তাসকিনের ইনজুরির আসল কারণ

তাসকিনের ইনজুরির আসল কারণ : তাসকিন আহমেদ, বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এক প্রাণ ভোমরা। তাসকিন আহমেদের বোলিং নৈপুণ্যে, প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। এছাড়াও, প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্ট জয়েও গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করেন তাসকিন-আহমেদ। কিন্তু, বর্তমানে ইনজুরিতে পড়ে দলের বাহিরে রয়েছেন দলের এক অন্যতম  ভরসাযোগ্য খেলোয়াড় তাসকিন-আহমেদ।

তাসকিনের ইনজুরির আসল কারণ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাসকিন

তাসকিন আহমেদ এ বছর এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে  বোলিং করেছেন মোট ১৫ দিন। এ ১৫ দিনে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করেছেন ৯৪১টি। অর্থাৎ, এ বছরে সপ্তাহ প্রতি তিনি বল করেছেন মোট ৪৪০টি। এ হিসেবে, বিপিএল কিংবা নেট প্র্যাক্টিস ছাড়া শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেই তার বোলিংয়ের হিসেব তুলে ধরা হচ্ছে।

এ মুহুর্তে, আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষ বোলার হচ্ছেন প্যাট কামিন্স। প্যাট কামিন্স এ বছরে এখন পর্যন্ত ১২ দিন বোলিং করেছেন। এ, ১২ দিনে তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট বল করেছেন ৬৮৯টি। অর্থাৎ, প্রতি সপ্তাহে তিনি মোট ৪০১টি বল করেছেন।

[ তাসকিনের ইনজুরির আসল কারণ ]

অপরদিকে, পাকিস্তানী ফাস্ট বোলার শাহীন আফ্রিদি এ বছর এখন পর্যন্ত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে  ১৩ দিন বোলিং করেছেন। এ ১৩ দিনে, তিনি মোট বল করেছেন ৭৫৯টি। সপ্তাহের হিসেবে, দাড়াচ্ছে ৪০৮টি।

অর্থাৎ, শাহীন শাহ আফ্রিদি এবং প্যাট কামিন্সের তুলনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাসকিন-আহমেদের ওয়ার্ক লোড অনেক বেশি।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, একজন ২৭ বছরের বেশি বয়সী বোলার যদি এক সপ্তাহে  ১৭০টিরও বেশি বোলিং করেন, সেক্ষেত্রে সে পেস বোলারের ইনজুরিতে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

এজন্যই, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পেস বোলারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের দিকটি বেশ গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ইংল্যান্ডের দিকে তাকালে বোঝা যায়, তারা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তাদের পেস বোলারদের ম্যাচ খেলান, কোনো পেসারকে টানা তারা ম্যাচ খেলান না।

এছাড়া, সম্প্রতি উইন্ডিজ দল থেকেও তাদের সেরা অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারকেও বিশ্রাম দেয়া হয়েছে এ ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কথা চিন্তা করে।

পিচ ভিশন অ্যাপের মাধ্যমে, বোলারদের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের হিসেব করা যায়।

তাসকিন আহমেদ নিউজিল্যান্ড সিরিজে ১ থেকে ১০ জানুয়ারির মধ্যে মোটঁ ৬ দিন বোলিং করেছেন। এ ৬ দিনে তিনি মোট বল করেছেন ৪৩৭টি। বাকি ৪ দিন তিনি বিশ্রাম পেয়েছেন। এ পিচ ভিশন, অ্যাপের মাধ্যমে  ২ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে সে তার বোলিং সীমা থেকেও অনেক বেশি বোলিং করেছেন। অর্থাৎ, এ কয়দিনের মধ্যেই তার ইনজুরিতে পড়ার একটা জোর সম্ভাবনা ছিলো। এর মধ্যে, ৯ জানুয়ারিতে তাসকিন আহমেদকে দিয়ে টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেটে মোট ১৩২টি বল করানো হয়েছিল যেটি একজন পেস বোলারের জন্য বিপজ্জনক একটি বিষয়।

একজন বোলারকে দিনে কতো ওভার বল করাতে হবে কিংবা কতো ওভার রেস্ট দিতে হবে, এসব কিছুই একজন অধিনায়ককে চিন্তা করতে হয়।

তাসকিনের ইনজুরির আসল কারণ
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে তাসকিন

গত নিউজিল্যান্ড সফরে তাসকিন আহমেদের একটা ইনজুরির শঙ্কা ছিলো। এরপরে, তিনি ২০২২ বিপিএল খেললেন সিলেট সানরাইজার্সের হয়ে। এ বিপিএলেও, তাসকিন-আহমেদ ইনজুরিতে পড়েন। এ ইনজুরি থেকে ফিরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজের জন্য তাসকিন-আহমেদকে দলে নেয়া হয়।

তাসকিনের ইনজুরির আসল কারণ
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে তাসকিন

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পর, মোট ৬ দিন ছিলো তাসকিন আহমেদের ওয়ার্কিং পিরিয়ড। এ ৬দিনে, তাসকিন-আহমেদ বল করেছেন মোট ৩৪২টি। পিচ ভিশন অ্যাপের মাধ্যমে জানা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে ৩১শে মার্চ থেকে ২ এপ্রিলের মধ্যে তাসকিন-আহমেদের ওয়ার্কলোডের সীমা অতিক্রম করেছে। যার ফলে, আমরা পরবর্তীতে দেখতে পাই তাসকিন-আহমেদ ইনজুরির কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে পারেননি।

তাসকিন আহমেদ নিজের ফিটনেসের জন্য দিনের পর দিন অনেক কাজ করেছেন, নিজের ফিটনেস লেভেল আপগ্রেড করেছেন। যার কারণে, আবারো আগের মতো বলের গতি তিনি খুঁজে পেয়েছেন। তবে, এরপরও ইনজুরিতে পড়ছেন তিনি।

শাহিন আফ্রিদি কিংবা প্যাট কামিন্স, তারা জিনগতভাবেই অনেক শক্তিশালী। কিন্তু, ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষদের ক্ষেত্রে, আমরা প্রকৃতগতভাবেই এতোটা ফিট নই, আমাদেরকে ফিট থাকার জন্য আরো বেশি অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসব প্রথম সারির বোলারদের থেকেও ওয়ার্কলোড বেশি পড়েছে তাসকিন আহমেদের উপর যার কারণে, বারবার ইনজুরিতে পড়ছেন তাসকিন-আহমেদ।

বর্তমানে, তাসকিন আহমেদ ছাড়াও বাংলাদেশ দলে শরিফুল ইসলাম , ইবাদত হোসেন এবং খালেদ আহমেদের মতো অনেক পেস বোলার রয়েছেন। এছাড়াও, এ ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্যই মোস্তাফিজুর রহমান টেস্ট খেলতে চান না।

আরও পড়ুন:

মন্তব্য করুন