জয় তাদের সুপার এইটের দৌড়ে টিকিয়ে রাখতে পারত। কিন্তু দিল্লির মন্থর উইকেটে আমিরাতের স্পিন ও পেস আক্রমণের সুষম মিশ্রণ তারা সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে।

গ্রুপ ‘ডি’-এর সমীকরণ

বর্তমানে গ্রুপ ‘ডি’-তে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ পয়েন্ট করে নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই জয় গ্রুপের লড়াইকে আরও জমজমাট করে তুলেছে। যদি আমিরাত তাদের পরবর্তী ম্যাচে বড় কোনো অঘটন ঘটাতে পারে, তবে পয়েন্ট টেবিলের ওলটপালট হওয়া অসম্ভব কিছু নয়। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে যেকোনো ছোট দল যেকোনো বড় দলকে হারিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে, আর আমিরাতের আজকের পারফরম্যান্স সেই বার্তাই দিচ্ছে।

দিল্লির দর্শকরা আজ এক টানটান উত্তেজনার ম্যাচ উপভোগ করেছেন। আর্যাংশ শর্মার ধৈর্যশীল ব্যাটিং এবং জুনায়েদ সিদ্দিকের ৫ উইকেট—সব মিলিয়ে আমিরাতের এই জয়টি ছিল একটি সম্পূর্ণ দলীয় প্রচেষ্টার ফসল।

Leave a Comment