ক্রিকেট পিচ । ক্রিকেট খেলার আইন কানুন

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয় ক্রিকেট পিচ ।

ক্রিকেট পিচ

 

৭নং নিম্নম

দুই দিকের বোলিং ক্রীজের মধ্যের জায়গাকে পিচ বলা হয়। দুই উইকেটের কেন্দ্র বিন্দুর সংযোগ রেখার দুদিকেই পাঁচ ফিট করে চওড়া হবে। টসের আগে পর্যন্ত পিচের প্রস্তুতি ও তার পরিচালনার ভার থাকে মাঠের কর্তৃপক্ষের হাতে। টসের পর আম্পায়াররা পিচ পরিচালনার ভার এবং পিচের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন । খেলা চলার সময় পিচ পরিবর্তন করা চলবে না। কিন্তু পিচ যদি একেবারেই খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে তাহলে দু’দলের অধিনায়কের মত নিয়ে পিচ পরিবর্তন করা চলতে পারে।

 

বিশেষ মতামত

পিচ ২২ গজ দৈর্ঘ্যে আর ‘টার্ফ উইকেট’ হলে ১০ ফুট চওড়া হওয়ার দরকার । ছোটদের খেলা হলে পিচ ছোট করা চলবে। উইকেট কথাটা শুনলেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে তিনটি কাঠের ডাঙার ছবি। যাকে স্টাম্প বলে। তার মাথায় দু’টি বেল। এই উইকেটের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাটসম্যান ব্যাট করে আর অপর প্রান্তের উইকেটের পাশ থেকে বোলার করে বল ।

কিন্তু ক্রিকেট খেলার প্রথমাবস্থায় অর্থাৎ ক্রিকেট খেলা যখন হাঁটি-হাঁটি পা-পা করছিলো তখনকার উইকেটগুলো ছিলো একটু অন্য ধরনের। তখন স্টাম্প থাকতো মাত্র দু’টি, আর স্টাম্প দু’টির মাথায় থাকতো একটি বেল। হু’স্টাম্পের মধ্যিখানে বেশ চওড়া খানিকটা ফাক ।

১৭৭৫-৭৬ সালের কোন এক সময় বিলাতের আর্টিলারী মাঠে হ্যাম্বল্ডন ক্লাবের সঙ্গে ম্যাচ হচ্ছিলো কেন্ট ক্রিকেট দলের। কেন্ট দল সুযোগ পেয়েছে জেতার। হ্যাম্বল্ডন ক্লাবের শেষ ব্যাটসম্যান ব্যাট করতে এসেছে, তবে তখনও তারা চৌদ্দ রানে পিছিয়ে। কেন্ট দলে ভালো বোলার আছে, সুতরাং তাদের জেতার সম্ভাবনা খুব।

 

কেন্টের ফাস্ট বোলার স্টিভেন্স জয়লাভের অনুপ্রেরণায় খুব জোরে বল করতে শুরু করলেন। স্টিভেন্সের বল যেমন জোরালো তেমনি সোজা। কিন্তু স্টিভেন্সের মারাত্মক সোজা বলগুলো পরপর ক’বার দু’স্টাম্পের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে গেলো । না পড়ে স্টাম্প, না পড়ছে বেল। পর পর তিনবার এই রকম হলো ৷ কিন্তু ব্যাটসম্যানকে আউট করা গেলো না। শেষ পর্যন্ত ঐ চৌদ্দ রান করে হাম্বল্ডন ক্লাব হারিয়ে দিলো কেন্ট দলকে ।

বোলার বেচারাদের দুঃখ দেখে শেষ পর্যন্ত টনক নড়লো কর্তৃপক্ষের। সত্যিই তো! সব থেকে ভালো বলগুলো চলে গেলো দু’স্টাম্পের ফাঁক দিয়ে। তাই বোলার বেচারার ভাগ্যে আর উইকেট জুটছে না। ভালো বলগুলো যাচ্ছে বিফলে। সেই তখন থেকে চালু হলো তিনটি স্টাম্প আর ছ’বেলের উইকেট ।

Leave a Comment