দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন যারা

দুই দেশের হয়েই সেঞ্চুরি করেছেন যারাঃ দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন এমন খেলোয়াড়দের তালিকায় আগে ছিলো মাত্র দুই জন ক্রিকেটারের নাম এবং তাঁরা হলেন ইয়ন মরগ্যান ও এড জয়েস। তবে, সম্প্রতি দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়দের মধ্যে যুক্ত হয়েছে নতুন নাম এবং সেটি হলো মার্ক চ্যাপম্যান।

মার্ক চ্যাপমান সর্বপ্রথম নিজের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন হংকং জাতীয় দলের  হয়ে খেলার মাধ্যমে। তবে, বর্তমানে তিনি নিউজিল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন।

হংকংয়ে খেলার সময় তিনি একটি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের জার্সি গায়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে ম্যাচে  সেঞ্চুরি করেছেন। যার সুবাদের দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হয়ে গেলো তারও নাম।

 

দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন যারা

 

ইয়ন মরগান

দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন যারা
ইয়ন মরগান

জন্মসূত্রে আইরিশ ইয়ন  মরগান ওয়ান ডে খেলেছেন আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড দু’দলের হয়েই। ২০০৬ সালে আয়ারল্যান্ডের জার্সিতে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। আইরিশদের হয়ে ২৩টি ওয়ান ডে খেলা মর্গ্যান ২০০৯ সালে জার্সি বদলে হয়ে যান ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইয়ন মরগান। ২০০৭ সালের উইন্ডিজ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন তিনি। এর কয়েক বছর পরই আয়ারল্যান্ড দল ছেড়ে ইংল্যান্ড দলে যোগ দেন তিনি। ২০১৮ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন সাবেক এ আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটার।

গ্রুপ-পর্বের খেলায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিজ মাতৃভূমি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দলের সর্বোচ্চ রান করেন।এছাড়াও, সুপার এইট পর্বে নিউজিল্যান্ডের পক্ষেও তিনি একই ভূমিকা নেন।দলের কার্যকরী বোলিং ও কেভিন পিটারসন এবং ক্রেইগ কাইজওয়েটারের অর্ধ-শতকে সেমি-ফাইনাল ও ফাইনালে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের প্রান্তে নিয়ে যান।

আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে ফ্রেডরিক ফেনের সেঞ্চুরি করার শতাধিক বছর পর জুলাই, ২০১০ সালে ট্রেন্ট ব্রিজে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ইয়ন মর্গ্যান তার এ রেকর্ডের সাথে যুক্ত হন। এর আগে, ২০০৭ সালে আয়ারল্যান্ডের হয়ে কানাডার বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন মরগান।

এড জয়েস

দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করেছেন যারা
এড জয়েস

দুই দেশের হয়ে সেঞ্চুরি করা খেলোয়াড়দের মধ্যে আরেক নাম হলো এড জয়েস। জয়েস আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড উভয় দলের হয়েই সেঞ্চুরি করেছেন।

১৯৯৯ সালে মিডলসেক্স কাউন্টি দলের মাধ্যমে ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে জয়েসে। এর পরের বছরই তিনি এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি মিডলসেক্সের নিয়মিত সদস্য ছিলেন।
২০০২ সালে চার সেঞ্চুরিসহ ৫১.০০ রান গড়ের অধিকারী ছিলেন। ওয়াইস শাহের পরিবর্তে ২০০৪ মৌসুমের মাঝামাঝি সময়কাল থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু ২০০৫ মৌসুমে তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন না।
আইসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ড দলের পক্ষে অনেকগুলো খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় তার ব্যাটিং গড় ছিল ৭০-এর অধিক। অক্টোবর, ২০০৫ সালে ইংল্যান্ড ক্রিকেট একাডেমির পক্ষে খেলার জন্য ডাক পান জয়েস। এরপর ২০০৬ সালে  ইংল্যান্ড এ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যান।
জুন, ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার জন্য ইংল্যান্ডের একদিনের দলের সদস্য হন। বেলফাস্টের স্টরমন্ট পার্কে ইংল্যান্ডের হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআই অভিষেক ঘটে। দুইদিন পর তিনি প্রথম টুয়েন্টি২০ আন্তর্জাতিকে খেললেও হাঁটুর আঘাতে তাকে চার সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে অবস্থান করতে হয়।
১৪ জুলাই, ২০০৬ তারিখে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে তিনি তার সেরা ইনিংস ২১১ রান সংগ্রহ করেন। ১৫ নভেম্বর, ২০০৬ তারিখে মার্কাস ট্রেসকোথিকের আঘাতজনিত কারণে ইংল্যান্ডের নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতি ডেভিড গ্রাভানি জয়েসকে ২০০৬-০৭ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে তাকে অন্তর্ভুক্ত করেন।
অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ওয়াইস শাহ ও রবার্ট কী থাকা স্বত্ত্বেও তার দলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ক্ষাণিকটা বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু সিরিজের কোন টেস্টেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো হয়নি। কেভিন পিটারসনের আঘাতের কারণে পরিবর্তিত খেলোয়াড় হিসেবে ২০০৬-০৭ মৌসুমের কমনওয়েলথ ব্যাংক সিরিজের একদিনের খেলায় নয়টি খেলায় ৩২.০০ গড়ে ২৮৮ রান করেন।
তন্মধ্যে পার্থের ওয়াকা গ্রাউন্ডে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তার প্রথম অর্ধ-শতক করেন। ঐ খেলায় তার দল পরাজিত হয়েছিল। ঐ সিরিজে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের খেলায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২ ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ তারিখে ইংল্যান্ড দলকে জয়ে সহায়তা করেন তিনি।
ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ১৪২ বলে ১০৭ রান করে দলকে ২৯২/৭ সংগ্রহে সহযোগিতা করেন। এরফলে প্রথম ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে নিজ দেশের বাইরে ১৯টি ওডিআইয়ের পর প্রথম সেঞ্চুরি রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন।
জয়সে ২০০৭ বিশ্বকাপে  ইংল্যান্ডের হয়ে খেললেও ২০১১ এবং ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলেছেন আয়ারল্যান্ডের হয়ে।

মন্তব্য করুন