আইসিসি চার্টার বিতরণে অসমতা, ক্ষুব্ধ দলগুলো

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের শেষপর্যায়ে কিছু দলের দ্রুত দেশে ফেরা এবং অন্যদের দীর্ঘ অপেক্ষার ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ICC)–এর ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট হয়ে পড়েছে, যাদের মতে, কিছু দলের প্রভাব অন্যদের তুলনায় বেশি।

ঘটনাবলী ও দলগুলোর ফিরে ফেরা সময়সূচি

বিশ্বকাপের ম্যাচ শেষে দলগুলোর দেশে ফেরা সময়সূচি ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়েছে। ভারতের সেমিফাইনাল হারের দুই দিনের মধ্যেই ইংল্যান্ডের খেলোয়াড় হ্যারি ব্রুকরা চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরে গেছেন। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ফেরার ব্যবস্থা এখনও শেষ হয়নি।

দেশ / দলটুর্নামেন্ট থেকে বিদায়চার্টার্ড ফ্লাইটের তারিখপ্রতীক্ষার দিন
ইংল্যান্ড৩ মার্চ৭ মার্চ০ দিন
ওয়েস্ট ইন্ডিজ১ মার্চ৮ মার্চ৭ দিন
দক্ষিণ আফ্রিকা৪ মার্চ৮ মার্চ (আশা)৪ দিন
জিম্বাবুয়েসুপার এইট থেকে বাদভারত ছাড়ার পর কয়েক দিন অপেক্ষাকয়েক দিন

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যান ডেভিড মিলার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “মজার ব্যাপার হচ্ছে, ইংল্যান্ড দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকার পর বাদ পড়েও আজ রাতে চার্টার্ড ফ্লাইটে বাড়ি ফিরছে। অথচ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও দক্ষিণ আফ্রিকা এখনো কলকাতায় অপেক্ষা করছে।”

ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামিও মন্তব্যে যোগ করেছেন, “যাঁরা পেছনে আছেন, তাঁরা যেন শুনতে পান, সে জন্য দয়া করে আর একটু জোরে বলুন।” মিলার তার পোস্টে আরও তীব্র ভাষায় বলেছেন, “ইংল্যান্ডের জন্য চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে আইসিসির খুব একটা সময় লাগে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সাত দিন ধরে অপেক্ষায় আছে, দক্ষিণ আফ্রিকা চার দিন হলো। আমরা এখনো অপেক্ষায়।”

দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটকিপার কুইন্টন ডি ককও ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিখেছেন, “আইসিসি, আমরা এখনো কিছুই জানতে পারিনি। ইংল্যান্ড আমাদের আগে চলে যাচ্ছে? কিছু দলের প্রভাব অন্যদের তুলনায় বেশি, এটি অদ্ভুত।”

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেছেন, “সব দলের প্রতি সমান আচরণ করা উচিত। আইসিসির টেবিলে আপনি বেশি শক্তিশালী বলেই আলাদা সুবিধা পাবেন, এটা হওয়া উচিত নয়।”

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলের দ্রুত দেশে ফেরার ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কিত পরিস্থিতি, এবং আকাশপথে বিধিনিষেধের কারণে আরও জটিল হয়ে পড়েছে। এই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে, যেখানে ভক্ত ও বিশ্লেষকরা আইসিসির নীতি ও ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

সংক্ষেপে, আইসিসি-র ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা ও শক্তিশালী দলের জন্য অগ্রাধিকার প্রদানের অভিযোগ ক্রিকেট মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে সব দলের সঙ্গে সমান আচরণ নিশ্চিত করতে আইসিসি কি পদক্ষেপ নেবে।

Leave a Comment