রেকর্ড আল হাসান !!!

রেকর্ড আল হাসান : সাকিব আল হাসান, বাংলাদেশের ক্রিকেটের সেরা ক্রিকেটার। অন্তত রান, উইকেট, তার সব অর্জন সে কথাই জানায়। ১৯ বছর বয়সে ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় ক্রিকেটীয় বিজ্ঞাপনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৫ বসন্ত পার। দেশের ক্রিকেটের অনেক রেকর্ডস শুরু হয়ে হয়েছে তার হাত ধরেই। রেকর্ডের পর রেকর্ডের মালা গেঁথেছেন ক্যারিয়ারে। সাকিবের ক্যারিয়ারের কিছু রেকর্ডস একসাথে করা হলো।

সাকিব আল হাসান নয়টি টেস্ট খেলুড়ে দেশের মধ্যে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে সাকিবসহ মাত্র ৪ জনের। সাকিব আল হাসানের সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড সবচেয়ে দ্রুততম, মাত্র ৫০ টেস্টে। সাকিব আল হাসান টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে দ্রুততম ৩০০০ রান ও ১৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব গড়েছেন। সাকিব আল হাসান ক্রিকেট ইতিহাসের ১৩ তম ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৩০০০ রান ও ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব এবং সবচেয়ে দ্রুততম।

রেকর্ড আল হাসান
সাকিব আল হাসান

সাকিব আল হাসান মাত্র তিনজন ক্রিকেটারের একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ১০ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড রয়েছে। সাকিবের পাশাপাশি এই কীর্তি রয়েছে ইমরান খাঁন আর স্যার ইয়ান বোথামের। সাকিব আল হাসানের রয়েছে ক্রিকেটের তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১০০০০ রান ও ৪৫০ উইকেটের মাইলফলক। ওয়ানডে ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান সহ মাত্র ৫ জন ক্রিকেটারের ৫০০০ রান ও ২০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব করেছেন সবচেয়ে দ্রুত, মাত্র ১৭৮ ইনিংসে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সময়ে ৬০০০ রান ও ২৫০ উইকেটের মাইলফলক সাকিব আল হাসানের। ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র চারজন অলরাউন্ডারের ৬০০০ রান, ২৫০ উইকেট ও ৫০ ক্যাচ রয়েছে। এর মধ্যে সাকিব একজন। বর্তমানে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ওয়ানডে উইকেট সাকিবের। আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে ১০০০ রান আর ১০০ উইকেট নেওয়া একমাত্র অলরাউন্ডার সাকিব।

প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসেবে টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০ উইকেট শিকার করেন সাকিব। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় অলরাউন্ডার হিসেবে টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৪০০০ রান ও ৩০০ উইকেটের মাইলফলক সাকিবের। টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের পঞ্চম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি সাকিব। চতুর্থ বোলার হিসেবে টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক সাকিবের।

বিশ্বকাপ
সাকিব আল হাসান

ক্রিকেট ইতিহাসের অষ্টম বোলার হিসেবে তিন ফরম্যাটেই পাঁচ উইকেট শিকার করেন এই বাঁ হাতি স্পিনার। ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম অলরাউন্ডার সাকিব যিনি আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ম্যাচে ৪০ এর অধিক রান ও ৫ উইকেট নেন সাকিব। প্রথম অধিনায়ক হিসেবে আন্তর্জাতিক টি টুয়েন্টি ক্রিকেটে পাঁচ উইকেট নেন সাকিব। ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর বিপক্ষে টি টুয়েন্টি সিরিজে এই কীর্তি গড়েন তিনি।

বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট খ্যাত মিরপুর শের ই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এর সাথে সাকিবের সঙ্খতা বেশ। সাকিব প্রথম ক্রিকেটার যার নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিবই প্রথম ক্রিকেটার যার কিনা টেস্ট ক্রিকেটে যেকোনো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে ১০০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে। সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এক ভেন্যুতে ৪০০০ আন্তর্জাতিক রান করেন। সব রেকর্ড হোম অব ক্রিকেট মিরপুরে।

৩০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা দ্বিতীয় বাংলাদেশি সাকিব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট নেওয়া প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি সাকিব। জ্যাক ক্যালিসের পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১২০০০ রান এবং ৫০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ সাকিব আল হাসানের। তবে সাকিব সময় নিয়েছেন ক্যালিসের চেয়ে ৭২ ম্যাচ কম।

সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসে সাকিব আল হাসানের চেয়ে বেশি সিরিজ সেরার পুরষ্কার রয়েছে শুধুমাত্র শচীন আর কোহলির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এখন থেকে একজন ক্রিকেটারও নাই যার এক সাথে ‘রান-উইকেট’ দুটো একত্রে সাকিবের চেয়ে বেশি।ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইতিহাসে ১১০০ রান পেরিয়ে বিশ্বকাপের সেরা দশ রান সংগ্রাহকের একজন সাকিব। ক্রিকেট বিশ্বের ১৯ তম ব্যাটসম্যান এবং প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বকাপে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন সাকিব।

১০০০ রানের সঙ্গে সাকিবের রয়েছে বিশ্বকাপে ৩০ উইকেটও। অসংখ্য রথীমহারথী খেলেছেন ক্রিকেট বিশ্বকাপ কিন্তু সাকিবই একমাত্র ক্রিকেটার যার হাজারের বেশি রান ও ত্রিশের বেশি উইকেট রয়েছে। বিশ্বকাপে দুটি শতক ও দুবার চার বা এর বেশি উইকেট নেওয়া একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব। যৌথভাবে বিশ্বকাপে সর্বাধিকবার একই ম্যাচে পঞ্চাশোর্ধ রান ও দুইয়ের অধিক উইকেট নেওয়া ক্রিকেটার সাকিব। চারবার গড়েন সাকিব এই কীর্তি। এছাড়াও বিশ্বকাপে রয়েছে একই ম্যাচে অর্ধশতক এবং ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড।

সাকিব ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র অলরাউন্ডার যে নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে ৫০০ এর বেশি রান ও ১০ এর অধিক উইকেট নিয়েছেন। পরে অবশ্য রান পেরিয়ে যায় ৬০০ তে।প্রথম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিশ্বকাপে পাঁচ উইকেট শিকার সাকিবের। দলের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা বোলিং ফিগার এই বাঁহাতি স্পিনারের দখলে। সাকিবের বিশ্বকাপে পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস হয় ১২টি। সামনে রয়েছে শুধু শচীন। নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান শচীনের। শচীন করেছেন ৬ বার, ২০০৩ সালে। সাকিব ৫ বার করেছেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান, ২০১৯ বিশ্বকাপে।

সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান

নির্দিষ্ট এক বিশ্বকাপে সর্বাধিক পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংসে শচীনের পাশে বসেন সাকিব। শচীন ২০০৩ বিশ্বকাপে ১১ ইনিংসে ৭ পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেন, সাকিব ৮ ইনিংসে ৭টি। নির্দিষ্ট এক ক্রিকেট বিশ্বকাপে ৬০০ এর অধিক রান করা তৃতীয় ব্যাটসম্যান হোন সাকিব। সাকিবের আগে ম্যাথু হেইডেন, শচীন ছিলেন সেই তালিকায়। এরপরে অবশ্য ওয়ার্নার, রোহিতের নাম যুক্ত হয় নির্দিষ্ট বিশ্বকাপে ৬০০ রানের অধিক করার তালিকায়। সাকিব, ওয়ার্নার এবং রোহিত তিন জনই ২০১৯ বিশ্বকাপে এই ক্লাবে প্রবেশ করেন। ক্রিকেট বিশ্বকাপে সাকিব বল করেছেন ১৪৩৩টি; এরমধ্যে ডট দিয়েছেন ৬৭৯ বল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সাকিবের চেয়ে বেশি বল ডট দিয়েছে মাত্র তিনজন বোলার।

২০১৯ বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ৮ ইনিংসে ৬০৬ রান, ৮৬.৫৭ ব্যাটিং গড়, ২ টি শতক, ৫ অর্ধশতক, ৬০ চার, ২টি ছয় ও সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৪। বল হাতে ১১ উইকেট, ৩৬.২৭ গড়, একবার পাঁচ উইকেট, সেরা ৫/২৯। এছাড়া ফিল্ডার সাকিব আল হাসানের ছিল ৩ ক্যাচ। ম্যান অব দ্য ৩ টি৷ যা কোনো বাংলাদেশীর পক্ষে সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই অলরাউন্ডার র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ওঠা একমাত্র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান । আইপিএলে পঞ্চম স্পিনার হিসেবে ৫০ উইকেট প্রাপ্তি, দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলে ৫০০ রান ও ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে সাকিবের।

[ রেকর্ড আল হাসান ]

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন