বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করা এক ঘটনায় জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন উচ্চ আদালত। বিসিবির মতো একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের এই ধরণের নির্লিপ্ততা কেন আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি প্রেক্ষাপট
আজ ২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি আহমদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত একটি দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি শেষে আদালত বিসিবিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চুপ থাকা কেবল একজন ভুক্তভোগীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করে না, বরং এটি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, “স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মৌলিক দায়িত্ব—তা হোক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা, হাসপাতাল কিংবা ক্রীড়াঙ্গন। কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এমন অভিযোগগুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।” যদি প্রভাবশালী কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় থাকে, তবে ভবিষ্যতে অন্য ভুক্তভোগীরা আইনি প্রতিকার চাওয়ার সাহস হারিয়ে ফেলবেন, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
অভিযোগের পটভূমি
গত বছরের নভেম্বর মাসে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন জাহানারা আলম। দেশের ক্রিকেটের একজন আইকনিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ আসার পর ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে অভিযোগ দাখিলের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিসিবির পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত কমিটি গঠন বা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নজির না পাওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
ঘটনার সারসংক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযোগকারী | জাহানারা আলম (সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল)। |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | মনজুরুল ইসলাম (সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক ম্যানেজার)। |
| অভিযোগের ধরণ | যৌন হয়রানি ও অপেশাদার আচরণ। |
| বিসিবির ভূমিকা | দীর্ঘদিনের নীরবতা ও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। |
| হাইকোর্টের নির্দেশনা | বিসিবির নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল জারি। |
| আদালতের বেঞ্চ | বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার। |
কেন বিসিবির জবাবদিহিতা জরুরি?
ক্রীড়াঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিসিবির সংবিধিবদ্ধ দায়িত্ব। জাহানারা আলমের মতো একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যখন শোষণের অভিযোগ তোলেন, তখন তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অপরিহার্য। রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযোগের পর কর্তৃপক্ষ নিশ্চুপ থাকলে সেটি পরোক্ষভাবে অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়ার সামিল। হাইকোর্ট এখন বিসিবিকে নির্দেশ দিয়েছেন এই বিষয়ে তারা এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, তা বিস্তারিতভাবে আদালতকে অবহিত করতে।
এই রুল জারির মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নারী ও পুরুষ সকল খেলোয়াড়ের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ হলো। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি তাদের পূর্ববর্তী নিষ্ক্রিয়তার স্বপক্ষে কী ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয় কি না।
![জাহানারা আলমের অভিযোগ: বিসিবির নিষ্ক্রিয়তায় হাইকোর্টের রুল 1 জাহানারা আলমের অভিযোগ বিসিবির নিষ্ক্রিয়তায় হাইকোর্টের রুল 1 Cricket Gurukul [ ক্রিকেট গুরুকুল ] GOLN](https://cricketgoln.com/wp-content/uploads/2026/02/জাহানারা-আলমের-অভিযোগ-বিসিবির-নিষ্ক্রিয়তায়-হাইকোর্টের-রুল-1.jpg)