মুশফিকের প্রতি ঠিকই আস্থা ছিলো জেমি সিডন্সের

মুশফিকের প্রতি ঠিকই আস্থা ছিলো জেমি সিডন্সের : আজ চট্টগ্রামের বিপক্ষে নিজের  টেস্ট সেঞ্চুরির আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সময়টা তেমন ভালো যাচ্ছিলো মুশফিকের। অফ ফর্মের কারণে নিজের পুরনো ছন্দ খুজছিলেন মুশফিক। এর কারণে, বিভিন্ন সমালোচনা শুনতেও হয়েছে মুশফিককে। তবে, মুশফিকের উপর ঠিকই ভরসা রেখেছিলেন টাইগারদের ব্যাটিং কোচ জেমি সিডন্স।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এ টেস্ট ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেও আশার বাণী শুনিয়েছিলেন। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের সিডন্স বলেছিলেন,

“প্রত্যেক ব্যাটসম্যানের এমন খারাপ সময় যেতে পারে। গত কয়েকদিন সে যেভাবে পরিশ্রম করছে, আমি নিশ্চিত যে আসন্ন সিরিজে রান করবে। আমি তার সাফল্য দেখার অপেক্ষায় করছি। আমি তার সঙ্গে কয়েকটি বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। আমি মনে করি সে সত্যিই একটি সফল সিরিজ পাবে।

মুশি আগামী দুটি টেস্ট নিয়ে ভাবছে। আমি মনে করি না সে কোনো ফরম্যাটের ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত। সে রান করা নিয়ে চিন্তিত। লাল বলের ক্রিকেট ও সাদা বলের ক্রিকেট, দুটিতেই বেশ সফল মুশি। যেকোনো ভালো খেলোয়াড়ের এমন খারাপ সময় যেতে পারে। যারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে তারাই ভালো খেলোয়াড়।

 আমি মনে করি মুশি সবচেয়ে সফল টেস্ট (বাংলাদেশে) খেলোয়াড়। তাঁকে চাপ দেওয়ার দরকার নেই। তাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করতে হবে। শুধু একটি সিরিজে ভালো খেলতে পারেনি বলে তাঁর ওপর চাপ দেওয়া যাবে না।”

হয়েছেও তাই, আজ চট্টগ্রামে করে ফেললেন নিজের আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি। এর পাশাপাশি আজ স্পর্শ করলেন প্রথম কোনো বাংলাদেশী হিসেবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে ৫০০০ রানের মাইলফলক।

মুশফিকের প্রতি ঠিকই আস্থা ছিলো জেমি সিডন্সের
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অর্ধ শতক হাকানোর পর মুশফিক

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে পাঁচ হাজার রান করেছেন মুশফিকুর রহিম। একই ইনিংসে দীর্ঘ ২৭ মাস পর তুলে নিয়েছেন টেস্ট সেঞ্চুরি। নিজের সাফল্যের পেছনে মহান আল্লাহ তা’য়ালার রহমতের কথা জানিয়ে গেলেন দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

মুশফিকের প্রতি ঠিকই আস্থা ছিলো জেমি সিডন্সের ]

আজকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে ঢোকার আগে, ২০১৩ সালে তিনিই বাংলাদেশের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হয়েছিলেন। অথচ ওই ম্যাচেই প্রথমবার সুযোগ ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের সামনে ডাবল সেঞ্চুরি করার। এই ম্যাচে মুশফিকের আগে পাঁচ হাজার করতে পারতেন তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত মুশফিকই করেছেন এই দুই রেকর্ড।

মুশফিকের প্রতি ঠিকই আস্থা ছিলো জেমি সিডন্সের
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর মুশফিক

এর পেছনে ভাগ্যের চেয়ে নিজের পরিশ্রম ও আল্লাহ্‌র রহমতকেই স্মরণ করলেন বেশি মুশফিক। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোরআনের আয়াত উচ্চারণ করেই আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের পরিশ্রমের কথাটিও জানাতে ভোলেননি আজকের ম্যান অব দ্য মোমেন্ট মুশফিক।

তার ভাষ্য, ‘না, ভাগ্যবান মনে হয় না… (কপালে হাত রেখে) এই যে কপালটা দেখছেন… হাসবুনাল্লাহু ওয়া নে’মাল ওয়াকিল; নে’মাল মাওলা ওয়া নে’মান নাসির (যার অর্থঃ আল্লাহ তাআলাই আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই হলেন উত্তম কর্মবিধায়ক; আল্লাহ তাআলাই হচ্ছে উত্তম অভিভাবক এবং উত্তম সাহায্যকারী।)’

আল্লাহর কাছ থেকে পরিশ্রমের ফল পাওয়ার কথা জানিয়ে মুশফিক আরও যোগ করেন,

আমি যখন অনুশীলনের জন্য সকালে উঠি, তখন আপনাদের অনেকেই ঘুমিয়ে থাকেন। তো আল্লাহ্‌র রহমত তো আছে। আল্লাহ্‌ কিছুটা হলেও দেখেন।

এ সময় তামিমের সঙ্গে পাঁচ হাজার রানের প্রতিযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় একটা জিনিস বিশ্বাস করি, আপনি নিজে করে যতটা মজা পাবেন, সেটা যদি আপনার সতীর্থ বা বন্ধু বা ভাই করে তাহলে আনন্দটা অন্যরকম। আমার কাছে এমনই মনে হয়।’

মুশফিক আরও বলেন, ‘আমি প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি করার পর তামিমই আমার রেকর্ড ভেঙেছিল। আমি খুবই খুশি হয়েছিলাম। এটাই স্বাভাবিক। কারণ রেকর্ড হয়ই ভাঙার জন্য। ও সেটা খুবই তাড়াতাড়ি ভেঙেছে। আবার ও আমাকে বলেছিল, তুই-ই আমাকে ছাড়িয়ে যাবি। এটি খুবই স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা, যেভাবে আমরা সতীর্থরা একে অপরকে সাপোর্ট করি।’

চলতি চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম আর কনিষ্ঠতম মাহমুদুল হাসান জয়। ক্যারিয়ারের মাত্র পঞ্চম টেস্টে নিজের চোখের সামনেই দলের অভিজ্ঞতম মুশফিককে দেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৫ হাজার রান করতে দেখলেন এ তরুণ ওপেনার।

অগ্রজ সতীর্থ মুশফিকের এ কীর্তি উপভোগ করার দিন জয় পেয়েছেন নতুন এক দায়িত্ব। প্রথম পাঁচ হাজার রান করা মুশফিক এবার জয়ের কাঁধে তুলে দিয়েছেন দশ হাজার রানের প্রত্যাশা। ড্রেসিংরুমে কেক কেটে উদযাপনের সময়ই জয়কে এ বিষয়ে একপ্রকার দায়িত্বই সঁপে দিয়েছেন মুশফিক।

মুশফিকের প্রতি ঠিকই আস্থা ছিলো জেমি সিডন্সের
ড্রেসিংরূমে কেক কাটছেন মুশফিক

 

দিনের খেলা শেষে বিসিবির সরবরাহকৃত ভিডিওবার্তায় দেখা যায় পুরো দল মিলে কেক কেটে মুশফিকের পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক উদযাপন করছেন। সেখানে কেক কেটে অন্য কাউকে খাওয়ানোর আগে জয়কে খুঁজতে থাকেন মুশফিক। সেই কেক খাওয়ানোর সময় তিনি জয়কে বলেন, ‘পাঁচ হাজার নয়, তুই দশ হাজার রান করবি।’

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন