আসিফ আকবর ব্যাখ্যা করলেন, কেন বাংলাদেশ দল ভারত যাবে না

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা এবার ব্যথিত হলেও, নিরাপত্তাজনিত কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ স্থগিত হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আসিফ আকবর, যিনি বলেছেন, সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে ৩ জানুয়ারি, যখন মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্স বাদ দেয়। এরপর থেকেই নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে নিরাপত্তা বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শেষে।

বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর বলেন, “গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের নিজস্ব প্রশ্ন ছিল খেলোয়াড়, সাংবাদিক, দর্শক বা ক্রীড়া কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। সেখানে কোনো নাশকতামূলক ঘটনা ঘটলে তার দায় আমাদের নিতে হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্ত।”

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘ ২১ দিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)-র সঙ্গে আলোচনার পরেও, ভারতের নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কা বিবেচনা করে দল পাঠানো হয়নি। চারটি মন্ত্রণালয়—তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া, আইন—একত্রিত হয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে।

আইসিসি বাংলাদেশের স্থলে স্কটল্যান্ডকে নতুন সূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ে স্কটল্যান্ড ১৪ নম্বরে অবস্থান করছে। ‘সি’ গ্রুপে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে নতুনদমদার ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

নিচের টেবিলে মূল তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
সিদ্ধান্তকারকবাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি
নিরাপত্তা ভিত্তিগোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী ঝুঁকি
আইসিসি সিদ্ধান্তবাংলাদেশ না পাঠিয়ে স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্ত
প্রভাবিত দলবাংলাদেশ (অংশগ্রহণ স্থগিত)
স্কটল্যান্ড গ্রুপ‘সি’ গ্রুপ: স্কটল্যান্ড, ইতালি, নেপাল, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ
আলোচনায় থাকা মন্ত্রণালয়তথ্য, পররাষ্ট্র, ক্রীড়া, আইন

আসিফ আকবর আরও বলেন, “আইসিসি একটি সংস্থা, বিসিবিও সংস্থা। তবে রাষ্ট্র যখন নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলে, তখন সব দিক বিবেচনা করা হয়। আমরা ঝুঁকি নিতে পারি না। এটি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত।”

বাংলাদেশের ফ্যানরা এবার তাদের প্রিয় ক্রিকেটারদের ভারতীয় মাটিতে খেলার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও, নিরাপত্তার কারণে এই কঠিন সিদ্ধান্তকে যথার্থ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Comment