ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে !

সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্টস পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে এ সেঞ্চুরিয়নেই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের কাছে ৭ উইকেটে হারার পর, এবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেঞ্চুরিয়নে।

তবে, দক্ষিণ আফ্রিকা-বাংলাদেশ সিরিজের অঘোষিত ফাইনালের ভেন্যু, সেঞ্চুরিয়নে রয়েছে বেশ কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা।

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়তে পারবে বাংলাদেশ?
সেঞ্চুরিয়ন স্টেডিয়াম

২২,০০০ আসনবিশিষ্ট এ সুপারস্পোর্ট পার্ক স্টেডিয়ামের স্বত্বাধিকার রয়েছে টেলিভিশন চ্যানেল সুপারস্পোর্টসের। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবৈষম্যের অবসানের পর “দ্য টাউন অব ভেরোর্ডবার্গ” নামটি পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে সেঞ্চুরিয়ন। সে আদলেই এই স্টেডিয়ামটির নামকরণ হয়েছে।

ক্রিকেট থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বনবাস শেষ হওয়ার পর ১৯৯৫ সালের নভেম্বরে প্রথম টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় এখানে। এটিই ছিলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বনবাস শেষ হওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ।

[ ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে ]

২০০০ সালে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের মাটিতে টেস্ট সিরিজের বিতর্কিত পঞ্চম টেস্ট এ সেঞ্চুরিয়নেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে টেস্টে তৎকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রোনিয়ের বিতর্কিত দ্বিতীয় ইনিংসের ডিক্লেয়ারেশনের কারণে ম্যাচটি ইংল্যান্ডের কাছে হারে দক্ষিণ আফ্রিকা।

২০০১ সালে, ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ম্যাচ রেফারি কতৃক কিছু ভারতীয় খেলোয়াড়ের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কতৃক ম্যাচ রেফারির এ সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করার জেড়ে পরবরতীতে সে টেস্টকে আনঅফিশিয়াল টেস্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

সেঞ্চুরিয়নেই, ২০১০ সালে নিজের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকার। এছাড়া, ২০১৮ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায়  বক্সিং ডে টেস্টে এ ভেন্যুই ব্যবহার করা হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অধরা জয়ের আক্ষেপ ঘুচে বাংলাদেশ দলের।তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে এ সেঞ্চুরিয়নেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

নিজেদের ঘরের মাঠে খেলা সবশেষ সিরিজে ভারতকে নাস্তানাবুদ করে প্রোটিয়ারা। ৩ ম্যাচ সিরিজ জেতে ৩-০ ব্যবধানে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে ৩১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ জমা করে বাংলাদেশ দল। ৩১৪ রানের টার্গেট টপকাতে নেমে ২৭৬ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। এতে ৩৮ রানের জয়ের সঙ্গে আইসিসি সুপার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ১০ পয়েন্ট পেল টাইগাররা।

প্রথম ম্যাচে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লিটন, সাকিব এং ইয়াসির আলীর ব্যাটিং নৈপূণ্য দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩১৫ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।

৩১৫ রানের লক্ষ্য টপকাতে নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। টাইগার পেসারদের বোলিং তোপে পাওয়ার প্লেতে খেই হারিসে বসে স্বাগতিকরা। যদিও স্পিনার সাকিব আল হাসানের হাতে প্রথম বল তুলে দেন সফরকারী অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তবে সফলতা এসেছে পেসারদের হাত ধরেই। ইনিংসে চতুর্থ ওভারেই আঘাত হানেন শরিফুল ইসলাম। ফেরান ওপেনার মালানকে। উইকেটের পিছনে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৪ রান করেন তিনি।

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়তে পারবে বাংলাদেশ?
প্রথম ওয়ানডেতে দ্রুত উইকেট পাওয়ার পর তাসকিন আহমেদ

প্রোটিয়ারা সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই স্বাগতিক শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের নমব ওভারের প্রথম ও চতুর্থ বলে ফিরিয়ে দেন কাইল ভেরেইনা ও এইডেন মারর্কামকে। চমৎকার এক ডেলিভারির লাইনে যেতে পারেননি ভেরেইনা। আম্পায়ার এলবিডব্লিউর জোরাল আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ না নিয়েই ফেরেন তিনি। করেন ২৫ বলে ২১ রান। দুই বল পর ড্রাইভ করার চেষ্টায় পয়েন্টে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়েন মারর্কাম। ৩ বল খেলে তিনি খুলতে পারেননি রানের খাতা।

৩৬ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা আর মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান ভ্যান ডার ডুসেন। দেখেশুনে খেলে চতুর্থ উইকেটে দুই জন যোগ করেন ৮৫ রান। এই পার্টনারশিপ যখন বিপদের ইঙ্গিত দিতে থাকে, তখন বাভুমাকে ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন শরিফুল। বাড়তি বাউন্স করা বল ঠিক মতো খেলতে পারেননি বাভুমা। বল তার ব‍্যাটের কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে মুশফিকের গ্লাভেস। ৫৫ বলে ২টি চারের সাহায্যে ৩১ রান করেন বাভুমা

তার আগেই অবশ্য অর্ধশতকের স্বাদ পান ডুসেন। বাভুমা ফিরে যাওয়ার পর জুটি বাঁধেন ডেভিড মিলারের সঙ্গে। এই জুটি যেমন বিপদের বার্তা দিতে থাকে বাংলাদেশকে, তেমনি শতকের দিকে ছুটতে থাকেন ডুসেন। এই পার্টনারশিপ ভাঙতে একের পর এক বোলার বদলাতে থাকেন তামিম। পরে সফলতা আসে তাসকিনের হাত ধরে। তাতে অবশ‍্য দারুণ অবদান ইয়াসিরের। অফ স্টাম্পের বাইরের বল হাঁটু গেড়ে লেগে ঘুরান ডুসেন। অনেকটা ছুটে গিয়ে ঝাঁপিয়ে ক‍্যাচ নেন ইয়াসির। ভাঙে ৬৪ বল ৭০ রানের জুটি। ডুসেন ফেরেন ৮৬ করে। ৯৮ বলে ৯টি চার ও ১টি ছক্কা হাঁকান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

এরপর মিলার আগ্রাসী ব্যাটে তুলে নেন ঝড়ো ফিফটি। মাত্র ৩৮ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। তবুও চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই চাপ কমাতে গিয়ে উল্টো আরো বিপদে পড়ে তারা। এবার স্বাগরতিক ব্যাটসম্যানদের ত্রাস বনে যান মিরাজ।

শুরুতে রান খরচ করলেও ইনিংসের ৪২তম ওভারে এসে আউট করেম আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োকে। লং অফে সহজ ক‍্যাচ নেন লিটন দাস। ১৩ বলে স্বাগতিক অলরাউন্ডার করেন কেবল ২ রান। এরপর, মিরাজের বলে মিলার আউট হলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় স্বাগতিকরা। দিন শেষে ৩৮ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়তে পারবে বাংলাদেশ?
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে উইকেট পাওয়ার পর কাগিসো রাবাদা

তবে, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে, কাগিসো রাবাদার বলিং তোপে এবং কুইন্টন ডি কক ও কাইল ভেরাইনার আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফেরে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের জন্য এক অন্যতম আশা জাগানিয়া বিষয় ছিলো আফিফ হোসেনের ব্যাটিং।

ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়তে পারবে বাংলাদেশ?
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কাভার ড্রাইভ খেলার সময় আফিফ হোসেন

এখন দেখার পালা, প্রথম ম্যাচের ভেন্যু সেঞ্চুরিয়নে কি আফ্রিকান দম্ভকে পরাজিত করে এক রূপকথার জন্ম দিতে পারবে টাইগাররা নাকি আবারো বুকে নিতে হবে না পাওয়ার এক রাশ হতাশা? তা কেবল সময়ই বলে দিবে। সিরিজ নির্ধারনী ম্যাচে আজ বিকেল ৫ টায় মাঠে নামবে দুই দল।

আরও পড়ুন:

নর্থ্যাম্পটনের পুনরাবৃত্তি হ্যামিল্টনে করলো বাংলার বাঘিনীরা

“ঐতিহাসিক সেঞ্চুরিয়নে ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন