অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ এবং পুরো ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ : অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস, অস্ট্রেলিয়ান সাবেক এই মারকুটে ক্রিকেট ব্যাটারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে মুগ্ধ হননি এমন কোনো ক্রিকেট ভক্ত খুঁজে পাওয়া যাবে না। নিজের দিনে, বিশ্বের যেকোনো বোলিং লাইন আপকে গুঁড়িয়ে দেয়ার সক্ষমতা ছিলো অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের। সায়মন্ডস যতদিন ক্রিকেট খেলেছেন, সব জায়গায়ই দাপিয়ে বেড়িয়েছেন ক্ষুধার্ত বাঘের মতো। কখনো ব্যাটসম্যান হয়ে, কখনো বোলার হয়ে কিংবা কখনো ফিল্ডার হয়ে সব জায়গায় নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের অভিষেক ঘটে ১৯৯৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে। অস্ট্রেলিয়ান ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে, অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলে ডাক পড়ে তার। তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেকে ঠিকমতো মেলে ধরতে পারছিলেন না সায়মন্ডস।

সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ এবং পুরো ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া
টেস্ট জার্সি গায়ে সায়মন্ডস

সায়মন্ডস লাইম লাইটে আসেন ২০০৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এক দানবীয় সেঞ্চুরির মাধ্যমে। সে ম্যাচে, দলকে খাদের কিনারা থেকে উদ্ধার করেন সায়মন্ডস। ১২৫ বলে ১৪৩ রানের ইনিংস খেলে হয়ে যান অস্ট্রেলিয়া দলের নিয়মিত মুখ। এরপর থেকে, আর পিছে তাকাতে হয়নি দিনের পর নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ এবং পুরো ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া
২০০৩ বিশ্বকাপে সায়মন্ডস

অ্যানড্রু সায়মন্ডসের আন্তর্জাতিক রেকর্ডও বেশ ঈর্ষণীয়। ১৯৮ ওয়ানডেতে ৩৯.৭৫ গড়ে ৬ সেঞ্চুরি এবং ৩০ ফিফটির বিনিময়ে ৫০৮৮ রাণ করেন রয়। এছাড়াও, আন্তর্জাতিক টেস্টে ৪০.৬১ গড়ে ১৪৬২ রান করেন। আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের রেকর্ডেও তার আগ্রাসী  এবং ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের নিদর্শন পাওয়া যায়। আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১৪ ম্যাচে ৪৮.১৪ গড়ে ৩৩৭ রান করেন যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিলো ১৬৯.৩৪।

[ অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ এবং পুরো ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া ]

তবে, মূলত অ্যালকোহলের অতি মাত্রায় তার ঝোঁক থাকার কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ার বেশি দীর্ঘ হতে পারেনি সায়মন্ডসের। ২০০৯ সালেই সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি।

শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সায়মন্ডস সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। টাউনসভিলের রাস্তা দিয়ে তাঁর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্ট গেলে এই বিপত্তি ঘটে। জানা গিয়েছে, গাড়িটি অ্যালিস রিভার ব্রিজ থেকে বাঁদিকে যাওয়ার সময় উল্টে যায়। অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের মৃত্যুতে ক্রীড়াজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নকেও হারিয়েছিল।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রাথমিক তদন্তে যে তথ্য উঠে এসেছে তাতে জানা গিয়েছে যে রাত ১১টার পর এলিস রিভার ব্রিজের কাছে হার্ভে রেঞ্জ রোডে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন সাইমন্ডস। গাড়িটি রাস্তা থেকে ছিটকে পড়ে এবং দুর্ঘটনা ঘটে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সায়মন্ডসকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর আঘাত গুরুতর হওয়ার কারণে সাইমন্ডসের মৃত্যু হয়। ফরেনসিক ক্র্যাশ ইউনিট এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে।’

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ এবং পুরো ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া
২০০৭ বিশ্বকাপে সায়মন্ডস

সায়মন্ডসের সতীর্থ জেসন গিলেস্পি লিখেছেন, ‘ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর ভয়াবহ খবর। পুরোপুরি বিধ্বস্ত। আমরা সবাই তোমাকে মিস করব বন্ধু।’

এক সময়কার সতীর্থকে নিয়ে কিংবদন্তি অজি উইকেটরক্ষক অ্যাডাম গিলক্রিস্ট টুইটে লিখেছেন, ‘এটি (সায়মন্ডসের মৃত্যু) সত্যিই কষ্টদায়ক’।

সায়মন্ডসের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন শোয়েব আকতার ও ভিভিএস লক্ষ্মণরা। শোয়েব লিখেছেন, ‘গাড়ি দুর্ঘটনায় অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের মৃত্যু সংবাদ শুনে বিধ্বস্ত। মাঠে ও মাঠের বাইরে আমাদের দারুণ সম্পর্ক ছিল। তার পরিবারের জন্য প্রার্থনা ও সমবেদনা।’

টুইটে ভিভিএস লক্ষ্মণ লিখেছেন, ‘এখানে (ভারতে) ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর মর্মান্তিক খবর। এবার শান্তিতে বিশ্রাম নাও আমার প্রিয় বন্ধু। খুবই মর্মান্তিক খবর!’

শনিবার (১৪ মে) স্থানীয় সময় রাত ১১টায় অস্ট্রেলিয়ার টাউন্সভিলে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, রাত ১১টার নাগাদ হার্ভে রেঞ্জ রোডের উপর দিয়ে গাড়িটি যাচ্ছিলেন সাইমন্ডস। অ্যালিস রিভার ব্রিজের কাছে বাঁদিকে মোড় নেওয়ার সময় গাড়িটি উল্টে যায়।

সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয়রা অস্ট্রেলিয়ার এই সাবেক ক্রিকেটারকে বাঁচানোর চেষ্টা চালান। কিন্তু ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন সায়মন্ডস। ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাতিয়েছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার, জিতেছেন দুটি বিশ্বকাপ।

 

সায়মন্ডসের অকাল প্রয়াণ এবং পুরো ক্রিকেট বিশ্বে শোকের ছায়া

 

ভারত-অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট ম্যাচে ব্যাটার-বোলারদের দাপট যেমন থাকবে দুই দেশের, তেমনই ম্যাচের মধ্যেই ‘কুখ্যাত’ ছিল অজি-স্লেজিং। তাবড় তাবড় ব্যাটারদের আউট করা কিংবা মন:সংযোগ নষ্ট করার ‘গেম’। তেমনই ২০০৮ সালে সিডনিতে টেস্ট চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা অভিযোগ তোলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী ভাষা ব্যবহার করেছেন হরভজন সিং। যা নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল ক্রিকেটমহল। যদিও সে সব বিতর্ক দূরে রেখে সায়মন্ডসের আকস্মিক প্রয়াণে শোকবার্তা জানিয়েছেন হরভজনও।

অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের প্রয়াণে টুইট করে শোকবার্তা জানিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন স্পিনার। টুইটে ভাজ্জি লেখেন, “অ্যান্ড্রু সায়মন্ডসের মৃত্যুতে আমি হতস্তম্ভ। খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলে। ওর পরিবার এবং বন্ধুদের সমবেদনা জানাই। আত্মার শান্তি কামনা করি।”

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন