মাহেলা জয়াবর্ধনেঃ এক লঙ্কান ব্যাটিং গ্রেট

                                             মাহেলা জয়াবর্ধনেঃ এক লঙ্কান ব্যাটিং গ্রেট
মাহেলা জয়াবর্ধনে, শ্রীলঙ্কার সর্বকালের সেরা ব্যাটারদের মধ্যে এক অন্যতম ব্যাটার হলেন । ২০০০ এর দশকে বিশ্ব ক্রিকেট দাপিয়ে বেড়ানো এক অন্যতম ক্রিকেটার ছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে ।
মাহেলা জয়াবর্ধনের ব্যাটিং এ যেমন ছিলো স্টাইল, ঠিক তেমনই ছিলো ধারাবাহিকতা। দীর্ঘদিন, শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
1 2 ক্রিকেট গুরুকুল, GOLN

                   মাহেলা জয়াবর্ধনেঃ এক লঙ্কান ব্যাটিং গ্রেট

তার অধীনে, ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে শ্রীলঙ্কা।সেবার, অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারতে হয়েছিল তাদের। টেস্ট ক্রিকেটে একবার ক্রিজে সেট হয়ে গেলে, তাকে আউট করা অত্যধিক মুশকিলই হয়ে যেতো। তিনি, শ্রীলঙ্কা দলের হয়ে দলের প্রয়োজনে বিভিন্ন পজিশনেই ব্যাট করেছিলেন।
দুর্দান্ত, প্রবাহিত কৌশল এবং বড় ইনিংস খেলার যোগ্যতার জন্য তিনি দ্রুত স্কুল স্তরের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল খেলোয়াড় হয়ে উঠলেন। ১৯৯৫ সালে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে ক্রিকেটে আত্মপ্রকাশ করেন এবং ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে পরপর চারটি সেঞ্চুরি করে শ্রীলঙ্কার টেস্ট দলে ডাক পান।
2 1 ক্রিকেট গুরুকুল, GOLN
১৯৯৭ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে  জয়াবর্ধনে। এর পরের মৌসুমে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষিক্ত হন।
স্মরণীয় সাফল্য হিসেবে তিনি ২০০৬ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় ক্রিকেট দলের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাধিক ৩৭৪ রান করে ইতিহাসের পর্দায় নিজেকে ঠাঁই করে নেন।
অক্টোবর, ২০১২ পর্যন্ত টেস্টে তার গড় পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে এবং ওডিআইয়ে ত্রিশের উপর। শ্রীলঙ্কার একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনি দশ সহস্রাধিক রান করেন।
ওডিআইয়ে নিম্নমূখী গড় থাকা স্বত্ত্বেও জয়াবর্ধনে শ্রীলঙ্কার অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে বহাল রয়েছেন। তার সহযোগী খেলোয়াড় কুমার সাঙ্গাকারা’র সাথে তিনিও বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
3 ক্রিকেট গুরুকুল, GOLN
তৃতীয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হিসেবে সনাথ জয়াসুরিয়া এবং কুমার সাঙ্গাকারা’র পর তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দশ হাজার রান করেছেন। পীচের মাঝখানের বৃত্তে অবস্থানের মাধ্যমে ফিল্ডিংয়ে দক্ষতা ও সক্ষমতা প্রদর্শনে তিনি পারঙ্গমতা প্রদর্শন করতে পেরেছেন।
২০০৫ সালের শেষদিকে ক্রিকইনফো একটি প্রতিবেদনে ১৯৯৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের পর থেকে যে কোন ফিল্ডারের তুলনায় তিনি একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি রান আউট করেছেন।
ঐ পরিসংখ্যানে আরো দেখানো হয়েছে যে, ‘ক জয়াবর্ধনে ব মুরালিধরন’ লেখাটি ছিল বোলার-ফিল্ডারের সমন্বয়ে অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা যা টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
অধিনায়কত্ব ২০০৯ সালে মার্চ-এপ্রিল মাসে পাকিস্তান সফরে মাহেলা জয়াবর্ধনে টেস্ট সিরিজের নেতৃত্ব দেন। ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর ভারত পাকিস্তান সফর ভেঙ্গে দিলে ঐ সিরিজের আয়োজন করা হয়েছিল।
প্রথম টেস্টটি ড্র হয়। এতে তিনি ডাবল সেঞ্চুরি বা দ্বি-শতক করেন। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টের পর তিনি অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ঐ টেস্টে শ্রীলঙ্কা খুবই ভাল অবস্থানে ছিল। থিলান সামারাবীরা পরপর দুই টেস্টে দু’টি দ্বি-শতক এবং তিলকরত্নে দিলশান সেঞ্চুরি করেছিলেন।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টটির তৃতীয় দিনের খেলায় অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাত্রার মাঝখানে ১২ জন মুখোশধারী অজ্ঞাতনামা বন্দুকধারীদের হামলার শিকার হয় বাসটি। জয়াবর্ধনে ও তার সহযোগী আরো ছয়জন শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছয়জন পুলিশ এবং দুইজন সাধারণ নাগরিক এ আক্রমণে নিহত হন। ২০১১ ক্রিকেট বিশ্বকাপে পরাজিত হবার পর সহ-অধিনায়কত্ব থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেনতিলকরত্নে দিলশানের বিতর্কিত অধিনায়কত্বের পর তিনি পুনরায় অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগের কোচি তুস্কার্স কেরালা দলেরও অধিনায়ক ছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের সহ-অধিনায়ক হিসেবে রয়েছেন। ২৮ জুলাই, ২০১২ তারিখে জয়াবর্ধনে-সাঙ্গাকারা ৩০টি শতরানের জুটি গড়ে যা ক্রিকেট ইতিহাসে চতুর্থ। এদিন তারা ভারতের বিরুদ্ধে ৩য় একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ রেকর্ডটুকু গড়েন।
২০০১ সালে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ২য় টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে মারভান আতাপাত্তু ও মাহেলা জয়াবর্ধনে – এ দুইজন ব্যাটসম্যান টেস্ট ক্রিকেটে রিটায়ার্ড আউট হয়ে উদাহরণের সূচনা করেন।
২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল মাহেলা জয়াবর্ধনেকে বছরের সেরা আন্তর্জাতিক অধিনায়কের নাম ঘোষণা করে। পরের বছর বছরের সেরা টেস্ট ক্রিকেট খেলোয়াড়ের জন্যে মনোনয়ন লাভ করেছিলেন।
দ্বিতীয় উইকেট তথা টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে যে-কোন উইকেটে সবচেয়ে দীর্ঘতম জুটি গড়েন তিনি। জুলাই, ২০০৬ সালে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘতম জুটি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের বিপক্ষে সাঙ্গাকারা’র সাথে ৬২৪ রান করেন।
দ্বিতীয় উইকেটে তৎকালীন বিশ্বরেকর্ড ছিল কলম্বোয় অনুষ্ঠিত ভারত ক্রিকেট দলের বিপক্ষে রোশন মহানামা-সনাথ জয়াসুরিয়া’র ৫৭৬ রান। সে ম্যাচে তিনি ৩৭৪ রানের এক স্মরণীয় ইনিংস খেলেন।

মন্তব্য করুন