অস্ট্রেলিয়ায় বর্ণবাদের শিকার খাজার পরিবার: র‍্যাচেলের প্রতিবাদী অবস্থান

সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ও নৃশংস হামলা পুরো অস্ট্রেলীয় সমাজকে এক গভীর শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। এই জাতীয় দুর্যোগের মুহূর্তে যেখানে মানুষের পারস্পরিক সহমর্মিতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে একদল মানুষের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে বর্ণবাদের চরম বহিঃপ্রকাশ। এই পরিস্থিতির নিষ্ঠুর শিকার হয়েছেন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ওপেনার উসমান খাজা এবং তাঁর পরিবার। বিশেষ করে খাজার দুই শিশুকন্যার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধেয়ে আসা ঘৃণ্য মন্তব্য পুরো বিশ্বকে হতবাক করেছে।

উসমান খাজার স্ত্রী র‍্যাচেল খাজা সম্প্রতি তাঁদের পরিবারের ওপর চলা এই অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। বন্ডাই হামলার পর অস্ট্রেলিয়ায় নতুন করে জেগে ওঠা ‘ইসলামফোবিয়া’ বা ইসলামভীতির কারণে তাঁদের নিষ্পাপ সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। র‍্যাচেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা কিছু অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্যের স্ক্রিনশট প্রকাশ করে বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছেন যে, একজন সফল ক্রিকেটারের পরিবারকেও কী পরিমাণ মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

নিচে উসমান খাজা ও তাঁর পরিবারের ওপর চলমান বর্ণবাদী সংকটের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো:

খাজা পরিবারের ওপর সাইবার বুলিং ও বর্ণবাদী আক্রমণের তথ্যসূত্র

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত ও প্রভাব
আক্রমণের কারণবন্ডাই হামলার প্রেক্ষাপটে ছড়ানো ইসলামভীতি ও বর্ণবাদ।
আক্রান্ত সদস্যউসমান খাজা, স্ত্রী র‍্যাচেল এবং তাঁদের দুই শিশু কন্যা।
আক্রমণের মাধ্যমফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
র‍্যাচেলের প্রতিক্রিয়াবর্ণবাদী বার্তার নমুনা প্রকাশ ও তীব্র প্রতিবাদ জানানো।
সামাজিক বার্তাবিভাজন নয়, বরং সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের ঐক্য প্রয়োজন।
খাজার পারফরম্যান্সপ্রতিকূলতার মাঝেও অ্যাশেজ সিরিজে ৮২ রানের লড়াকু ইনিংস।

পাঁচ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে অভিবাসী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় আসা উসমান খাজা তাঁর শ্রম ও মেধা দিয়ে দেশটির অন্যতম প্রধান ক্রীড়াব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাঁর সন্তানদের ওপর এমন আক্রমণ মেনে নিতে পারছেন না র‍্যাচেল। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে লিখেছেন, “গত এক সপ্তাহে আমাদের দিকে আসা মন্তব্যের ছোট একটি নমুনা এগুলো। আমরা প্রতিনিয়ত এমন বার্তার শিকার হই, তবে ইদানীং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।” র‍্যাচেল মনে করেন, এই শোকের সময়ে ইহুদিবিদ্বেষ, ইসলামফোবিয়া বা বর্ণবাদ—যা–ই হোক না কেন, কোনো কিছুরই আধুনিক সমাজে স্থান থাকা উচিত নয়।

মাঠের ভেতরে খাজা বরাবরই অবিচল এবং ধীরস্থির। ব্যক্তিগত এই কঠিন সময়েও তিনি তাঁর ফর্ম ধরে রেখেছেন। অ্যাশেজ সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফিরে ৮২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, বাইরের কোনো চাপই তাঁর মনোসংযোগে বিঘ্ন ঘটাতে পারে না। অস্ট্রেলিয়া টানা তিন টেস্ট জিতে অ্যাশেজ পুনরুদ্ধার করলেও খাজার পরিবারের ওপর এই মানসিক ‘বডিলাইন’ আক্রমণ ক্রীড়া বিশ্বের মানবিকতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

Leave a Comment