রিভিউ বিতর্কে বিপিএল; চলছে নিম্ন মানের আম্পায়ারিং

রিভিউ বিতর্কে বিপিএল; চলছে নিম্ন মানের আম্পায়ারিং !!!

ক্রিকেট খেলার সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হলো, আম্পায়ারিং। আম্পায়ারিং যথাযথ হলে একটি খেলা যেমন সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়। ঠিক তেমনি নিম্নমানের আম্পায়ারিং  ক্রিকেট খেলার সৌন্দর্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে দেশের ক্রিকেটে এ বাজে মানের আম্পায়ারিং বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ করছে দেশের ক্রিকেট কাঠামোকে।

আম্পায়ারিং - রিভিউ বিতর্কে বিপিএল; চলছে নিম্ন মানের আম্পায়ারিং
নাজমুল হাসান শান্তর বিতর্কিত উইকেট

চট্টগ্রামে চলছে ফরচুন বরিশাল বনাম চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ম্যাচ।প্রথম ইনিংসের দশম ওভারের তৃতীয় বল, ব্যাটিংয়ে বরিশাল ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। বোলিংয়ে আছেন চট্টগ্রাম বোলার আফিফ হোসেন।

আফিফ হোসেনের গুড লেন্থের বল ব্যাক ফুটে গিয়ে কাট করলেন, বরিশাল ব্যাটার নাজমুল হোসেন শান্ত। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স বোলার এবং উইকেটকিপার আপিল করলে নট আউট দেন। অন ফিল্ড আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল।

কিন্তু, এরপরে চট্টগ্রাম দল এডিআরএস নেয়ার সিদ্ধান্ত নিলে থার্ড আম্পায়ার তাকে আউট ঘোষণা করে। টিভি স্ক্রীণে রিপ্লে দেখে পরিস্কার বোঝা যাচ্ছিল যে বরিশাল ব্যাটার শান্তর ব্যাটে বলই নাগেনি। তবুও, থার্ড আম্পায়ারের ভুলের শিকার হলেন বরিশাল ব্যাটার শান্ত।

[ রিভিউ বিতর্কে বিপিএল; চলছে নিম্ন মানের আম্পায়ারিং ]

শুধু এই একট ঘটনাই নয়, নিম্ন মানের আম্পায়ারিং চোখে পড়েছে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসেও। চট্টগ্রাম ব্যাটার নাইম ইসলামকে করা সাকিব আল হাসানর বলে যে এলবডব্লিউ হয়ে উইকেটের পতন ঘটে, তাও ছিলো বিতর্কিত।

রিভিউ বিতর্কে বিপিএল; চলছে নিম্ন মানের আম্পায়ারিং
নাইম ইসলামের বিতর্কিত আউট

 

ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ, বিসিএল কিংবা এনসিএল সব জায়াগায় নিম্ন মানের আম্পায়ারিং দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নকে তরাণ্বিত করছে,নষ্ট করছে এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বলি হওয়া ক্রিকেটারদের রিদম।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সাকিবের বরিশাল। ইনিংসের শুরুতেই শরীফুল ইসলামের করা লেগ স্ট্যাম্পের বল ব্যাকফুটে এসে ফাইন লেগে খেলতে গিয়ে নিজের উইকেট বিলান ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার।

শাহরিয়ার আউট হওয়ার পর ব্যাটার নাজমুল হাসান শান্তকে নিয়ে ৪২ রানের একটি জুটি করেন ক্রিস গেইল। দলীয় ৪২ রান উইল জ্যাকসের বলে মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন গেইল। এরপর শান্তকে নিয়ে আরেকটি বড় পার্টনারশিপের পথে অগ্রসর ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

সাকিব আল হাসান
সাকিব আল হাসান

দলীয় ৭৫ রানে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে আউট হন শান্ত। শান্তর উইকেটের পতনের পর তরুণ তুর্কি তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৫৫ রানের একটি জুটি গড়েন অধিনায়ক সাকিব।১৩০ থেকে ১৪৯ রানে টানা ৭ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় বরিশাল। বরিশালের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫১ রান করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

১৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দলীয় শূন্য রান মুজিবুর রহমানের বলে আউট হন চট্টগ্রাম ওপেনার উইল জ্যাকস। এরপর দুই তরুণ আফিফ হোসেন এবং শামিম পাটোয়ারী ৭০ রানের জুটি করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন।

তবে ৭০ থেকে ৯৬, ২৬ রানের মধ্যেই টানা ৬ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। শেষের দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ১৩ বলের ২৬ রানে একটি আক্রমণাত্মক ইনিংস খেললেও তা বাচাতে পারেনি ম্যাচ।

বরিশালের হয়ে ৩ টি করে উইকেট নেন সাকিব আল হাসান এবং মুজিবুর রহমান। নিজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যের কারণে ম্যাচ সেরা হন, বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

দিনের প্রথম ম্যাচে, সিলেটে টস হেরে ব্যাট করতে নামে ঢাকা। শুরুতেই আফগান হার্ড হিটার ব্যাটার মোহাম্মদ শেহজাদের উইকেট হারায় ঢাকা। শেহজাদ আউট হলেও থামেননি ঢাকার আরেক ওপেনার তামিম,  উইকেট কিপার ব্যাটার ইমরানুজ্জামানের সঙ্গে গড়েন ৪৮ রানের একটি জুটি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

সপ্তম ওভারের দ্বিতীয় বলে কারিম জান্নাতের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরের ফেরেনঢাকার উইকেটকিপার ব্যাটার ইমরানুজ্জামান। দলীয় ৮৫ রানে কারিম জান্নাতের বলে তানভীর ইসলামের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি।৪৬ বলে ৪৫ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তামিম।

তামিম আউট হওয়ার পর দলের হাল ধরেন ঢাকার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলীয় ১১০ রানে চতুর্থ উইকেটের পত ঘটে ঢাকার। ব্যাক্তিগত ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

এরপর অধিনায়ক রিয়াদের সঙ্গে ২০ রানের পার্টনারশিপ করেন হার্ড হিটার ব্যাটার অ্যান্ডরি রাসেল। তবে কিছুটা ঝলক দেখিয়ে ১টি চার এবং ১টি ছয় মেরে নিজের ইনিংস বড় না করেই ব্যাক্তিগত ১১ রানে তানভীর ইসলামের বলে বোল্ড হন তিনি।

অন্যান্য ব্যাটারদের আশা যাওয়ার মিছিলে ব্যাট  হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন ঢাকার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন তিনি।তার ৭১ রানের উপর ভিত্তি করে ১৮১ রানের বড় পুঁজি পায় ঢাকা।

১৮২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় শূন্য রানে আউট হন কুমিল্লার ফর্মে থাকা ব্যাটার লিটন দাস। দলীয় ১২ রানে রান আউটে কাটা পরে নিজের উইকেট হারান আগের ম্যাচের কুমিল্লার হাই স্কোরার ফ্যাফ ডু প্লেসি।

এরপর দলের হাল ধরেন , কুমিল্লার অধিনায়ক ইমরুল কায়েস এবং তরুণ তুর্কি মাহমুদুল হাসান জয়। তবে ইমরুল এবং জয়ের উইকেটের পতনের পর কোনো ব্যাটারই কুমিল্লাকে জয়ের বন্দরে পৌছে দিতে পারেননি।নিজের ৪১ বলে অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংসের জন্য ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ঢাকা অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

আরও পড়ুন:

অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপঃ সুপারস্টার তৈরির এক আদর্শ মঞ্চ

মন্তব্য করুন