খেলা শুরু, শেষ ও বিরতি । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় খেলা শুরু, শেষ ও বিরতি।

খেলা শুরু, শেষ ও বিরতি

 

খেলা শুরু, শেষ ও বিরতি

 

১৭ নং নিয়ন

মধ্যাহ্ন ভোজন ও চা পানের জন্যে নির্ধারিত সময় ছাড়া প্রত্যেক ইনিংস শেষ হলে অপর ইনিংস শুরু করার জন্যে ১০ (দশ) মিনিট সময় দেবেন আম্পায়ার, আর একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে অপর ব্যাটসম্যানকে দুই মিনিটের মধ্যে মাঠে আসতে হবে। প্রতি বিরতির পর ইনিংসের সূচনায় বা প্রতি দিনের খেলা শুরুর সময় বোলারের দিকের আম্পায়ার ‘প্লে’ বলবেন; কোন দল যদি খেলতে না চায় তবে খেলা শেষ হয়ে যাবে এবং সেই দল পরাজিত হবে। আম্পায়ার ‘প্লে’ বলার পর আর ‘ট্রায়াল’ বল দেওয়া যাবে না। একজন ব্যাটসম্যান আউট হলে অপর জন না আসা পর্যন্ত কেউ ব্যাট করতে পারবে না ।

 

দ্রষ্টব্য

(ক) আম্পায়ারকে ‘প্লে’ কথাটা এমন ভাবে বলতে হবে যেন হুই দলই ভালভাবে শুনতে পায় ৷

কোন দল না খেললে অপর দলকে বিজয়ী বলে ঘোষণা করার আগে আম্পায়ার নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় বিবেচনা করে দেখবেন :

(১) প্লে কথাটা আম্পায়ার এমনভাবে বলবেন যাতে দু’দলই বুঝতে পারে যে খেলা শুরু হতে চলেছে।

(২) আবেদন জানান হয়েছে ৷

(৩) নিশ্চিত হতে হবে যে অপর দল খেলবে না বা খেলতে চায় না ।

(খ) আউট ব্যাটসম্যান মাঠ ত্যাগ করার আগে অথবা সঙ্গে সঙ্গে যাতে নতুন ব্যাটসম্যান মাঠে যায় সেদিকে অধিনায়ক দৃষ্টি রাখবেন ।

(গ) আগে থেকে ঠিক করা না হলে মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি কখনই ৪৫ মিনিটের বেশী হতে পারবে না । শেষ উইকেট পড়ার দু’মিনিটের মধ্যে যদি মধ্যাহ্ন ভোজ অথবা চা’-এর বিরতি শুরু করার সময় হয়, তাহ’লেও, খেলা ঠিক সময়েই হবে, অর্থাৎ বিরতির পর শুরু হবে। সেক্ষেত্রে ইনিংস শুরুর আগের দশ মিনিট অতিরিক্ত দেওয়া হবে না ।

(ঘ) ম্যাচ খেলার মধ্যে কোন সময়ই পিচের উপর বোলিং প্র্যাকটিস করা যাবে না ।

১৮ নং নিয়ম

প্রতিদিন বিরতির সময় বা খেলার শেষে আম্পায়ার ‘টাইম’ বলবেন এবং সেই সঙ্গে স্টাম্পের উপর থেকে বেল তুলে নেবেন। যদি বিরতি বা খেলা শেষ হবার আগে অল্প কিছু সময় থাকে তাহ’লে নতুন ওভার শুরু হবে এবং ওভারের মধ্যে যদি কোন ব্যাটসম্যান আউট বা আহত হয়ে মাঠ ত্যাগ করেন তা’হলে খেলাও সেদিনের মত শেষ হবে। তবে খেলার শেষ দিন দুই অধিনায়কের যে কোন এক জনের অনুরোধে আম্পায়ার ওভার শেষ পর্যন্ত বোলারকে বল করতে দিতে পারেন সময় উত্তীর্ণ হয়ে গেলেও ।

 

খেলা শুরু, শেষ ও বিরতি

 

বিশেষ মতামত

(ক) ৭ই মে ১৯৫৮ তারিখের সংশোধন ও পরিবর্ধন : শেষ ওভারের মধ্যে যদি কোন কারণে খেলোয়াড়রা মাঠ ত্যাগ করে যান ( আবহাওয়া, আলোর স্বল্পতা ইত্যাদির জন্য) তা’ হলেও আম্পায়ার ‘টাইম’ ঘোষণা করবেন। খেলার শেষ দিনের শেষ ওভারে এইরূপ হলে খেলা পুনরায় শুরু হবে না এবং খেলা সমাপ্ত বলে পরিগণিত হবে ।

(খ) কোন বিরতি কিংবা খেলার শেষ ওভার শুরু হবে যদি স্কোয়ার লেগের দিকে দাড়ানো আম্পায়ার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোলারের দিককার উইকেটের পেছনে নিজের স্থানে এসে দাড়াতে পারেন ।
১৯৬৭–৬৮ সালের পরীক্ষামূলক নিয়মানুসারে কোন ওভারের শেষ বলে কোন ব্যাটসম্যান আউট হয় বা অবসর নেয় এবং খেলা শেষের দু’ মিনিটের কম সময় থাকে এবং আম্পায়াররা নিজের নিজের স্থানে আসতে পারেন তা’হলে আর একটি ওভার শুরু করা চলতে পারে।

( ফিডিং পক্ষের সুবিধের জন্যে এই মরশুম থেকে পরীক্ষামূলক – ভাবে এই নিয়ম চালু হচ্ছে । )

ব্যাটসম্যানদের বল মেরে রান নেওয়াকে স্কোরিং বা স্কোর করা বলে । সোজা কথায় রানকে স্কোর বলা হয়। প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের আলাদা আলাদা রান সংখ্যার সঙ্গে অতিরিক্ত রানগুলি যোগ করে দলের মোট রান বা স্কোর গোনা হয়। প্রত্যেকটি রান হবার সঙ্গে সঙ্গেই আম্পায়ার ইশারা দিয়ে স্কোরারকে রানের কথা জানিয়ে দেন এবং স্কোরার স্কোর বুকে সেই রান লিখে রাখেন।

Leave a Comment