সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে আবারো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে

সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে আবারো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে !

২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ থেকে পিঠের ইনজুরিতে ভুগছিলেন সাইফুদ্দিন। তখন থেকেই এই তরুণকে নিয়ে বিতর্কের শুরু।  সেই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুতর্জা নাকি জানিয়েছিলেন ইচ্ছে করেই খেলেননি সাইফুদ্দিন যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। সেই থেকে একের পর এক ইনজুরিতে দলে আসা যাওয়া সাইফুদ্দিনের।

 সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে আবারো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে
মোহাম্মদ সাইফুদ্দীন

সর্বশেষ বিপিএলে শুধু একজন ব্যাটার হিসেবে খেলার ইচ্ছে পোষণ করলেও খেলা হয়নি তার।ঘরের মাঠে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও দলে সুযোগ পাননি সাইফুদ্দিন। এমনকি, বগুড়ায় বাংলাদেশ টাইগার্সের অনুশীলন ক্যাম্পেও সুযোগ হয়নি এ অলরাউন্ডারের।

গত সোমবার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন  বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তোলেন। মিরপুরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন যে, দল নিয়ে এখন কোনো ভাবনাই নেই তার। গেল পাঁচ মাসে তার কোনো খোঁজ নেইনি বিসিবি ও টিম ম্যানেজমেন্টের কেউই। তার এমন বক্তব্য বিসিবির দৃষ্টিগোচর হলে তাকে তলব করা হয়।

[ সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে আবারো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ]

তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং এ বিষয়ে  সংবাদ মাধ্যমকে দুষলেন সাইফুদ্দিন। তিনি বলেন,” আপনারা যদি নিউজগুলো ভালো করে দেখেন, আমি সরাসরি কোচিং স্টাফ বা বিসিবির কারও নাম সরাসরি বলিনি।আমি হতাশা থেকে নিজের অভিমানের কথা বলেছি। আমাকে টাকা খরচ করে বিদেশে পাঠিয়েছে। কোভিড পজেটিভ ছিল, এক সপ্তাহ পর আবার পাঠিয়েছে। এগুলোর প্রশংসা তো অবশ্যই করতে হবে। কিছুদিন আগে আমাকে ইংল্যান্ডে পাঠিয়েছে বিসিবি। আমি কেন বিসিবির বিরুদ্ধে কথা বলবো?”

কিন্তু, একদিন আগেই সাইফুদ্দিন বলেছিলেন, “‘আমি এখন জাতীয় দলে নেই, তাই জাতীয় দল নিয়ে ভাবনাও নেই। যখন ঢুকবো তখন হয়তো চিন্তা-ভাবনা করবো। গত সাড়ে ৫ মাস মাঠের বাইরে ছিলাম। জাতীয় দলের কোচিং ম্যানেজমেন্ট কেউই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তো আমি নিজ থেকে আসলে কি বলবো? যদি দল মনে করে আমার প্রয়োজন, তখন আমি জাতীয় দল নিয়ে কথা বলবো। এখন আবাহনীতে আছি, মনোযোগ এখানেই।’

এরপর, এই বক্তব্য অস্বীকার তো করেই উল্টো বললেন যে ক্রিকেটাররা না থাকলে সাংবাদিকদের অস্তিত্ব থাকবে না। তিনি বলেন, ” কিছু কিছু অনলাইন সাংবাদিক ভাইরা ছিল যারা অপব্যবহার করেছে। যার কারণে আসলে আমাকে আজকে এমন একটা সময়ের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। আসলে আপনারা তিলকে তাল বানিয়ে ফেলেন। ছোট বিষয় থেকে বড় ফাঁদ তৈরি করে ফেলেন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে এই ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটাররা- আমরা যদি না থাকি তাহলে আপনাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। এটা সত্যি।”

Cricket GOLN-Website Logo-01

 

সাইফুদ্দিন আরো বলেন,” আমরা যদি দেশের বাইরে সফর না করি, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে অংশগ্রহণ না করি, আপনারাও দেশের হয়ে ওখানে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না। আপনাদেরও আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। সঙ্গে আপনারাও পেশাদারিত্ব আরও ভালোভাবে যেটা সত্য নিউজ সেটাই করবেন। দিনশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই ক্ষতি। হয়তো কিছু ভিউ পাবেন বা কনটেন্ট পাবেন, তার জন্য যদি ক্রিকেটের, বিসিবি’র ক্ষতি হয় আপনাদের কি ভালো লাগবে? হয়তো সাময়িক বাহবা পাবেন, কিন্তু ভবিষ্যতে আপনারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের ক্রিকেট যদি না এগোয়।”

এরপর, বিসিবির প্রশংসা করে তিনি বলেন,” ‘বোর্ডকে এসব কেন বলবো না। ফেনী থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকায় এসেছি। এখানে নেমে কিছু কথা বলতে পারবো না? আমি আমার মন থেকে বলছি। হয়তো আপনাদের মধ্যে এখান থেকে কেউ (বোর্ডকে) মিসগাইড করেছে- সাইফুদ্দিন তো বেশি বলে ফেলেছে। ২০০৯-১০ সাল থেকেই আমি বিসিবি’র অধীনে, অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে। বিসিবি আমাকে গাইড করায় আজ আমি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন এই পর্যায়ে। আমি যদি কিছু বলেও থাকি, আমি অনুতপ্ত। আমি আসলে ও রকম কিছু বলতে চাইনি। গতকাল আমি যে মাঠে আসলাম, অনুশীলন করলাম এটা তো বিসিবি’র ফ্যাসিলিটির মধ্যে পড়ে। ফ্যাসিলিটি না পেলে তো একদিন আগে এখানে এসে অনুশীলন করতে পারতাম না।”

তবে, সোমবার গণমাধ্যমকে দেয়া সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে বিস্মিত বিসিবি। এ ব্যাপারে বিসিবি’র ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, ” ‘আমি সবচেয়ে অবাক হয়েছি যে সে (সাইফুদ্দিন) বলেছে নাকি সাড়ে পাঁচ মাস টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ বা কোচিং স্টাফের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এটা খুব সারপ্রাইসড ছিল আমাদের কাছে। এটা আমরা বোর্ডের পরিচালক যারা আছেন তারা দেখেছেন, বোর্ড সভাপতি পাপন সাহেব তিনিও দেখেছেন, আমরা সারপ্রাইজড যে, সে কীভাবে এই কথাটা বলছে।

 সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে আবারো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে
জালাল ইউনুস

কেননা সাড়ে পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে সে একটা রিহ্যাব প্রোগ্রামের ভেতর ছিল। বায়েজিদ যে আমাদের ফিজিও, কোচিং প্যানেলের সঙ্গে যুক্তও, তার সঙ্গে সারাক্ষণ তার (সাইফুদ্দিনের) যোগাযোগ ছিল এবং তাকে একটা রিহ্যাব প্রোগ্রাম দেয়া হয়েছে। ছয় মাস তার একটা প্রোগ্রাম ছিল। সেই সময়টাতে সব সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এর ভেতর অক্টোবর-নভেম্বরে তার একটা স্ক্যানও করানো হয়েছিল। সে সময় তাকে বলা হয়েছিল তুমি অনুশীলন কোথায় করতে চাও।’

তবে, সাইফুদ্দিন তার ভুল স্বীকার করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে বিসিবি। এ বিষয়ে জালাল ইউনুস জানান, “‘আমরা তাকে ডেকেছিলাম, যে এ কথা সে কীভাবে বললো? সে বলেছে যে তার ভুল হয়েছে, তাকে আমরা জিজ্ঞেস করেছি। এখন আমরা সিদ্ধান্ত নেবো তার বিরুদ্ধে কি স্টেপ নেয়া যায়।”

 

আরও পড়ুন:

আইপিএল এ দল পেলে কি সাকিব উপভোগ করতেন? – প্রশ্ন পাপনের

“সাইফুদ্দিনের মন্তব্যে আবারো তোলপাড় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন