ক্রিকেট খেলার নিয়মকানুন শুধুমাত্র বল-মাঠ-ব্যাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কখনো কখনো ব্যাটসম্যানের আচরণ বা ফিল্ডিংয়ের প্রভাবও ম্যাচের গতিপথকে প্রভাবিত করে। এ ধরনের একটি পরিস্থিতি হলো অসুবিধা সৃষ্টি করা বা অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ড।
এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো খেলোয়াড়দের সততা বজায় রাখা এবং খেলার ন্যায্য পরিবেশ নিশ্চিত করা। যখন কোনো ব্যাটসম্যান ইচ্ছে করে ফিল্ডার বা প্রতিপক্ষকে বাধা দেয়, তখন সেই আচরণ আউটের কারণ হিসেবে গণ্য হয়। তবে, এটি খেলার মাইক্রো-মূহুর্তের সঠিক মূল্যায়ন ও আম্পায়ারের বিচক্ষণতার উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে।
এই আলোচনায় আমরা ব্যাখ্যা করব ৪ নং নিয়ম অনুযায়ী অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ড কীভাবে প্রয়োগ হয়, এর শর্তাবলী, ও বাস্তব উদাহরণ, যা নতুন ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং ভক্তদের জন্য সমানভাবে শিক্ষণীয়।
অসুবিধা সৃষ্টি করা বা অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ড

৪ নং নিয়ম
দু’জনের যে কোন ব্যাটসম্যান মাঠে অসুবিধা সৃষ্টি করার জন্যে আউট হবেন যদি দু’জনের মধ্যে কেউ ইচ্ছে করে অপর পক্ষকে বিব্রত করেন বা বাধার সৃষ্টি করেন। যদি তার ফলে কোন একজন ব্যাটসম্যান অপরপক্ষকে ক্যাচ ধরতে না দেন, তাহলে যিনি বলটি মেরেছিলেন, তিনিই আউট হবেন।
দ্রষ্টব্য
(ক) ব্যাটসম্যান ইচ্ছে করে অসুবিধার সৃষ্টি করেছেন কিনা, তা’ বিবেচনার ভার আম্পায়ারের উপর।
(খ) এই আউটে বোলারের কোন সম্মান নেই । স্কোর বুকে লেখা হবে ‘অবস্ট্রাকটিং দি ফিল্ড আউট’।
(গ) রান নেওয়ার সময় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কোন ব্যাটসম্যান কোন বলের ‘থে’ির সামনে আসে, তাহলে আউট হবে না ।
কয়েক বছর আগের ঘটনা। ইংলণ্ডের ওভাল মাঠে ভারতের সঙ্গে ইংলণ্ডের টেস্ট খেলা হচ্ছে। ভারত তখন ব্যাট করছে। সুন্দর ব্যাটিং করছেন ভারতীয় খেলোয়াড়রা। বিশেষ করে বিজয় মার্চেন্ট। তাঁর ব্যাটিং- এর তুলনা হয় না । অপুর্ব জৌলুসভরা ব্যাটিং । মার্চেন্ট সেঞ্চুরী করলেন ।
ইংলণ্ডের নামজাদা ব্যাটসম্যান ডেনিস কম্পটন ফিল্ডিং করছিলেন শর্ট লেগে। কম্পটনের খ্যাতি সর্বজনবিদিত। ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবেও কম্পটন যথেষ্ট নাম করেছেন। বিলেতের অন্ততম শ্রেষ্ঠ ফুটবল দল আর্সেনেলের ছিলেন লেফট আউট। কোলকাতার অনেকেই তাঁকে ফুটবল এবং ক্রিকেট খেলতে দেখেছেন। তাঁদের অনেকেই আজো ভাবেন, কম্পটন ফুটবল না ক্রিকেট, কোন্টা ভালো খেলতেন ।
যাই হোক মার্চেন্ট তখন ১২৮ রান করেছেন। একটা বল মেরে ভু’ৱান নেবার চেষ্টা করলেন। কম্পটন ফিল্ডিং করছিলেন শর্ট লেগে। তিনি ছুটে গেলেন বলটার পেছনে। মার্চেন্ট তখন এক রান নেবার পর আর একটা রান নেবার জন্তে ছুটলেন। কম্পটন দেখলেন বল ধরে ছুঁড়ে উইকেটে মারতে হলে আউট করা যাবে না। কম্পটন তখন করলেন কি, বলটা না থামিয়ে বুট দিয়ে সজোরে কিক করলেন উইকেট লক্ষ্য করে। মুহূর্তের মধ্যে বলটা গিয়ে ভেঙ্গে দিলো উইকেট।
হতভপ্ত মার্চেন্ট বোকা বনে গিয়ে খানিকক্ষণ চেয়ে রইলেন উইকেটের দিকে। তারপর কম্পটনের দিকে তাকিয়ে মাথা নীচু করে বেরিয়ে গেলেন মাঠ থেকে। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লো সারা মাঠ। হাততালি আর থামে না। এমন অভিনব রান-আউট আগে আর কেউ দেখে নি। নতুন জিনিস, একদম নতুন জিনিস। এর বুঝি তুলনা হয় না। ক্রিকেট ইতিহাসে এ এক অভিনব আউট।

