মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল

মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল !

উইন্ডিজের বিপক্ষে টি টোয়েন্টি সিরিজ খেলে বাংলাদেশের মাটিতে পা দিয়েছিলেন মঈন আলী। প্লেয়ার্স ড্রাফটের  আগেই মঈনকে দলে ভিরিয়েছিল, ফ্য্যাঞ্চাইজি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলে নিজের উপস্থিতি ঠিকই প্রমাণ দিচ্ছেন মঈন। এবার, খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ঝড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে হলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জয়ের নায়ক। কুমিল্লার হয়ে ৩৫ বলে ৭৫ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলেন মঈন। মঈনের এই ম্যাচজয়ী ইনিংসের সুবাদেই ১৮৮ রানের বিশাল টোটাল স্কোরবোর্ডে দাড় করায় কুমিল্লা।

মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল
ব্যাট হাতে লিটন দাস

এর আগে, টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালো করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। একের পর এক বাউন্ডারি হাকিয়ে দলকে একটি দ্রুত স্টার্ট এনে দেন কুমিল্লা ব্যাটার লিটন দাস। দলীয় ৪৩ রানে মাহমুদুল হাসান জয়ের আউট হলে, প্রথম উইকেট হারায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এরপর দলীয় ৫৩ রানে থিসারা পেরেরার বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন লিটন। আউট হওয়ার আগে ১৭ বলে ৪১ রানের এক ঝলমলে ইনিংসে খেলেন তিনি।

দলীয় ৭১ রানে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ন্স অধিনায়ক ইমরুল কায়েস আউট হলে, ব্যাটিং ক্রিজে আসেন মঈন আলী।  ক্রিজে এসেই,  একের পর ছক্কা হাকিয়ে একটি বড় টোটালের দিকে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। তার খেলা ৩৫ বলে ৭৫ রানের ইনিংসে ছিলো ১টি চার এবং ৯টি ছয়ের মার।

মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল
ব্যাট হাতে মঈন আলী

এরপর, দলীয় ১৫৪ এবং ১৫৫ রানে পরপর ফাফ ডু প্লেসিস ও সুনীল নারিনকে হারালেও কুমিল্লার ইনিংসে রানের চাকা সচল করে রাখেন মঈন আলী। দলীয় ১৭৪ রানে থিসারা পেরেরার বলে ফ্লেচারের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।  ইনিংসের শেষের দিকে মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ৬ বলে ১২ রানের ইনিংসে ১৮৮ রানের বিশাল পুঁজি পায় কুমিল্লা।

১৮৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই প্রথম ওভারে ১৬ রান করে, খুলনা টাইগার্সের হয়ে  একটি উড়ন্ত সূচনার আভাস দেন খুলনা ওপেনার অ্যান্ড্রি ফ্লেচার। তবে, এরপরের ওভারের প্রথম এবং দ্বিতীয় বলে দুই খুলনা ওপেনার অ্যান্ড্রি ফ্লেচার ও রনি তালুকদারের উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর ব্যাটার সৌম্য এবং ইয়াসির আলী রাব্বী একটি পার্টনারশিপ গড়ে খুলনাকে জয়ের কাছাকাছি পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকলেও দলীয় ৪৪ রানে ইয়সীর আলী রাব্বী নিজের উইকেট হারালে আবারো ছন্দপতন হয় খুলনার ইনিংসের।

কুমিল্লা বোলারদের বোলিং তোপে কোনো ব্যাটারই দাড়াতে পারেনি খুলনার। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে, খুলনার ইনিংস  ১২৩ রানে থামলে ,৬৫ রানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কুমিল্লা। ব্যাট হাতে ৭৫ রান এবং বল হাতে ২ উইকেট নেয়ার কারণে , ম্যাচ সেরা হন মঈন আলী।

[ মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল ]

দিনের আরেক ম্যাচে, তামিম-মাহমুদুল্লাহর ঢাকাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে সাকিবের বরিশাল।টস জিতে ব্যাট করতে নামে মিনিস্টার ঢাকা।  নাইম শেখকে পুনরায় তার পছন্দের  ওপেনিং পজিশনে ব্যটিং করতে পাঠায় মিনিস্টার ঢাকা। তবে, রীতিমত এবারো ব্যর্থ  নাইম। দলীয় ৭ রানে শফিকুল ইসলামের বলে সাকিব আল হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৯ বলে খেলে ব্যক্তিগত ৬ রানে আউট হন তিনি।

মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল
তামিম ইকবাল

দলীয় ২৯ রানে আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেন উইকেটকিপার ব্যাটার জহুরুল ইসলাম। দলীয় ৪৬ রানে আউট হন ঢাকার অধিনায়ক রিয়াদও। তবে ঢাকার ব্যাটারদের আশা যাওয়ার মিছিলে উইকেটের এক প্রান্ত ঠিকই ধরে রেখেছিলেন , পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ব্যাটার তামিম ইকবাল। ষোড়শ ওভারের শেষ বলে, দলীয় ১০৯ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল

আউট হওয়ার আগে ৫০ বলে ৬৬ রানের একটি ঝলমলে ইনিংস খেলেন তিনি। তামিমের উইকেটের পর আর কোনো ব্যাটারই দলের হাল ধরতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে, ঢাকার সংগ্রহ দাড়ার ১২৮ রান। ঢাকার হয়ে শফিকুল ইসলাম, ডোয়েন ব্রাভো এবং মেহেদী হাসান রানা নেন ২টি করে উইকেট।

১২৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে, শুরুতেই ইউনিভার্স বস ক্রিস গেইলকে হারায় বরিশাল। ১১ বলে ৭ রান করে আউট হন গেইল। তবে আরেক ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে , জয়ের বন্দরে অতি দ্রুত পৌছে দিতে থাকেন বরিশালকে। দলীয় ৪৬ রানে মুনিম শাহরিয়ারকে প্যাভিলিয়নে ফেরান, লেগস্পিনার কায়েস আহমেদ।

ব্যাট হাতে সাকিব আল হাসানআউট হওয়ার আগে, ২৫ বলে ৩৭ রানের আরেক মারকাটারি ইনিংস খেলেন মুনিম শাহারিয়ার। তবে, মুনিম আউট হওয়ার পরেও মাঠে মিরপুরে বরিশালের হয়ে অ্যাগ্রেসিভ ব্যাটিংয়ের পসরা সাজান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। নির্ধারিত ওভারের ২৭ বল আগেই ৮ উইকেট হাতে রেখে অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌছে যায় বরিশাল। ২৯ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক। যার সুবাদে, ম্যাচ সেরা হন সাকিব।

আরও পড়ুনঃ

নাইম শেখঃ আলো ছড়ানো সূর্যোদয়ের এক তমসাচ্ছন্ন প্রতিচ্ছবি

“মঈনের ব্যাটিং ঝড়ে কুমিল্লার জয়; আবারো, সাকিবের ব্যাটে হাসলো বরিশাল”-এ 1-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন