রোস টেইলরের বিদায়

রোস টেইলরের বিদায় : নিউজিল্যান্ডের এক কিংবদন্তী ক্রিকেটার রোস টেইলর। রোস টেইলর এক সময়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ডকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধিত্বও করেছেন রোস টেইলর। এখন পর্যন্ত রোস টেইলর নিউজিল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছেন মোট ৪৫০ বার। আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারের সর্বশেষ ম্যাচ খেললেন রোস টেইলর।

রোস টেইলরের বিদায়
অশ্রুশিক্ত রোস টেইলর

প্রায় দুই মাস পূর্বে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি শেষ আন্তর্জাতিক ওডিআই সিরিজ খেলবে। আর আজ নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের শেষ ওডিআই ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন রস টেইলর। তখন সবে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ খেলতে নেমেছিল নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের আগে ক্রিকেটাররা জাতীয় সঙ্গীতের জন্য মাঠে নামেন। সেই সময় হঠাৎই কেঁদে ফেলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটার রস টেলর।

রোস টেইলরের বিদায়
গার্ড অব অনার পাচ্ছেন রোস টেইলর

জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার সাথে মাঠে নেমেছিলেন তার ছেলে-মেয়েরাও। দুই মাস পূর্বে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন রস টেইলর। সেই টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি। এমনকি বল হাতে উইকেট দখল পর্যন্ত করেছিলেন। সেই সিরিজের পর তিনি নিজে থেকেই আন্তর্জাতিক ওডিআই ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন,”নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজ হবে আমার জীবনের শেষ আন্তর্জাতিক ওডিআই সিরিজ।”

[ রোস টেইলরের বিদায় ]

তিন ওয়ানডের সিরিজের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলছে নিউজিল্যান্ড। ব্ল্যাক ক্যাপসের জার্সিতে ১৬ বছর পার করা টেলর নিজের শেষ ইনিংসে ঠিক ১৬ বলই খেলেছেন। লোগান ফন বিককে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বোলারের হাতেই ধরা পড়া টেলর নিজের শেষ ইনিংসে ফিরেছেন ১৪ রানে। নিউজিল্যান্ডের গড়া ৩৩৩ রানের পাহাড় অবশ্য টি-টোয়েন্টি ও টেস্টের পর ওয়ানডেতেও জয় দিয়েই টেলরের বিদায় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে।

নামার সময় প্রতিপক্ষের গার্ড অব অনার পেয়েছেন, নিজের বিদায়ী ওয়ানডে ইনিংসে টেলর করেছেন ১৪ রান। ক্রাইস্টচার্চে বিদায়ী টেস্ট ইনিংসেও বাংলাদেশের কাছ থেকে একই রকম গার্ড অব অনার পেয়েছিলেন। নিজের শেষ ম্যাচে আরও ভালো অবদান রাখার ইচ্ছা ছিল তাঁর। এ নিয়ে টেইলর বলেন, “আপনি শুধু অবদান রাখার চেষ্টা করতে পারেন। শেষবারের মতো সব উপভোগ করতে পারেন। এ নিয়ে খুব বেশি না ভাবার চেষ্টা করাই ঠিক। মুহূর্তটা উপভোগ করা এবং সম্ভব হলে অবদান রাখা। আমার শেষ ম্যাচে ব্যাটিং করি বা ফিল্ডিং, চাইছি, সবকিছু শেষবারের মতো উপভোগ করতে।”

 

তাঁকে অবশ্য আজ খুব বেশি অবদান রাখার সুযোগ দেননি দলের অন্য ব্যাটসম্যানরা। চারে ব্যাট করতে পছন্দ করেন টেলর। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বন্ধু মার্টিন গাপটিল ও উইল ইয়ংয়ের ২০৩ রানের জুটিই টেলরের আজ বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা মুছে দিয়েছে। গাপটিলের ১০৬ রানের ইনিংস থামার পর নেমেছিলেন। ফিরে গেছেন ১২০ রান করা উইল ইয়ংয়ের আগেই।

রোস টেইলরের বিদায়
আজ আউট হওয়ার পর টেইলর

শেষ ইনিংস বড় করতে না পারা নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ থাকার কথা নয় ৩৮ বছর বয়সী টেলরের। আজ নিজের ৪৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যখন নামছেন, তখন তাঁর নামের পাশে দারুণ সব কীর্তি। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে তিন সংস্করণেই ১০০ ম্যাচ খেলেছেন। টেস্টে নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

ওয়ানডেতেও তা-ই, এ ফরম্যাটে দেশটির হয়ে সবচেয়ে বেশি শতকও তাঁর। এত এত সব স্মৃতি নিয়ে যখন তিন সন্তান—ম্যাকেঞ্জি, জন্টি ও অ্যাডিলেডকে নিয়ে আজ দেশের জাতীয় সংগীত শুনছিলেন, তখন কান্না আটকাতে পারেননি।

ম্যাচের আগে টেইলর বলছিলেন, “এভাবে খেলাকে বিদায় জানানো, এত দিনের সঙ্গীদের সঙ্গে আর মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নেওয়া তাঁর জন্য কত কঠিন ছিল, ‘এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানোই ছিল সবচেয়ে কঠিন কাজ। একবার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলার পর ব্যাপারটা অত খারাপ লাগাচ্ছে না। অবশ্যই, আমি অনেক মিস করব, আমার সতীর্থদের অভাববোধ করব।” 

জাতীয় সংগীতের সময় তাঁর তিন সন্তান ছিল মাঠে। গ্যালারিতেও আজ পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন টেলর। স্ত্রী ভিক্টোরিয়া তো আছেনই, পরিবার-বন্ধুবান্ধব—সবাই আজ হাজির হয়েছেন তাঁকে বিদায়ী সম্মান জানাতে।

স্পার্ক স্পোর্টের সঙ্গে আজ ম্যাচের আগের কথোপকথনে এ নিয়ে টেলর বলছিলেন, “মিথ্যা বলব না, নিশ্চিতভাবেই অনেক আবেগ থাকবে। অনেক টিকিট বিতরণ করতে হয়েছে আমাকে, এতে কিছুটা ব্যস্ত থাকায় ভালো হয়েছে। কিছু রাজমিস্ত্রির সঙ্গে দেখা হয়েছিল, হাতে কিছু বাড়তি টিকিট ছিল। ওরাও আগেভাগে কাজ শেষ করে খেলা দেখতে আসছে। বেশ ভালো কয়েকটা দিন ছিল।” 

নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৩৫ ম্যাচে ৪৭.৭১ গড়ে ৮৫৮৮ রান করেন। এছাড়াও, ১১২ টেস্টে ৪৪.১৬ গড়ে ৭৬৮৪ রান করেন। রোস টেইলর আর হয়ত খেলবেন না আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, তবুও তার ভক্তকূলরা চিরকাল তার শান্ত স্বভাবের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং রেখে দিবে স্মৃতির মণিকোঠায়।

আরও পড়ুন:

“রোস টেইলরের বিদায়”-এ 3-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন