সাকিবই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক?

সাকিবই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক?

বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান। এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে এমন অনেককে বাংলাদেশের নাম চিনিয়েছেন সাকিব, যারা আগে কখনো বাংলাদেশের নামই শুনেনি। হ্যা, সাকিব এমনই একটি নাম, যেটি বাংলাদেশকে ক্রিকেট বিশ্বে নতুনভাবে চিনিয়েছে। দীর্ঘদিন বাংলাদেশের হয়ে সব ফরমেটেই অধিনায়কত্ব করেছেন সাকিব আল হাসান।

বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করা সাকিবের কাধে আবারো উঠতে চলেছে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব, এমনটাই গুঞ্জন চলছে ক্রিকেট পাড়ায়।

সাকিবের অধিনায়কত্বে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিরিজ এবং ম্যাচ জয় করেছিল টিম বাংলাদেশ।

[ সাকিবই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক? ]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে সাকিবের অধিনায়কত্বের অভিষেক ঘটে ২০০৯ সালে উইন্ডিজ সফরে। সেবার, উইন্ডিজ সিরিজের প্রথম টেস্ট চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশ দলের সদ্য নিযুক্ত হওয়া অধিনায়ক মাশরাফি বিন মোর্তজা ইনজুরিতে পড়লে দলের  অধিনায়কত্বের দায়িত্ব এসে পড়ে সাকিবের উপর।

সে সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক উইন্ডিজকে হারায় বাংলাদেশ দল। সে ম্যাচে স্বাগতিক উইন্ডিজকে হারিয়ে ২০০৫ সালের পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। এতেই শেষ নয়, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও উইন্ডিজকে হারিয়ে নিজের আন্তর্জাতিক টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। যেটি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক সিরিজ জয়।

কে হচ্ছেন নতুন টেস্ট অধিনায়ক-আর তিনদিন পরই বাংলাদেশ দলের প্রথম গ্রুপটি অ্যান্টিগার ফ্লাইট ধরবে। দিন পনেরো পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেখানে নামতে হবে আরেকটি টেস্ট সিরিজে। এরকম সময়ে নানামুখী চাপে অধিনায়কত্বটা ছেড়ে দিলেন মুমিনুল হক। খুব দ্রুতই তাই আরেকজনকে বাছতে হবে বিসিবিকে। বৃহস্পতিবার বোর্ড সভায় সেই সিদ্ধান্তের আগে আলোচনায় তিন নাম। ২০১৯ সালে সাকিবের নিষেধাজ্ঞার কারণেই আকস্মিকভাবে নেতৃত্ব পেয়েছিলেন মুমিনুল। অনেকটা আপদকালীন অধিনায়ক থেকে হয়ে যান স্থায়ী। এরপর তার অধীনে এই আড়াই বছরে বাংলাদেশ খেলেছে ১৭ টেস্ট।

সাকিবই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক?
২০১১ বিশ্বকাপে টস হাতে সাকিব

সাকিব নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরার পরও তাকে নেতৃত্বে ফেরানোর আলোচনা সেভাবে জোরালো হয়নি। মূলত সাকিবকে নিয়মিত টেস্টে পাচ্ছিলই না বাংলাদেশ। সাকিবের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর বাংলাদেশ খেলেছে ১৩ টেস্ট, যার কেবল ৫টিতে খেলেছেন সাকিব। কখনো চোট, কখনো আইপিএলের কারণে বিরতি, কখনো আবার পারিবারিক কারণে তাকে পাওয়া যায়নি। টেস্ট খেলার অনীহার কথাও তিনি একাধিকবার জানিয়ে আসছেন। যেকোনো বিচারে নেতৃত্বে সাকিবই হতেন প্রথম পছন্দ। কিন্তু তাকে সব খেলায় পাওয়া যাবে কিনা, এই অনিশ্চয়তাই যে দূর হয়নি।

উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান লিটন দাস সাম্প্রতিক সময়ে আছেন দারুণ ছন্দে। টেস্টে গত দুই বছরে দেশের সেরা পারফর্মার তিনি। দলে জায়গা থিতু থাকা এবং লম্বা ক্যারিয়ার বিবেচনায় লিটন অধিনায়কত্বের আলোচনায় আছেন। এর আগে মাহমুদউল্লাহর অনুপস্থিতিতে টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এর বাইরে ঘরোয়া পর্যায়েও তার নেতৃত্ব দেওয়ার নজির নেই। নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা সীমিত থাকলেও সাকিবের মতো ক্ষুরধার ক্রিকেট মস্তিষ্কের জন্য দলে সুনাম আছে লিটনের।

সাকিবই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক?
২০১১ জিম্বাবুয়ে সফরে হতাশ বাংলাদেশ দল

মুমিনুলের অধিনায়ক থাকার সময়ও ফিল্ডিং সাজানোর কাজটা করে আসছিলেন তিনিই। সতীর্থদের সঙ্গে তার সম্পর্কও ভীষণ ভালো। তবে লিটনের জন্য নেতিবাচক দিক হচ্ছে তিনি খেলার বাইরে একটু অন্তর্মুখী স্বভাবের। আরেকটি বিষয়ও ভাবাতে পারে বিসিবিকে। লিটন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের অন্যতম ভরসার নাম। দারুণ ছন্দে থাকা অবস্থায় তার উপর নেতৃত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়াটা ঠিক হবে কিনা এটিও ভেবে দেখার বিষয়। তিনিও রান খরায় পড়ে গেলে চরম সংকটে পড়তে হবে দলকে।

মেহেদী হাসান মিরাজনেতৃত্বের আলোচনায় আরেক নাম অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। বাকি দুজনের মতো তারও একাদশে জায়গা একদম পাকা। চোট না থাকলে অফ স্পিনের পাশাপাশি লোয়ার অর্ডারে মিরাজের ব্যাটিং দলের জন্য অক্সিজেনের মতো। মিরাজের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক তার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এরমধ্যেই বেশ ঋদ্ধ। যুব বিশ্বকাপ পর্যায়ে তিনি বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটের আসর বিপিএলেও তাকে একাধিকবার অধিনায়কত্ব করতে দেখা গেছে।

সে হিসেবে টেস্ট অধিনায়কত্ব পেতে পারেন তিনি। তবে তারও একটি নেতিবাচক দিক আছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করার সময় সতীর্থদের সঙ্গে একটু দূরত্ব তৈরি হয়েছে তার। মিরাজের ম্যান ম্যানেজমেন্ট নিয়েও নানা সময়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় দল সামলাতে তিনি কতটা পারদর্শী হতে পারেন তা দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন