দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের

দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের : পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টের দ্বিতীয় দিনও নিজেদের নামে করতে পারলো না সফরকারি বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে খালেদ আহমেদ দ্রুত ১টি উইকেট তুলে নিলেও কোনোভাবেই দিনটি নিজেদের নামে করে রাখতে পারলো না বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের
ব্যাটিং করছেন কেশভ মাহারাজ

আগেরদিন ৫ উইকেটে করা ২৭৮ রান নিয়ে আজকের দিনের খেলা শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দিনের সপ্তম ওভারে দলীয় ৩০০ পূরণ করে ফেলে তারা। তবে সেই ওভারেই ঠিক ৩০০ রানের মাথায় ভেরেনকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেন খালেদ।

[ দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের ]

দুই অপরাজিত ব্যাটার কাইল ভেরেন ও উইয়ান মাল্ডারের আজকের দিনের শুরুটা ছিল সতর্ক-সাবধানী। তবে সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের চাকা সচল রাখছিলেন তারা। দিনের পঞ্চম ও ইনিংসের ৯৫তম ওভারের চতুর্থ বলে ঘটে উত্তাপ ছড়ানো ঘটনা।

খালেদের বলে স্ট্রেইট ড্রাইভ করেছিলেন ভেরেন। সেটি ধরে সোজা থ্রো করে বসেন খালেদ। যা গিয়ে লাগে ভেরেনের গ্লাভসে। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে দুঃখপ্রকাশের ভঙ্গি করেন খালেদ। কিন্তু তা মানতে রাজি ছিলেন না ভেরেন। তিনি বরং নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে আড়চোখে দেখতে থাকেন খালেদকে।

তখন ভেরেন ও খালেদের মধ্যে বাদানুবাদের উপক্রম হলে ইয়াসির আলি রাব্বি এসে সরিয়ে নেন দুজনকে। আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস তখন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হককে বুঝিয়ে দেন তার দলের খেলোয়াড়দের আরও সতর্ক রাখার ব্যাপারে।

এক ওভার পর খালেদের করা অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে চার মেরে দলীয় ৩০০ পূরণ করেন ভেরেন। তবে এক বল পরই দারুণ এক ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ভেরেনকে বোকা বানিয়ে স্ট্যাম্প ছত্রখান করে দেন খালেদ। সাজঘরে ফেরার আগে ২২ রান করেছেন ভেরেন।

দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের
ব্যাটিং করছেন কেশভ মাহারাজ

৪০০ রান করাই যেখানে কঠিন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে, সেখানে কেশভ মাহারাজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়াদের স্কোর পার হয়ে গেলো সাড়ে চারশত রান। শেষ পর্যন্ত ৪৫৩ রানে অলআউট হলো স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। তাইজুল ইসলাম নিয়েছেন ৬ উইকেট।

লিজাড উইলিয়ামসকে মেহেদী হাসান মিরাজ এলবিডব্লিউ করার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হলো প্রোটয়িাদের প্রথম ইনিংস।

বল হাতেই নয় শুধু, ব্যাট হাতেও মারাত্মক বিধ্বংসী হয়ে উঠেছিলেন কেশভ মাহারাজ। দক্ষিণ আফ্রিকার রানকে ৪০০ পার করে দিয়েছেন ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরিতে। শুধু তাই নয়, ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দিকেও এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পার পারলেন না।

সেই তাইজুল ইসলামই ফেরালেন কেশভ মাহারাজকে। তার ঘূর্ণি বলে বোল্ড হয়ে গেলেন প্রোটিয়াদের বিধ্বংসী হয়ে ওঠা এই ব্যাটার। ৯৫ বলে ৮৪ রান করেছেন তিনি। ৯টি বাউন্ডারির সঙ্গে তিনি ৩টি ছক্কার মারও মেরেছেন।

সে সঙ্গে পঞ্চম উইকেটের মাইলফলক পূর্ণ হয়ে গেলো তাইজুলের। টেস্ট ক্রিকেটে এ নিয়ে ১০মবার পঞ্চম উইকেটের দেখা পেলেন বাংলাদেশের এই বাঁ-হাতি অর্থোডক্স স্পিনার। দলের পক্ষে অন্য তিন উইকেট শিকার করেছেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৫৩ রানের জবাবে নিয়মিত বিরতিতে একের পর উইকেট হারিয়ে দারুণ বিপর্যয়ে বাংলাদেশ দল। পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জ পার্কে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ৪৫৩ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ১২২ রান তুলতেই হারিয়েছে ৫ উইকেট।

দ্বিতীয় দিন শেষ করেছেন বাংলাদেশ ১৩৯ রানে। বাংলাদেশ দলের আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলছেন মুশফিকুর রহিম। ৫৫ বলে ৩০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন তিনি। তার সঙ্গে ৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন ইয়াসির আলি রাব্বি।

প্রথম ইনিংসেই ৪৫৩ রানের বিশাল স্কোরের নিচে চাপা পড়েছে বাংলাদেশ। তবে, পোর্ট এলিজাবেথের সেন্ট জর্জ পার্কের উইকেট মোটামুটি ব্যাটিং বান্ধব- এটা বলাই যাচ্ছিল। সে কারণে সবার প্রত্যাশা ছিল যে বাংলাদেশের ব্যাটাররাও প্রতিরোধ গড়তে পারবে।

কিন্তু শুরুতেই সে আশার গুড়ে বালি। ডারবান টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয় কোনো রান না করেই আউট হয়ে গেলেন। সেঞ্চুরি করার পর এ নিয়ে টানা দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলেন তিনি।

দলীয় ৩ রানের মাথায় দুয়ানে অলিভিয়েরের বলে জয়ের উইকেট হারানোর পর শঙ্কা জেগেছিল, এটা কী কোনো শঙ্কাজনক চিত্রের শুরু মাত্র? কিন্তু না, সে শঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল এবং ওয়ান ডাউনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত।

দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের
দ্বিতীয় দিন শেষে ছন্নছাড়া অবস্থা বাংলাদেশের

গত বছর এপ্রিল-মে মাসে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিলেন তামিম। প্রায় এক বছর বিরতি দিয়ে আবারও টেস্ট আঙ্গিনায় বাংলাদেশের সেরা ওপেনার। তার ওপর তাই প্রত্যাশাও বেশি। সে প্রত্যাশার চাপ সামলে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন তামিম ইকবাল।

কিন্তু হঠাৎ করেই দ্রুত তামিম এবং শান্ত- দু’জনেরই উইকেট হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। ৭৯ রানের জুটি গড়েন তামিম-শান্ত। এর মধ্যে দলীয় ৮২ রানের মাথায় উইয়ান মালদারের বলে এলবিডব্লিউ আউটের শিকার হন তামিম ইকবাল। ৫৭ বলে ৪৭ রান করেন তিনি। যদিও চাইলে তিনি রিভিউ নিতে পারতেন। রিভিউতে দেখা গেছে, বল লেগ স্ট্যাম্প ঘেঁষে চলে গেছে। ঝুঁকিটা নিতে পারতেন তামিম। কিন্তু তিনি নিলেন না।

এক ওভার বিরতি দিয়ে আবারও উইকেট নিলেন উইয়ান মালদার। এবার তিনি এলবিডব্লিউর শিকারে পরিণত করলেন নাজমুল হোসেন শান্তকে। ব্যাটকে ফাঁকি দিয়ে বল পায়ে আঘাত হানে। বোলারের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে লাভ হলো তাদেরই। আউট হয়ে যান শান্ত। ৭৪ বলে ৩৩ রান করেন তিনি।

মুমিনুল হক এবং মুশফিকুর রহিম মিলে জুটি গড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। জুটিটা বড় হলো না। ১৫ রানের জুটি ভেঙে যায় মুমিনুল হক ৬ রানে আউট হওয়ার পর। এরপর ব্যাট করতে নামেন লিটন দাস। তিনিও বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। মাত্র ১১ রান করে আউট হয়ে যান।

প্রোটিয়াদের হয়ে উইয়ান মালদার ৬ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। দুয়ানে অলিভিয়ের নেন ২ উইকেট।

আরও পড়ুন:

আবারো নারী ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া

মন্তব্য করুন