রিকি পন্টিংঃ সর্বকালের সেরা অধিনায়ক?

সর্বকালের সেরা অধিনায়ক : ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম অধিনায়কের কথা চিন্তা করলেই, সবার মাথায়ই একটা নাম আসবে এবং তা হলো রিকি পন্টিং। হ্যা, এই রিকি পন্টিংয়ের অধীনেই এক সময় ক্রিকেট বিশ্বে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। সে সময় বিশ্বের যেকোনো ব্যাটিং বা বোলিং লাইন আপকে নিয়েই ছেলেখেলায় মেতে উঠতো অজিরা। আর সেই অস্ট্রেলিয়া দলের নেতা ছিলেন কিংবদন্তী ক্রিকেটার রিকি পন্টিং।

রিকি পন্টিংয়ের জন্ম ১৯৭৪ সালের ১৯এ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া প্রদেশে। পন্টিং ২০০২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে দলের এবং ২০০৪ থেকে ২০১১ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। এক সময়ের টেস্ট এবং ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটার ছিলেন তিনি।

সর্বকালের সেরা অধিনায়ক

মাত্র ১১ বছর বয়সে ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে মোব্রে অনূর্ধ্ব-১২ দলের হয়ে মাঠে নামেন পন্টিং। ১৯৮৬ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত পাঁচ-দিনব্যাপী বার্ষিক নর্দান তাসমানিয়া জুনিয়র ক্রিকেট টুর্নামেন্টে ৪ সেঞ্চুরি করেন পন্টিং এবং এই সুবাদেই ব্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কুকাবুরা পন্টিংয়ের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এরপর, ধারাবাহিকভাবেই নিজের ব্যাটিং প্রতিভার জানান দিতে থাকেন পন্টিং।

১৯৯৫ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে পন্টিংয়ের।  সে বছর নিউজিল্যান্ডে  অনুষ্ঠিত চার জাতির টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ খেলার মাধ্যমে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন পন্টিং। এর অল্পকিছুদিন পরই বিশ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার।

পার্থে অনুষ্ঠিত সফরকারী  বিরুদ্ধে ১৯৯৫ সালের ঘরোয়া সিরিজের ১ম টেস্টেই ব্যাট হাতে ব্যক্তিগতঁ ৯৬ রানের এক ইনিংস খেলে  চমক দেখান পন্টিং।  এরপর থেকেই তাকে নতুন ব্র্যাডম্যান নামে আখ্যায়িত করতে থাকেন অনেকেই। ১৯৯৭ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিডসে প্রথম আন্তর্জাতিক  টেস্ট সেঞ্চুরি করেন পন্টিং।

শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৯৯৯ সালের শুরুর সময়ের পূর্ব পর্যন্ত বেশ কয়েকবার জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হয় তাকে। তবে, এরপরে ক্রিকেটে পুরোপুরি মনোনিবেশ করে হয়েছেন এক সময়ের অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ এবং নিজেকে নিয়ে গেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটারদের কাতারে।

রিকি পন্টিংঃ সর্বকালের সেরা অধিনায়ক
দুই বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে পন্টিং

রিকি পন্টিংঃ সর্বকালের সেরা অধিনায়ক

২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার একদিনের আন্তর্জাতিক দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সেয়া হয় রিকি পন্টিংয়ের কাধে। ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব গ্রহণ করার পরের বছরই অস্ট্রেলিয়াকে নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপের ট্রফি এনে দেন রিকি পন্টিং।

রিকি পন্টিংঃ সর্বকালের সেরা অধিনায়ক
২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে সেঞ্চুরির পর পন্টিং

সে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ১২১ বলের ১৪০ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে ভারতকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। রিকি পন্টিংয়ের সেই ইনিংসের সুবাদে ২০০৩ বিশ্বকাপের ম্যান অব দ্যা ফাইনাল নির্বাচিত হন রিকি পন্টিং।

২০০৪ সালে স্টিভ ওয়াহ অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব ছাড়লে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট দলেরও অধিনায়কত্বের দায়িত্ব দেয়া হয় রিকি পন্টিংকে।  ২০০৫ সালে পন্টিংয়ের নেতৃত্বেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে অ্যাশেজ সিরিজ জয়লাভ করে অস্ট্রেলিয়া।

২০০৫-০৬ মৌসুমেও পন্টিং তার ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখেন এবং সে মৌসুমে সাত সেঞ্চুরিসহ প্রায় ৭৮ রান গড়ে ১,৪৮৩ রান সংগ্রহ করে ওয়ানডে এবং টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটারদের র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থানে  নিজের অবস্থান আরো শক্ত করে রাখেন। ২০০৬ সালে, সিডনিতে নিজের ঘরের মাঠে ব্যাক্তিগত শততম টেস্ট ম্যাচের উভয় ইনিংসেই ১২০ ও ১৪৩* রান করেন পন্টিং।

রিকি পন্টিংঃ সর্বকালের সেরা অধিনায়ক
নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরির পর পন্টিং

পন্টিংয়ের অধীনে অস্ট্রেলিয়া দুটি বিশ্বকাপ এবং দুটি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়লাভ করে।নিজের ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে রিকি পন্টিং মোট ১৬৮ টি টেস্ট এবং ৩৭৫ টি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন  ।

আন্তর্জাতিক  টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চার শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রহকারী – শচীন তেন্ডুলকর সাথে তিনিও রয়েছেন, যিনি ১৩,০০০ টেস্ট রান সংগ্রহ করেছেন। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ২০০৪ থেকে ২০১০  পর্যন্ত ৭৭্টি  টেস্টের মধ্যে ৪৮টিতেই বিজয়ে দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।

রিকি পন্টিংঃ সর্বকালের সেরা অধিনায়ক
নিজের শেষ টেস্টে পন্টিং

২০১২ সালের ২৯এ নভেম্বরে  টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন পন্টিং। পার্থে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত টেস্টের পূর্বদিন তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। এটি ছিল তার ১৬৮তম ও শেষ টেস্টে অংশগ্রহণ।  ৩ ডিসেম্বর, ২০১২ তারিখে  রান গড় নিয়ে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেন পন্টিং।

২০১৩ সালের আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন পন্টিং। যদিও, টুর্নামেন্টের মাঝপথে খারাপ ফর্মের কারণে অধিনায়কের পদ থেকে সরে আসেন তিনি। ২০১৩ সালে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লীগেও অংশগ্রহণ করেন তিনি। সে মৌসুমের পরপরই সকল প্রকার ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন পন্টিং।

আরও পড়ুন:

 

 

 

মন্তব্য করুন