এড স্মিথ: লর্ডসের ‘ব্র্যান্ড পাওয়ার’ ক্রিকেটের প্রবেশপথ প্রশস্ত করতে পারে

এড স্মিথ, সদ্য নিযুক্ত মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) এর প্রেসিডেন্ট, তাঁর নতুন ভূমিকা নিয়ে এক大胆 মন্তব্য করেছেন। স্মিথ বলেন, “আমি অনেক বছর ধরে স্পোর্ট নিয়ে ভাবতে ভাবতে কখনো কখনো নিশ্চিত হইনি, এটা কি বেশি হয়ে যাচ্ছে না? আমি কি অন্য কিছু করা উচিত ছিল?” তবে, গত ১৫ বছরে স্মিথ অনুভব করেছেন যে, স্পোর্ট সত্যিই এখন আগে কখনো ছিল না এমন গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে এটি মানুষকে একত্রিত করার এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য।

স্মিথের নতুন দায়িত্ব এমসিসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে, যেটি সাধারণত একটি সাংবিধানিক পদ, তা অনেকের কাছে বেশ প্রতীকী মনে হতে পারে। পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের মধ্যে রয়েছেন প্রিন্স ফিলিপ, ডিউক অফ এডিনবরা, যিনি ১৯৪৯ এবং ১৯৭৪ সালে দুটি মেয়াদে এই পদে ছিলেন। তবে স্মিথ নিজের ভূমিকায় যেভাবে ক্লাবকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, সেটি এমসিসির ঐতিহ্য এবং আধুনিকীকরণকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

এমসিসি প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্মিথের লক্ষ্য একেবারে স্পষ্ট: লর্ডসকে আরো অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আধুনিক করে তোলা। সামনের বছরগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুটি বড় উদ্যোগ তার নেতৃত্বে আসতে চলেছে, যা ইংলিশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত বদলে দিতে পারে।

প্রথমত, শতকের (Hundred) আর্থিক সাফল্য। এমসিসি-র অংশীদার লন্ডন স্পিরিট ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ২৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যায়নে আছড়ে পড়েছে, যা লর্ডসের কেন্দ্রীয় ভূমিকা এবং ইংলিশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত উন্নতির প্রমাণ। শতকের খ্যাতি এবং ঐতিহ্য লর্ডসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে, এবং এটি দেশের ক্রিকেটকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে।

এদিকে, সারা দেশে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ক্রিকেটের প্রাথমিক স্তরে আরও প্রভাব বিস্তার করার জন্য, ২০২৪ সালে ‘বার্কলেস নাইট-স্টোকস কাপ’ নামে একটি নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হতে যাচ্ছে, যা স্টেট স্কুলগুলোকে নিয়ে আয়োজন করা হবে। এই প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যে ১,০৮৪টি দল এবং ৭৫০টি স্কুলের কাছ থেকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং সেপ্টেম্বরে লর্ডসের মাঠে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। স্মিথ এই উদ্যোগের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী এবং নিশ্চিত করতে চান যে এটি সফলভাবে চালু হবে।

লর্ডসের প্রভাব: ক্রিকেটের জন্য একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী শক্তি

এড স্মিথ তাঁর নতুন ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, “আমি ‘ব্র্যান্ড’ শব্দটি পছন্দ করি না, তবে লর্ডসের একটি বিশেষ ধরনের শক্তি রয়েছে, যা ক্রিকেটের প্রবেশপথ প্রশস্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। আমি চাই এই শক্তিটি ভালো কাজের জন্য ব্যবহার করা হোক।”

তিনি এও বলেন, তাঁর ভূমিকা শুধুমাত্র উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা নয়, যদিও তিনি লর্ডসে আর্ন্তজাতিক উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার গুরুত্ব স্বীকার করেন, যারা লন্ডন স্পিরিট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ১৪৫ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ করেছেন। তবে, তাঁর আসল লক্ষ্য হলো লর্ডসের মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়ানো।

এড স্মিথের প্রাসঙ্গিকতা এবং উদ্যম দেখতে গেলে, এটি কেবল লর্ডসে বসে থাকা নয়, বরং ক্লাবের সামাজিক দায়িত্ব পালন করা। তিনি বিশ্বাস করেন যে, লর্ডস তার ঐতিহ্য এবং বিশেষ অবস্থান ব্যবহার করে, নতুন দর্শক এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে ক্রিকেট পৌঁছে দিতে সক্ষম হতে পারে।

গ্রাউন্ড লেভেলে ক্রিকেটের উন্নতি: স্মিথের পারিবারিক অভিজ্ঞতা

স্মিথের গ্রাউন্ড লেভেলে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার পেছনে ব্যক্তিগত প্রেরণা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি শিক্ষক পরিবার থেকে এসেছি, আমার দুই দাদা ছিলেন স্টেট স্কুলের প্রধান শিক্ষক। আমার মায়ের বাবা ১৯৫৩ সালে ব্রিস্টলের বাইরে একটি মাধ্যমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।” স্মিথ তার পারিবারিক ইতিহাসের কথা উল্লেখ করে বলেন, খেলাধুলা একটি সম্প্রদায়ের গঠন এবং পরিচিতি তৈরি করার শক্তি রাখে। তিনি স্পষ্টতই বিশ্বাস করেন যে, ক্রিকেটই হচ্ছে সেই মাধ্যম যা মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, “আজকের দিনে, যেখানে স্মার্টফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া আধিপত্য বিস্তার করেছে, সেখানে এই সময়টি আমাদের জন্য সুযোগের। খেলাধুলা হল সেই পথ, যার মাধ্যমে আমরা পুনরায় নিজেদের আবিষ্কার করতে পারি।”

এড স্মিথের কাছে, তাঁর নিজস্ব সন্তানদের স্কুলে ক্রিকেটে আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদী যে, এমন উদ্যোগগুলো সারা দেশে আরও বড় মাত্রায় পৌঁছাবে।

লর্ডসের সঙ্গে যুক্ত থাকার নতুন সুযোগ

এড স্মিথের নেতৃত্বে এমসিসি নতুন মাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, “এটি কেবল একক উদ্যোগ নয়, আমাদের এমন আরও কাজ করতে হবে যেখানে একাধিক পক্ষের সাহায্য দরকার। তবে, এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং আমরা সবাই এর ওপর কাজ করতে যাচ্ছি।”

স্মিথ আরও বলেন, “এটি প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ, তবে যদি সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হয়, তাহলে ক্রিকেট খেলাকে রাষ্ট্রীয় স্কুলগুলোতে আরও সহজলভ্য এবং জনপ্রিয় করা সম্ভব।”

Leave a Comment