২০১১ সালের পর দীর্ঘ বিরতি শেষে প্রথম দ্বিপাক্ষিক একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ দল ভালো সূচনার ইঙ্গিত দিলেও পরবর্তী সময়ে দ্রুত তিন টপ অর্ডার ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের কারণে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইনিংসের ২৮ ওভার শেষে বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করেছে।
উদ্বোধনী বিপর্যয় ও শান্ত-তামিমের প্রতিরোধ
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের। ওপেনার সাইফ হাসান অস্ট্রেলীয় বোলার নাথান এলিসের প্রথম বলেই চার মেরে ইতিবাচক সূচনা করলেও পরের বলেই আউট হন। অফ স্টাম্পের কিছুটা ভেতরের দিকে আসা বলটিতে সাইফের ব্যাটের টাইমিং নিখুঁত না হওয়ায় বলটি ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার মার্নাস লাবুশেনের হাতে জমা হয়। সাইফ হাসান ৫টি বল মোকাবেলা করে ৫ রান করে বিদায় নেন।
সাইফ হাসানের দ্রুত বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি মাঠে নেমেই প্রথম বলে চার মারেন এবং পরের বলেই দ্বিতীয় স্লিপে মার্নাস লাবুশেনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তবে এবার লাবুশেনের হাত থেকে বল ফসকে যাওয়ায় শান্ত নতুন জীবন পান। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত মিলে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা দুজন দ্বিতীয় উইকেটে ৯১টি বল মোকাবেলা করে ৯৬ রানের একটি চমৎকার ও কার্যকরী জুটি উপহার দেন। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ দল শত রানের কোটা অতিক্রম করে।
তানজিদের অর্ধশতক ও দ্রুত উইকেটের পতন
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ধারাবাহিক ফর্মে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম আজকেও দলের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং প্রদর্শন করে মাত্র ৪১টি বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তবে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর তিনি নিজের ইনিংসটিকে বেশি দূর টেনে নিতে পারেননি। বোলার নাথান এলিসের একটি গতি পরিবর্তিত ধীরগতির বলে শট খেলতে গিয়ে মিড অফে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার জেভিয়ার বার্টলেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি। আউট হওয়ার পূর্বে তানজিদ ৪৪টি বল খেলে ৭টি চার এবং ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রান সংগ্রহ করেন।
তানজিদ হাসানের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন ফর্মে থাকা ব্যাটার লিটন দাস। তবে তিনি আজ দলের হাল ধরতে ব্যর্থ হন এবং বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। লিটনের দ্রুত বিদায়ের পর থিতু হওয়া ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্তও সাজঘরে ফিরে যান। এর ফলে ভালো অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের টপ অর্ডার মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়ে এবং দল চাপে পড়ে যায়।
ম্যাচের ২৮ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্সের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান নিচে ছকের সাহায্যে তুলে ধরা হলো:
| ব্যাটারের নাম | আউটের ধরন ও সংশ্লিষ্ট ফিল্ডার/বোলার | বলের সংখ্যা | চারের সংখ্যা | ছক্কার সংখ্যা | সংগৃহীত রান |
| সাইফ হাসান | ক্যাচ: মার্নাস লাবুশেন, বোলার: নাথান এলিস | ৫ | ১ | ০ | ৫ |
| তানজিদ হাসান তামিম | ক্যাচ: জেভিয়ার বার্টলেট, বোলার: নাথান এলিস | ৪৪ | ৭ | ১ | ৫৪ |
| নাজমুল হোসেন শান্ত | আউট (বিস্তারিত তথ্য নেই) | তথ্য নেই | তথ্য নেই | তথ্য নেই | তথ্য নেই (উইকেট পতন) |
| লিটন দাস | আউট (বিস্তারিত তথ্য নেই) | তথ্য নেই | তথ্য নেই | তথ্য নেই | তথ্য নেই (উইকেট পতন) |
| সর্বমোট দলীয় সংগ্রহ | ৪ উইকেটের বিনিময়ে (২৮ ওভার শেষে) | ১৬৮ | তথ্য নেই | তথ্য নেই | ১৫৫ |
ম্যাচের বর্তমান পরিস্থিতি
ইনিংসের শুরুতে সাইফ হাসানের বিদায়ের পর শান্ত ও তানজিদের প্রতিরোধ বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি এনে দিয়েছিল। কিন্তু মধ্যভাগের ওভারগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনের কারণে স্বাগতিক দল ব্যাকফুটে চলে গেছে। তানজিদ হাসানের ৫৪ রান এবং শান্তর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পরও চার উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশ দল এখন বড় সংগ্রহের লক্ষ্যে নিজেদের ইনিংস পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
