বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে?

বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে?

এ বছরেরই মার্চ মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। সে হিসেবে টেস্ট সিরিজেও বাংলাদেশের উপর সমর্থকদের প্রত্যাশা একটু বেশিই ছিলো। তবে, প্রথম টেস্টে ব্যাটারদের ব্যাটিং ব্যার্থতায় দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন ভেলকিতে অসহায় আত্মসমর্পণ করে বাংলাদেশ। আজ বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টায় শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট।

 

বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে?
মোমিনুল হক

 

এর আগে, প্রথম টেস্ট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে স্লেজিংয়ের অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন,

“স্লেজিং তো হয় মাঠে। স্লেজিং হবে, এটা স্বাভাবিক। স্লেজিং যদি মাঝেমাঝে অ্যাবিউসের (গালাগালি) কাছে চলে যায়, তখন এটা খুব খারাপ। আমার কাছে মনে হয়, ওরা অ্যাবিউস করছিল, খুব বাজেভাবে। যেটা আম্পায়ারও জিনিসগুলো আমার কাছে মনে হয়… ওইভাবে ওদের নোটিশ করেনি।”

কী ধরনের গালাগাল করেছেন প্রোটিয়া ক্রিকেটাররা, সেটি অবশ্য প্রকাশ করতে রাজি হননি মুমিনুল। টাইগার টেস্ট অধিনায়ক বলেন, “এগুলো শেয়ার করা যাবে না। আম্পায়াররা হয়তো ওভাবে খেয়াল করেননি।” 

[ বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে? ]

এছাড়াও, প্রথম টেস্টে আম্প্যারিংয়ের বিরুদ্ধেও প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা। এ বিষয়ে আইসিসির কাছে অভিযোগ করার কথাও জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস। তিনি জনপ্রিয় ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে এই বিষয়ে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন,

“ওয়ানডে সিরিজের পর আমরা আম্পায়ারিং নিয়ে একটি অভিযোগ করেছি। তখন ম্যাচ রেফারি প্রাথমিকভাবে আমাদের টিম ম্যানেজার নাফিস ইকবালের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছিল। তবে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর সে নরম হয়। আমরা আরেকটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করবো প্রথম টেস্টের পর।”

ডারবান টেস্টে মাঠের মধ্যে চলা স্লেজিং নিয়ে কথা বলেছেন অধিনায়ক মুমিনুল হকও। তার মতে, স্বাগতিকদের স্লেজিংয়ের মাত্রা কখনও কখনও গালাগালির পর্যায়ে চলে যাচ্ছিল। কিন্তু এ বিষয়ে আম্পায়ারদের কাছে অভিযোগ করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল বলেছেন,

“স্লেজিং তো হয় মাঠে, স্লেজিং হবে এটা স্বাভাবিক। স্লেজিং মাঝে মাঝে যদি গালাগালির জায়গায় চলে যায় সেটা খুব খারাপ। আমার মনে হয় মাঝে মাঝে ওরা গালিগালাজ করছিল খুব বাজেভাবে। যেটা আম্পায়ারও সেভাবে খেয়াল করেনি।”

এ বিষয়ে জালাল ইউনুস ক্রিকইনফোকে বলেছেন,

“অবশ্যই দুই দলই স্লেজিং করেছে। কিন্তু যখন তারা এটি শুরু করে, মাত্রা বজায় রাখেনি। আমরা আম্পায়ারদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি। এগুলো গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমরা এর নিন্দা জানাই। অবশ্যই আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মানতে হবে। তবে আইসিসির উচিত নিরপেক্ষ আম্পায়ারে ফেরা।”

মোমিনুলের অভিযোগে পালটা জবাব দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট অধিনায়ক ডিন এলগার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের টেস্ট ক্রিকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার মতো শক্ত মানসিকতার ঘাটতি রয়েছে।

আমার মনে হয় না, তাদের কথার ভিত্তি আছে। আমরা লড়াকু ক্রিকেট খেলি। যদি কিছু হয়েও থাকে, আমরা স্রেফ ওদেরকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলাম, যা আমরা নিজেরা ব্যাটিংয়ে নেমে পেয়েছিলাম।”

 

বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে?
ডিন এলগার

 

টেস্ট ক্রিকেট পৌরষের খেলা, এমন কটাক্ষও এলগারের মুখে। তার ভাষায়,

“এটা টেস্ট ক্রিকেট। এই পর্যায়ে খেলা হয় পৌরষত্বের আবহে। আমরা লড়াকু ক্রিকেটই খেলি। নিশ্চিত করে বলছি, কোনোভাবেই আমরা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের বাজে ভাষা ব্যবহার করিনি। কারণ, আমরা তাদের সম্মান করি। তবে আমার মনে হয়, এই পর্যায়ে খেলতে হলে ওদেরকে আরও শক্ত হতে হবে, যেটায় ওরা হয়তো অভ্যস্ত নয়।”

এদিকে মাঠের বাহিরের আলোচনার পাশাপাশি মাঠের ভেতরেও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়া হবে দক্ষিণ  আফ্রিকার ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। এই টেস্ট ভেন্যুই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের  প্রিয় ভেন্যু। তাই এ ভেন্যুর খুঁটিনাটি সব কিছুই জানেন। তাই নিজ শিষ্যদের এ ভেন্যুর কন্ডিশনের সঙ্গে আগেই সতর্ক করে দিলেন অ্যালান।

 

বাংলাদেশ কি পারবে কামব্যাক করতে?
অ্যালান ডোনাল্ড

 

তিনি বলেন,

” এটা দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে পুরাতন মাঠ। দারুণ ঐতিহ্যবাহী টেস্ট ভেন্যু। এখানে আসতে ভালো লাগে। এখানে দর্শক হয়, অনেক শোরগোল থাকে। এই মাঠে অনেক দলের বিপক্ষে আমার ভালো অনেক স্মৃতি আছে। এটা এমন একটা উইকেট যেখানে ব্যাটার কিংবা বোলারের হাতে ম্যাচ থাকবে না আবার ছুটেও যাবে না। এই জায়গায় সবসময় কিছু না কিছু ঘটেই।”

তিনি আরো বলেন,

” পোর্ট এলিজাবেথে একটি ব্যাপারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে, তা হচ্ছে বাতাস। সাড়ে ১২টা থেকে ২টার মধ্যে প্রবল বাতাস আসে এখানে। দল হিসেবে আমরা সেটি নিয়ে কথা বলেছি। উঁচু ক্যাচ নেওয়া এখানে সত্যিকারের স্কিলের ব্যাপার। বাঁক খাওয়ানো ক্যাচ, লম্বা ক্যাচিংয়ের অনুশীলন অনেক করতে হবে আমাদের। জানতে হবে, কোন পাশ থেকে বাতাস আসছে। বিকেলের শেষভাগে স্কোরবোর্ডের দিক থেকে ৪০-৪৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস আসে। এটার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।”

এখন দেখার বিষয় দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আবারো একবার বিজয় নিসান উড়াতে পারবে বাংলাদেশ নাকি প্রথম টেস্টের মতো দ্বিতীয় টেস্টেও রচনা করবে ব্যার্থতার কাব্য।

 

বিশ্ব ক্রিকেটে অবসরের হিরিক

 

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন