সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত

সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত : শাহাদাত হোসেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পেস বোলিং ইউনিটের এক সময়ের নিয়মিত মুখ। এক সময়ে লাল সবুজের জার্সি গায়ে মাতিয়েছেন ক্রিকেটের সবুজ গালিচা মাতিয়েছেন শাহাদাত। আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলাররা তেমন সফল না থাকলেও, শাহাদাত বেশ সফলই ছিলেন। যার কারণে ক্রিকেটের রঙিন ফরমেটে নিয়মিত জায়গা না পেলেও টেস্ট দলে ঠিকই জায়গা পেতেন।

ভারতের বিপক্ষে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে  ৫ উইকেট কিংবা  দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে ৫ উইকেট। এসব কিছুই, টেস্টে শাহাদাত হোসেন রাজিবের বোলিং ক্যাপাবিলিটির প্রমাণ দেয়। শাহাদাত নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ারে ৯৫ ম্যাচে মোট ১২৩টি উইকেট লাভ করেন।

আজকের দিনে, লর্ডসে প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে অনার্স বোর্ডে নিজের নাম তুলেছিলেন শাহাদাত হোসেন। হ্যা, ২০১০ সালের আজকের দিনে গতি-সুইং আর আগ্রাসী বোলিংয়ের মাধ্যমে খাবি খাইয়ে আউট করেছিলেন জোনাথন ট্রট, ইয়ন মরগ্যান, টিম ব্রেসনানদের।

সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত
লর্ডসে ৫ উইকেট নেয়ার পর শাহাদাত

যার কারণে, প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম উঠে তাঁর। সে ম্যাচটি বাংলাদেশ স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারলেও ম্যাচটি, বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রেমীদের হৃদয়ে এক আলাদা স্থান করে আছে।

[ সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত ]

ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের সামনে বরাবরই সুযোগ ছিলো একজন বিশ্বমানের বোলার হিসেবে ক্রিকেট পরিমন্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। কিন্তু, বরাবরই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে হয়েছেন খবরের কাগজের শিরোনাম। ক্রিকেট থেকে নিষেধাজ্ঞার কবলেও পড়েছেন বেশ কয়েকবার।

শাহাদাত হোসেন রাজিব। বাংলাদেশের দীর্ঘদেহী ফাস্ট বোলার। বাংলাদেশ টেস্ট দলের পেস বোলিং এর প্রাণভোমরা ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের হয়ে বোলিং নেতৃত্ব দিয়েছেন অবশ্য ওয়ানডেতে বেশি রান দেওয়ার কারনে বেশ সমালোচিত তিনি। তাছাড়া গৃহকর্মী নির্যাতনের মামলায় পড়েও বেশ সমালোচিত হওয়ার পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে সহকর্মীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগে বেশ সমালোচিতও হয়েছেন তিনি।

অনেক সম্ভাবনা নিয়ে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের সাথে ক্রিকেটের মক্কাখ্যাত লর্ডসে টেস্ট অভিষেক। ম্যাচে ১ম ইনিংসে ব্যাট হাতে ৪ রান করলেও ১২ ওভার বল করে কোন উইকেট পাননি। বাংলাদেশ ইনিংসে পরাজয় বরণ করায় ২য় ইনিংসে বল করার সুযোগ হয়নি তার।
তারপর ২০১৫ সালে পাকিস্তানের সাথে টেস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৩৮টি টেস্ট খেলে ৪০ রান বেস্টে ৫২১ রান ও বল হাতে ৩৮ টেস্টের মধ্যে ৬০ ইনিংসে ৬ উইকেট বেস্টে ৪ বার পাঁচ বা ততোধিক উইকেট শিকারের মাধ্যমে ৭২ উইকেট শিকার করেন। পেস বোলারদের মধ্যে একমাত্র মাশরাফি শাহাদাতের চেয়ে বেশি উইকেট পান। কিন্তু মাশরাফির বেস্ট ৪ উইকেট। বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে একমাত্র শাহাদাতই লর্ডস টেস্টে পাঁচ উইকেট শিকার করে অনার্স বোর্ডে নাম লিখিয়েছেন।
২০০৬ সালে কেনিয়ার সাথে ওয়ানডে অভিষেক। ম্যাচে বল হাতে ৫ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ১ উইকেট শিকার করেন। তারপর ২০১৩ সালে শ্রীলংকার সাথে শেষ ওয়ানডে খেলা পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ৫১টি ম্যাচ খেলে অপরাজিত ১৬ রান বেস্টে ৭৯ রান সংগ্রহ করেন। বল হাতে ৩ উইকেট বেস্টে ৪৭ উইকেট শিকার করেন।
২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ে সিরিজের ৩য় ওয়ানডেতে হারারে স্পোর্টস কাব মাঠে প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে হ্যাট্রিক করেন শাহাদাত হোসাইন।
সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার পর শাহাদাত
২০০৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম টি২০ ম্যাচেই অভিষেক। ম্যাচে ব্যাট হাতে ৩ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন। ২০১৩ সালে শ্রীলংকার সাথে ক্যারিয়ারের শেষ টি২০ ম্যাচ খেলার আগ পর্যন্ত মোট ৬টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৪ রান বেস্টে মোট ৮ রান করার পাশাপাশি বল হাতে ২ উইকেট বেস্টে ৪ উইকেট শিকার করেন।
মাশরাফি ও শাহাদাত হোসাইন টেস্ট ও ওয়ানডেতে দীর্ঘদিন জুটিবদ্ধ হয়ে বল করেছেন। বোলিং এ সাফল্যও এনে দিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে দলের বিপর্যয়ে ছোট ছোট ইনিংসের মাধ্যমে দলের হালও ধরেছেন। দীর্ঘদেহী ও আগ্রাসী বোলিং এর কারনে ক্রিকেট বিশ্বের নজর কাড়তে পেরেছেন তিনি।
সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত
২০১২ এশিয়া কাপে শাহাদাত
২০১২ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের সাথে ইনিংসের শেষ ওভারে বাজে বোলিং করে এবং পরবর্তীতে ম্যাচ হেরে ব্যাপক সমালোচিত হন শাহাদাত হোসাইন।ওয়ানডেতে নিয়মিত না হলেও টেস্ট ক্রিকেটের অপরিহার্য্য বোলার হিসেবেই দীর্ঘদিন খেলেছেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে পাকিস্তান টেস্টের ১ম ইনিংসে মাত্র ২ বল করেই ইনজুরিতে আক্রান্ত হলে তারপর আর দলে ফেরা হয়নি তার।
সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার শেষে, বিসিবির কাছে মানবিক আবেদনের পর অবশেষে ঘরোয়া ক্রিকেটে ফেরেন শাহাদাত। তবে, সর্বশেষ বিপিএলে কোনো দল পাননি শাহাদাত।

সেদিন লর্ডসে বাঙালিদের মাথা উঁচু করেছিলেন শাহাদাত

মন্তব্য করুন