অপরিচিত নম্বর থেকে মিঠুনকে হুমকির ফোন

বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)-এর সভাপতি ও জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোহাম্মদ মিঠুনের প্রতি অপরিচিত নম্বর থেকে একের পর এক প্রাণনাশ ও অপহরণের হুমকির ঘটনায় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে তীব্র উদ্বেগ ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। হুমকিগুলোর ধরন ও সময়কাল বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং ক্রিকেটারদের অধিকার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মোহাম্মদ মিঠুন গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর থেকে হুমকির মাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। ফোনকল ও বার্তায় তাকে হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা কখনো দেশের বিরুদ্ধে কথা বলিনি। ক্রিকেটার হিসেবে ন্যায্য অধিকার নিয়ে কথা বলাই যদি অপরাধ হয়, তাহলে সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন এই হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা বুঝতে পারছি না।”

এই হুমকির ঘটনা মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিরোধের ধারাবাহিকতায় ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্রিকেটারদের নিয়ে করা ওই মন্তব্যকে অবমাননাকর ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে কোয়াব বুধবার রাতে তার পদত্যাগের দাবিতে কঠোর অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে বিপিএলের ম্যাচ বয়কটের আলটিমেটাম দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এম নাজমুল ইসলাম পদত্যাগ না করায় বৃহস্পতিবার ক্রিকেটাররা বিপিএলের নির্ধারিত ম্যাচ বয়কট করেন। বিষয়টি দ্রুত বিসিবির সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনায় যায়। এক অনলাইন বোর্ড সভায় এম নাজমুল ইসলামের পরিচালক পদ বহাল রাখা হলেও তাকে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তেও ক্রিকেটাররা তাৎক্ষণিকভাবে সন্তুষ্ট হননি এবং খেলার সিদ্ধান্তে ফিরে আসেননি।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে বৃহস্পতিবার রাতে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিসিবি কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেন। এরপর ক্রিকেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা হয়। দীর্ঘ আলোচনা ও সমঝোতার পরই বিপিএল পুনরায় শুরুর ঘোষণা আসে। যদিও এর মধ্যেই কোয়াব সভাপতির প্রতি হুমকির ঘটনা নতুন করে সংকটের মাত্রা বাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার মাধ্যমে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা, মত প্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতার বিষয়গুলো নতুন করে সামনে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, হুমকিদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের সংগঠিতভাবে কথা বলার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নিচের টেবিলে সাম্প্রতিক ঘটনার ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরা হলো—

তারিখ ও সময়ঘটনাসংশ্লিষ্ট পক্ষ
বুধবার রাতনাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবিতে আলটিমেটামকোয়াব
বৃহস্পতিবারবিপিএলের ম্যাচ বয়কটক্রিকেটাররা
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবিসিবির অনলাইন বোর্ড সভাবিসিবি
বৃহস্পতিবার রাতফ্র্যাঞ্চাইজি ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকবিসিবি
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পরমিঠুনকে হুমকি বৃদ্ধিঅজ্ঞাত ব্যক্তি

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে, যাতে ক্রিকেটাররা ভয়মুক্ত পরিবেশে তাদের পেশাগত ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

Leave a Comment