সাকিব আল হাসানঃ মিস্টার মাস্টার মাইন্ড

সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। বাংলাদেশ ক্রিকেটকে বিশ্ব দরবারে একটি সমীহযোগ্য দল হিসেবে গড়ে তুলতে সাকিব আল হাসানে ভূমিকা একেবারে অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার সাকিব।

ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং সব ডিপার্টমেন্টেই নিজের সবটা উজাড় করে দেন সাকিব আল হাসান। দলের সব থেকে কঠিন পরিস্থিতিতে অধিনায়কের সব থেকে বড় ভরসার নাম, সাকিব আল হাসান। হ্যা, তিনিই বাংলাদেশের জান বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান।

বরাবরই, ক্রিকেট মাঠে নিজের বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে থাকেন সাকিব।

২০১৯ বিশ্বকাপ, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশের ম্যাচ। বাংলাদেশের দেয়া ২৬৩ রানের লক্ষ্যে হেসে খেলেই ব্যাট করছিলো আফাগানিস্তান। দলীয় ১০২ রানে ব্যাক্তিগত ৪৭ রানে ব্যাট করছিলো আফগান ব্যাটার গুওবাদিন নাইব যিনি ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছিলেন।

সাকিব আল হাসানঃ মিস্টার মাস্টার মাইন্ড
২০১৯ বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাকিব আল হাসান

[ সাকিব আল হাসানঃ মিস্টার মাস্টার মাইন্ড ]

এমন সময়, শর্ট কাভারে ফিল্ডার হিসেবে প্লেস করালেন লিটন দাস। এরপর, সাকিবের অফ স্ট্যাম্পের বাহিরে ফুলার লেন্থে করা ফ্লোটার ডেলিভারিতে গুলবাদিন নাইব লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। সে ম্যাচে বল হাতে ৫ উইকেট এবং ব্যাট হাতে ফিফটির পর ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন সাকিব।

২০১৮ সাল, বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলছে উইন্ডিজ। সেবার তাইজুল ইসলামের বিপক্ষে ব্যাট করছিলেন কেমার রোচ। এমন সময় একটি এলবিডব্লিউ এর আবেদন করলেন তাইজুল, নাকচ করলেন আম্পায়ার। ঠিক তখনই অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ফিল্ডার সাকিব আল হাসান ফিল্ডিং করছিলেন, তিনি সাথে সাথেই রিভিউ নিলেন এবং আউট হলেন রোচ।

সাকিবের বিচক্ষণতার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে সম্প্রতি, শেষ হওয়া শ্রীলঙ্কা বনাম বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজেও। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে থাকা নিরোশান ডিকওয়েলা কে সামনে আগাতে দেখেই বল ফেলে অফস্ট্যাম্পের বাহিরে এবং লিটন দাসের গ্লাভস বন্দি হয়ে আউট হন নিরোশান ডিকওয়েলা।

সাকিব আল হাসানঃ মিস্টার মাস্টার মাইন্ড
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে সাকিব আল হাসান

নিজের শীর্ষস্থানটা ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেটে সাকিবের অর্জন অনেক, প্রাপ্তিও অনেক। সম্প্রতি সাকিবের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আরও একটি সাফল্যের পালক যোগ হলো। আর সেটা হচ্ছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাটিতে ৫ উইকেট নেয়ার পর প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে দেশের মাটিতে ১৫০ উইকেট অর্জন।

সাকিব ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আইসিসির খেলোয়াড়দের র‍্যাংকিং অনুসারে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০ প্রত্যেক ক্রিকেট সংস্করণে প্রথম ও একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে এক নম্বর অল-রাউন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ৪,০০০ করার গৌরব অর্জন করেন এবং ২০১৭ সালের ১৩ই জানুয়ারি টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান (২১৭) সংগ্রাহক হন।

তিনি টি২০তে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০০০ রান পূর্ণ করেন ৷ এছাড়া দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে টি২০তে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেট লাভ করেন। ২০১৯ সালের জুনে তিনি দ্রুততম খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র ১৯৯ ম্যাচে ৫,০০০ রান ও ২৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একদিনের ক্রিকেটের সিরিজ জয়ের ম্যাচে সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের প্রথম অলরাউন্ডার হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে ২০০ উইকেট ৪০০০ রান করার অনন্য গৌরব লাভ করেন। একদিনের ক্রিকেটে সপ্তম অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেট লাভ করেন। ৪০০০ রানের মাইলফলকটা যদিও আরও আগেই টপকেছিলেন।

কম ম্যাচের হিসাবে সাকিবের অবস্থান প্রথম। অর্থাৎ সবচেয়ে কম মানে ১৫৬ ম্যাচ খেলে সাকিব এ কৃতিত্ব অর্জন করেন। সাকিব ছাড়া আর কোন ক্রিকেটার ২০০ ম্যাচের আগেও এ বিরল কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেননি। ফলে একদিনের ক্রিকেটের শীর্ষ অলরাউন্ডার হয়ে সাকিব নিজেকে এক উচ্চতায় নিয়ে যান।

সাকিব আল হাসানঃ মিস্টার মাস্টার মাইন্ড
২০১২ এশিয়া কাপে সাকিব এবং শচীন

আর ১৫৬ ম্যাচ খেলে ২০০ উইকেট ৪০০০ রান করার কৃতিত্ব তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তাকে হটিয়ে হয় তো অন্য কেউ শীর্ষ অলরাউন্ডার হতে পারবেন। তবে তার এই কম ম্যাচে গড়া এ কৃতিত্ব সহসা কেউ টপকাতে পারবেন বলে মনে হয় না। এটি নিঃসন্দেহে সাকিবের একটি বিরল অর্জন।

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক জয়ের নায়ক। অনেক সাফল্যের সফল রূপকার। বদলে যাওয়া এই বাংলাদেশ দলের এক শক্ত খুঁটি। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টেস্ট ও একদিনের সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের আগে ও পরে অনেক জয় এসেছে সাকিবের হাত ধরে। একজন বড় ক্রিকেটার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন অনেক আগেই।

বড় ক্রিকেটার পানও অনেক, তার দানও হওয়া দরকার অনেক বড়। ভারতের ক্রিকেট লিজেন্ড শচীন টেন্ডুলকর টেস্ট ও ওয়ানডের অসংখ্য রেকর্ড নিজের থলিতে পুরলেও বিশ্বকাপটা ছুঁতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ২০১১ বিশ্বকাপে শচীনের সে অপূর্ণতা ঘুঁচে যায়। আর তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটানুরাগী দর্শক মনে করে সাকিবের হাত ধরেই বাংলাদেশও একদিন বিশ্বকাপের ট্রফিটাও জয় করবে। সাকিবই সেটা পারবে। আর সে দিনটাও হয়ত বেশি দূরে নয়।

আরও পড়ুন:

 

মন্তব্য করুন