আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ক্রিকেট ম্যাচের বল ।
ক্রিকেট ম্যাচের বল

৫ নং নিয়ম
ক্রিকেট ম্যাচ খেলার বলের ওজন ৫ই আউন্সের কম ও ৫% আউন্সের বেশী হওয়া চলবে না। পরিধিতে ৮১৩ ইঞ্চির কম ও ৯ ইঞ্চির বেশী হবে না। পূর্ব শর্ত ব্যতিরেকে অধিনায়করা প্রতি ইনিংস-এর শুরুতে নতুন বল চাইতে পারেন । বল হারিয়ে গেলে কিংবা খেলার অনুপযুক্ত হলে, আম্পায়ার আর একটা বল দেবেন। কিন্তু বল পরিবর্তন করা হলে ব্যাটম্যানকে সেই বিষয়ে জানিয়ে দিতে হবে।
দ্রষ্টব্য
(ক) প্রথম শ্রেণীর খেলা হলে খেলা শুরু হবার আগেই আম্পায়াররা এবং অধিনায়করা খেলার বল পরীক্ষা করে নেবেন। প্রতি ইনিংস-এর শুরুতে অধিনায়ক নতুন বল চাইতে পারেন ।
(খ) প্রথম শ্রেণীর খেলায় নির্দিষ্ট সংখ্যক ওভার হয়ে গেলে ফিডিং পক্ষের অধিনায়ক নতুন বল চাইতে পারেন। কতো ওভারের পর নতুন বল পাওয়া যাবে তা ঠিক করবে যে দেশে খেলা হচ্ছে সেই দেশের ক্রিকেট সংস্থা। প্রথম শ্রেণীর খেলায় ফিডিং দল ৭৫ ওভার (৬ বলে ) খেলার পর নতুন বল চাইতে পারেন। তবে তা নিতে হবে ৭৫ ওভারের পরে ও ৮৫ ওভারের আগেই। আর ৮ বলের ওভারের ক্ষেত্রে তা হবে ৫৫ ওভারের পরে ও ৬৫ ওভারের আগেই ।
(গ) কোন বল খেলার অনুপযুক্ত হলে বা হারিয়ে গেলে, আম্পায়ার যে বল খেলার জন্যে দেবেন, সেটাও হারান বা অনুপযুক্ত বলের মতই ব্যবহৃত হওয়ার দরকার ।
বিশেষ মতামত
প্রথম শ্রেণীর খেলায় ৭৫ ওভারের পরও নতুন বল দেওয়ার রেওয়াজ চালু আছে । ছোটরা ৪ আউন্স ওজনের বলে খেলবে। ‘উইমেন্স ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন’ ৫ আউন্স ওজনের বল মেয়েদের ক্রিকেট খেলায় ব্যবহারের জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন। ক্রিকেট মাঠে এবং মাঠের বাইরে আমরা হামেশাই ক্রিকেট ব্যাট দেখি । ছোট-বড় নানা মাপের ব্যাট। তবে ক্রিকেট ব্যাট চওড়ায় সওয়া চার ইঞ্চি আর লম্বায় আটত্রিশ ইঞ্চির বেশী হতে পারে না। কিন্তু ব্যাটের এই অনির্দিষ্ট মাপ একদিনে হয়নি । এর পেছনে আছে অনেক ঘটনা। সেই সব ঘটনা আজ ইতিহাস।
তবে বিলেতের চারটেসী দলের খেলোয়াড় হোয়াইট সাহেবের নাম ক্রিকেট ব্যাটের সঙ্গে চিরকাল জড়িয়ে থাকবে। হোয়াইট যে মজার কাগুটা করেছিলেন, সেই গল্পই বলছি। ১৭৭১ সালে বিলেতের হাম্বল্ডন ক্লাব আর চারটেসী দলের মধ্যে ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হচ্ছে। চারটেসী দলের ব্যাটিং। হোয়াইটের পালা এলে তিনি দরজার মত চওড়া একখানা ব্যাট নিয়ে এসে দাঁড়ালেন। চওড়া ব্যাটের আড়ালে উইকেঢ ঢাকা পড়ে গেছে। বোলাররা সারাদিন আপ্রাণ চেষ্টা করলেন । কিন্তু হোয়াইটকে আউট করা সম্ভব হলো না ।

আজকালকার এম. সি. সি.’র মত হাম্বল্ডন ক্লাব ছিলো সেকালের ক্রিকেট খেলার হর্তা-কর্তা বিধাতা। তারা দেখলেন এ বড় তাজ্জব ব্যাপার। এর বিহিত না করলে কেউ হয়তো কোন দিন একটা আস্ত দরজা ভেঙ্গে নিয়ে ব্যাট করতে আসৰে। তাই এর বিহিত করতে তারা উঠে পড়ে লেগে গেলেন। ঠিক হলো ক্রিকেট খেলার ব্যাট কোন মতেই সওয়া চার ইঞ্চির বেশী চওড়া করা যাবে না। তারা একটা ঐ মাপের লোহার ফ্রেম বানালেন । ঐ ফ্রেমে মাপা না হলে সে ব্যাটে খেলতে দেওয়া হতো না। ব্যাটের মাপ ঠিক হয়ে গেলো। বেড়ে গেলো একটা নতুন নিয়ম ।
